পোষা প্রাণীর যত্ন-আত্তি
jugantor
পোষা প্রাণীর যত্ন-আত্তি

  ফারিন সুমাইয়া  

২৫ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পোষা প্রাণীর সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্ব অনেক পুরোনো। আপনার একাকিত্বের এ সঙ্গী একটু একটু করে আপনার জীবনের বিশাল একটি অংশ হয়ে যায় সময়ের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে কাটানো অনেক মুহূর্ত তাই আমরা বন্দি করতে চাই স্মৃতির পাতায়। পোষা প্রাণীর খুনসুটি আপনাকে যেমন আনন্দ দেয় তেমনি বিষণ্নতা থেকেও রাখে অনেক দূরে। তাই পরম এ বন্ধুটির চাই কিছুটা যত্ন আর সুরক্ষা।

ইট-পাথরের এ ব্যস্ত শহরে পোষ্য মানেই বিড়াল, কুকুর, পাখি কিংবা কবুতরের দেখা মিলে অন্দরমহলে। মানুষের সঙ্গে এরা যেমন খুব সহজেই মিশে যেতে পারে তেমনি অবলা এ বোবা প্রাণীগুলো তাদের সবটুকুই মানে তার আশপাশের চারদেয়ালকে। মানুষ যেমন এক জায়গায় থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে ওঠে তেমনটি ঘটে তাদের সঙ্গেও। তাই তাদের ঘরে বন্দি করে না রেখে প্রায়শই বাইরে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। এতে তাদের যেমন ভালো লাগবে তেমনি আশপাশের এড়িয়া চেনা-জানার ফলে কখনো হারিয়ে গেলেও নিজেরাই বাসা খুঁজে ফিরে আসতে পারবে। অন্যদিকে বিড়ালের ক্ষেত্রে বাসা অবশ্যই ক্যাট প্রুফ করে নিয়ে তার পরেই আপনার এ পোষ্যকে নতুন ঘরে স্বাগত জানাতে হবে। বিড়ালের খাবারের ক্ষেত্রেও সমানভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। ছোট বিড়াল ছানাদের ক্ষেত্রে খাবারের রুটিন ভিন্ন রকম এবং বড় বিড়াল ছানাদের ক্ষেত্রেও আলাদা রুটিন চার্ট করে নিতে হবে। সঠিকভাবে প্রোটিন পাচ্ছে কি তার জন্য ভেটেনারি চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে পারেন। এ ছাড়া খেয়াল রাখুন ধারাল কোনো কিছু যাতে কাছাকাছি না থাকে, রাখতে হলেও কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে আলাদা স্থানে গুছিয়ে রাখুন। অন্যদিকে বিড়াল কিংবা কুকুর শীতের এ সময়ে নানা ধরনের রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হয়ে থাকে। তাই বয়স অনুযায়ী ভ্যাক্সিনেশন করিয়ে নিন। খাবারের ক্ষেত্রে অনেকেই প্যাকেটজাত কিংবা ক্যানে রাখা খাবারেই অভ্যস্ত করিয়ে ফেলেন কুকুর বিড়ালকে। তবে আপনার হাতে যদি পর্যাপ্ত সময় থাকে তবে আপনি নিজেই তৈরি করে ফেলুন ক্যাট ফুড কিংবা প্যাকেটজাত খাবার। এতে আরও বেশি পরিমাণ প্রোটিন পাবে আপনার পোষা প্রাণীটি।

অনেক ক্ষেত্রে বাইরে থেকে অ্যাডোপশনে আসা কুকুর কিংবা বিড়ালের শরীরে ছোট পোকা হয়ে থাকে। এতে করে আপনার অন্যান্য পোষ্য সদস্যরাও সংক্রমিত হতে পারে। তাই শরীরে এমন পোকা থাকলে ভ্যাটকে দেখিয়ে নিয়ে ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন। কুকুর কিংবা বিড়ালের নখ বড় হলে তাদের নখ ছোট করে কেটে দিন। বিড়াল কিংবা কুকুরের প্রজাতির ওপর নির্ভর করে গড়ন কিংবা লোম হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে যাদের লোম বড় তাদের লোম আঁচড়ে দিন চিরুনি দিয়ে। আর পোষ্য প্রাণীর এ টুকিটাকি জিনিসগুলো আপনি খুব সহজেই অনলাইনে পেয়ে যাবেন। অন্যদিকে সামনেই শীতের মৌসুম চলে এসেছে। তাই নজর রাখতে হবে অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি বেশি। দুই থেকে তিন দিন পরে বিড়াল কিংবা কুকুরকে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করিয়ে নিন। বাজারে কুকুর কিংবা বিড়ালের জন্য আলাদা শ্যাম্পু পাওয়া যায়। তা আপনি অনায়াসে ব্যবহার করতে পারবেন। এ ছাড়া এসব দোকানে গলা এবং বুকের অংশ জুড়ে থাকা বেল্ট পেয়ে যাবেন হরেক রঙের। অন্যদিকে যারা পাখি পুষতে ভালোবাসেন তারা খাঁচা যতটা সম্ভব পরিষ্কার রাখুন। খাবার পানি এবং প্রতিদিন খাবার পালটে দিন যাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে খাঁচার চারপাশ। আর এসব খাবারের ছোট ছোট কৌটা এবং বাটি আপনারা খুব সহজেই অনলাইন শপে পেয়ে যাবেন।

আর এ খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর দিকে লক্ষ্য রাখলেই আপনার পোষ্য থাকবে সব সময় সুস্থ আর প্রাণোচ্ছল। এ ছাড়া আপনিও থাকতে পারবেন নিশ্চিন্ত আপনার সব চেয়ে কাছের বন্ধুটিকে নিয়ে।

পোষা প্রাণীর যত্ন-আত্তি

 ফারিন সুমাইয়া 
২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পোষা প্রাণীর সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্ব অনেক পুরোনো। আপনার একাকিত্বের এ সঙ্গী একটু একটু করে আপনার জীবনের বিশাল একটি অংশ হয়ে যায় সময়ের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে কাটানো অনেক মুহূর্ত তাই আমরা বন্দি করতে চাই স্মৃতির পাতায়। পোষা প্রাণীর খুনসুটি আপনাকে যেমন আনন্দ দেয় তেমনি বিষণ্নতা থেকেও রাখে অনেক দূরে। তাই পরম এ বন্ধুটির চাই কিছুটা যত্ন আর সুরক্ষা।

ইট-পাথরের এ ব্যস্ত শহরে পোষ্য মানেই বিড়াল, কুকুর, পাখি কিংবা কবুতরের দেখা মিলে অন্দরমহলে। মানুষের সঙ্গে এরা যেমন খুব সহজেই মিশে যেতে পারে তেমনি অবলা এ বোবা প্রাণীগুলো তাদের সবটুকুই মানে তার আশপাশের চারদেয়ালকে। মানুষ যেমন এক জায়গায় থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে ওঠে তেমনটি ঘটে তাদের সঙ্গেও। তাই তাদের ঘরে বন্দি করে না রেখে প্রায়শই বাইরে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। এতে তাদের যেমন ভালো লাগবে তেমনি আশপাশের এড়িয়া চেনা-জানার ফলে কখনো হারিয়ে গেলেও নিজেরাই বাসা খুঁজে ফিরে আসতে পারবে। অন্যদিকে বিড়ালের ক্ষেত্রে বাসা অবশ্যই ক্যাট প্রুফ করে নিয়ে তার পরেই আপনার এ পোষ্যকে নতুন ঘরে স্বাগত জানাতে হবে। বিড়ালের খাবারের ক্ষেত্রেও সমানভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। ছোট বিড়াল ছানাদের ক্ষেত্রে খাবারের রুটিন ভিন্ন রকম এবং বড় বিড়াল ছানাদের ক্ষেত্রেও আলাদা রুটিন চার্ট করে নিতে হবে। সঠিকভাবে প্রোটিন পাচ্ছে কি তার জন্য ভেটেনারি চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে পারেন। এ ছাড়া খেয়াল রাখুন ধারাল কোনো কিছু যাতে কাছাকাছি না থাকে, রাখতে হলেও কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে আলাদা স্থানে গুছিয়ে রাখুন। অন্যদিকে বিড়াল কিংবা কুকুর শীতের এ সময়ে নানা ধরনের রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হয়ে থাকে। তাই বয়স অনুযায়ী ভ্যাক্সিনেশন করিয়ে নিন। খাবারের ক্ষেত্রে অনেকেই প্যাকেটজাত কিংবা ক্যানে রাখা খাবারেই অভ্যস্ত করিয়ে ফেলেন কুকুর বিড়ালকে। তবে আপনার হাতে যদি পর্যাপ্ত সময় থাকে তবে আপনি নিজেই তৈরি করে ফেলুন ক্যাট ফুড কিংবা প্যাকেটজাত খাবার। এতে আরও বেশি পরিমাণ প্রোটিন পাবে আপনার পোষা প্রাণীটি।

অনেক ক্ষেত্রে বাইরে থেকে অ্যাডোপশনে আসা কুকুর কিংবা বিড়ালের শরীরে ছোট পোকা হয়ে থাকে। এতে করে আপনার অন্যান্য পোষ্য সদস্যরাও সংক্রমিত হতে পারে। তাই শরীরে এমন পোকা থাকলে ভ্যাটকে দেখিয়ে নিয়ে ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন। কুকুর কিংবা বিড়ালের নখ বড় হলে তাদের নখ ছোট করে কেটে দিন। বিড়াল কিংবা কুকুরের প্রজাতির ওপর নির্ভর করে গড়ন কিংবা লোম হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে যাদের লোম বড় তাদের লোম আঁচড়ে দিন চিরুনি দিয়ে। আর পোষ্য প্রাণীর এ টুকিটাকি জিনিসগুলো আপনি খুব সহজেই অনলাইনে পেয়ে যাবেন। অন্যদিকে সামনেই শীতের মৌসুম চলে এসেছে। তাই নজর রাখতে হবে অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি বেশি। দুই থেকে তিন দিন পরে বিড়াল কিংবা কুকুরকে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করিয়ে নিন। বাজারে কুকুর কিংবা বিড়ালের জন্য আলাদা শ্যাম্পু পাওয়া যায়। তা আপনি অনায়াসে ব্যবহার করতে পারবেন। এ ছাড়া এসব দোকানে গলা এবং বুকের অংশ জুড়ে থাকা বেল্ট পেয়ে যাবেন হরেক রঙের। অন্যদিকে যারা পাখি পুষতে ভালোবাসেন তারা খাঁচা যতটা সম্ভব পরিষ্কার রাখুন। খাবার পানি এবং প্রতিদিন খাবার পালটে দিন যাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে খাঁচার চারপাশ। আর এসব খাবারের ছোট ছোট কৌটা এবং বাটি আপনারা খুব সহজেই অনলাইন শপে পেয়ে যাবেন।

আর এ খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর দিকে লক্ষ্য রাখলেই আপনার পোষ্য থাকবে সব সময় সুস্থ আর প্রাণোচ্ছল। এ ছাড়া আপনিও থাকতে পারবেন নিশ্চিন্ত আপনার সব চেয়ে কাছের বন্ধুটিকে নিয়ে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন