পায়ের যত্নে সঠিক পেডিকিউর
jugantor
সাজঘর
পায়ের যত্নে সঠিক পেডিকিউর

  ফারিন সুমাইয়া  

১৮ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পায়ের যত্নে সঠিক পেডিকিউর

মাঘের শীতল বাতাসই বলে দিচ্ছে আর কয়েকদিন বাকি শীত শেষ হতে। আর শীতকাল মানেই একরাশ রুক্ষতার ছোঁয়া। শুষ্ক ত্বক ফেটে চৌচির আর লাবণ্যতা লুকিয়ে পরে শীতের আষ্টেপিষ্ঠে। তাই ত্বকের এখন থেকেই প্রয়োজন যত্নআত্তি। শরীরের অন্যান্য অঙ্গ যেমন হাত, মুখ কিংবা ঠোঁটের মতো পায়ের ক্ষেত্রেও সমানভাবে দেখা দেয় পা ফাটা, মরা চামড়া উঠে যাওয়া, র‌্যাশ হওয়া কিংবা কালচে দাগ। তাই শীতের এ সময়ে পায়ের যত্ন আবশ্যক। এ ছাড়া আমাদের সারা শরীরের ভার বহন করে চলা এ পায়েরও চাই বিশ্রাম। আর এ বিষয়ে কিভাবে ঘরে বসেই নিতে পারবেন পায়ের সঠিক যত্ন তাই জানিয়েছেন আকাঙ্ক্ষাস গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার ও অ্যারোমা থেরাপিস্ট জুলিয়া আজাদ।

এ সময়টিতে পায়ের ক্ষেত্রেও চাই সঠিক যত্নআত্তি। অনেকেই মনে করেন পায়ের যত্ন মানেই তো পেডিকিউর। আর পেডিকিউর মানেই পার্লারে যাওয়ার যক্কি ঝামেলা। তবে আপনি খুব সহজেই ঘরে বসে হাতের কাছের অল্প উপকরণ দিয়েই করে ফেলতে পারেন পেডিকিউর। অন্যদিকে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো পায়ের ত্বকেও রুক্ষতার দেখা মিলে এ ঋতুতে। মূলত ত্বক ড্রাই হয়ে যাওয়ার কারণেই এমন সমস্যা হয়ে থাকে। তাই কোনোভাবেই ত্বক ড্রাই হতে দেওয়া যাবে না। এ ছাড়া পায়ের ত্বকে ময়লা-ধুলাও বেশি জমে শীতে, তাই পায়ের যত্নে চাই সঠিক পেডিকিউর। এ ক্ষেত্রে প্রথমত দুটি বড় বল নিতে হবে। একটিতে নিতে হবে উষ্ণ গরম পানি আরেটিতে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি। উষ্ণ গরম পানিতে নিতে হবে এক চামচ লবণ, কয়েকফোঁটা ক্যাস্টার ওয়েল কিংবা নারিকেল তেল, কয়েকফোঁটা লেবুর রস কিংবা ভিনেগার আর কয়েকফোঁটা শ্যাম্পু। তৈরি করা এ পানিতে পা ডুবিয়ে দশ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে পা সম্পূর্ণ ডুবে থাকে। এতে আপনার পায়ের ময়লা যেমন পরিষ্কার হবে তেমনি পায়ের গোড়ালি ব্যথা কিংবা পায়ের পাতার ব্যথাতেও এ মিশ্রটি খুবই উপকারী হয়ে থাকে। এতে আপনার পায়ের ব্লাড সার্কুলেশন বাড়বে সঙ্গে পায়ের ব্যথা থেকে আরাম মিলবে। পানিতে পা থাকা অবস্থাতেই আস্তে আস্তে পায়ে ম্যাসাজ করতে হবে কিংবা এক পা দিয়ে অন্য পা ম্যাসাজ করতে হবে অল্প অল্প করে। এ ক্ষেত্রে আপনি পিউমিস স্টোন কিংবা টুথব্রাশে অল্প পেস্ট নিয়ে এন্টি সার্কেল এবং সার্কেল ভাবে চাইলে ম্যাসাজ করতে পারেন। পরবর্তী ধাপে হালকা গরম পানিতে আবার পা ডুবিয়ে ধুয়ে নিতে হবে এবং ময়লা পানি ফেলে দিয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় থাকা পানি দিয়ে পাঁচ মিনিট পা ম্যাসাজ করে নিতে হবে। এরপর পা মুছে নিয়ে ভ্যাসলিন সারা পায়ে ভালো করে ম্যাসাজ করে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সমপরিমাণ আমন্ড ওয়েলের সঙ্গে সমপরিমাণ ক্যাস্টার ওয়েল মিশিয়েও সারা বছর ব্যবহার করতে পারবেন। এতে আপনার পায়ের ত্বক যেমন মলিনতা হারাবে না তেমনি রুক্ষতা থেকেও থাকবে সুরক্ষিত।

খেয়াল রাখতে হবে যাতে পা পরিষ্কার করার সঙ্গে সঙ্গেই তাতে এ মিশ্রণটি ব্যবহার করা হয়, কারণ পায়ের ত্বক শুষ্ক হয়ে গিয়ে পানিশূন্য হয়ে গেলে তাতে আপনি যাই অ্যাপ্লাই করুন না কেন তা সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। অন্যদিকে পায়ের জন্য তৈরি করা তেল খুব বেশি ব্যবহার করা যাবে না, এক থেকে দুই ফোঁটা নিয়ে আপনি পায়ে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগেও ম্যাসাজ করে নিতে পারেন, সব শেষে পাতলা মোজা পরে নিতে পারেন, এতে পা আরও একটু বেশি সুরক্ষিত থাকবে পাশাপাশি পায়ে অ্যাপ্লাই করা মিশ্রণটিও চাদরে কিংবা কম্বল, লেপে লাগবে না। আর এভাবে খুব সহজে ঘরোয়াভাবেও প্রতি দিন কিংবা সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার পেডিকিউর করে নিতে পারেন। যাতে করে পুরো শীত জুড়েই পা থাকে হিম শীতলতা থেকে সুরক্ষিত।

সাজঘর

পায়ের যত্নে সঠিক পেডিকিউর

 ফারিন সুমাইয়া 
১৮ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
পায়ের যত্নে সঠিক পেডিকিউর
প্রতীকী ছবি

মাঘের শীতল বাতাসই বলে দিচ্ছে আর কয়েকদিন বাকি শীত শেষ হতে। আর শীতকাল মানেই একরাশ রুক্ষতার ছোঁয়া। শুষ্ক ত্বক ফেটে চৌচির আর লাবণ্যতা লুকিয়ে পরে শীতের আষ্টেপিষ্ঠে। তাই ত্বকের এখন থেকেই প্রয়োজন যত্নআত্তি। শরীরের অন্যান্য অঙ্গ যেমন হাত, মুখ কিংবা ঠোঁটের মতো পায়ের ক্ষেত্রেও সমানভাবে দেখা দেয় পা ফাটা, মরা চামড়া উঠে যাওয়া, র‌্যাশ হওয়া কিংবা কালচে দাগ। তাই শীতের এ সময়ে পায়ের যত্ন আবশ্যক। এ ছাড়া আমাদের সারা শরীরের ভার বহন করে চলা এ পায়েরও চাই বিশ্রাম। আর এ বিষয়ে কিভাবে ঘরে বসেই নিতে পারবেন পায়ের সঠিক যত্ন তাই জানিয়েছেন আকাঙ্ক্ষাস গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার ও অ্যারোমা থেরাপিস্ট জুলিয়া আজাদ।

এ সময়টিতে পায়ের ক্ষেত্রেও চাই সঠিক যত্নআত্তি। অনেকেই মনে করেন পায়ের যত্ন মানেই তো পেডিকিউর। আর পেডিকিউর মানেই পার্লারে যাওয়ার যক্কি ঝামেলা। তবে আপনি খুব সহজেই ঘরে বসে হাতের কাছের অল্প উপকরণ দিয়েই করে ফেলতে পারেন পেডিকিউর। অন্যদিকে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো পায়ের ত্বকেও রুক্ষতার দেখা মিলে এ ঋতুতে। মূলত ত্বক ড্রাই হয়ে যাওয়ার কারণেই এমন সমস্যা হয়ে থাকে। তাই কোনোভাবেই ত্বক ড্রাই হতে দেওয়া যাবে না। এ ছাড়া পায়ের ত্বকে ময়লা-ধুলাও বেশি জমে শীতে, তাই পায়ের যত্নে চাই সঠিক পেডিকিউর। এ ক্ষেত্রে প্রথমত দুটি বড় বল নিতে হবে। একটিতে নিতে হবে উষ্ণ গরম পানি আরেটিতে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি। উষ্ণ গরম পানিতে নিতে হবে এক চামচ লবণ, কয়েকফোঁটা ক্যাস্টার ওয়েল কিংবা নারিকেল তেল, কয়েকফোঁটা লেবুর রস কিংবা ভিনেগার আর কয়েকফোঁটা শ্যাম্পু। তৈরি করা এ পানিতে পা ডুবিয়ে দশ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে পা সম্পূর্ণ ডুবে থাকে। এতে আপনার পায়ের ময়লা যেমন পরিষ্কার হবে তেমনি পায়ের গোড়ালি ব্যথা কিংবা পায়ের পাতার ব্যথাতেও এ মিশ্রটি খুবই উপকারী হয়ে থাকে। এতে আপনার পায়ের ব্লাড সার্কুলেশন বাড়বে সঙ্গে পায়ের ব্যথা থেকে আরাম মিলবে। পানিতে পা থাকা অবস্থাতেই আস্তে আস্তে পায়ে ম্যাসাজ করতে হবে কিংবা এক পা দিয়ে অন্য পা ম্যাসাজ করতে হবে অল্প অল্প করে। এ ক্ষেত্রে আপনি পিউমিস স্টোন কিংবা টুথব্রাশে অল্প পেস্ট নিয়ে এন্টি সার্কেল এবং সার্কেল ভাবে চাইলে ম্যাসাজ করতে পারেন। পরবর্তী ধাপে হালকা গরম পানিতে আবার পা ডুবিয়ে ধুয়ে নিতে হবে এবং ময়লা পানি ফেলে দিয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় থাকা পানি দিয়ে পাঁচ মিনিট পা ম্যাসাজ করে নিতে হবে। এরপর পা মুছে নিয়ে ভ্যাসলিন সারা পায়ে ভালো করে ম্যাসাজ করে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সমপরিমাণ আমন্ড ওয়েলের সঙ্গে সমপরিমাণ ক্যাস্টার ওয়েল মিশিয়েও সারা বছর ব্যবহার করতে পারবেন। এতে আপনার পায়ের ত্বক যেমন মলিনতা হারাবে না তেমনি রুক্ষতা থেকেও থাকবে সুরক্ষিত।

খেয়াল রাখতে হবে যাতে পা পরিষ্কার করার সঙ্গে সঙ্গেই তাতে এ মিশ্রণটি ব্যবহার করা হয়, কারণ পায়ের ত্বক শুষ্ক হয়ে গিয়ে পানিশূন্য হয়ে গেলে তাতে আপনি যাই অ্যাপ্লাই করুন না কেন তা সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। অন্যদিকে পায়ের জন্য তৈরি করা তেল খুব বেশি ব্যবহার করা যাবে না, এক থেকে দুই ফোঁটা নিয়ে আপনি পায়ে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগেও ম্যাসাজ করে নিতে পারেন, সব শেষে পাতলা মোজা পরে নিতে পারেন, এতে পা আরও একটু বেশি সুরক্ষিত থাকবে পাশাপাশি পায়ে অ্যাপ্লাই করা মিশ্রণটিও চাদরে কিংবা কম্বল, লেপে লাগবে না। আর এভাবে খুব সহজে ঘরোয়াভাবেও প্রতি দিন কিংবা সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার পেডিকিউর করে নিতে পারেন। যাতে করে পুরো শীত জুড়েই পা থাকে হিম শীতলতা থেকে সুরক্ষিত।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন