ঈদে নতুন পোশাক

  হাবীবাহ্ নাসরীন ২২ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাম্য আর শান্তির বার্তা নিয়ে আবারও দুয়ারে এসেছে ঈদ। ঈদ মানেই আনন্দ। সারা বছরের সংকীর্ণ তাকে ভুলে গিয়ে উদার মনে সবাইকে ভালোবাসার প্রতিজ্ঞা। মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসবের দিন এটি। এক মাস সিয়াম সাধনার পরে ঘরে ঘরে আনন্দের জোয়ার। মজার সব খাবার, ইচ্ছামতো ঘোরাঘুরি আর নতুন পোশাকের ঘ্রাণ। এই নতুন পোশাক ছাড়া ঈদের আনন্দ পানসে হয়ে যায়। তাইতো গরিব ধনী সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী সবচেয়ে সুন্দর পোশাকটি কিনে আনেন। প্রতিবারের ঈদ মানেই ফ্যাশনে কিছু পরিবর্তন, নতুন কিছু যোগ। প্রতি বছরই আমূল বদলে যায় না। তবে কিছু না কিছু নতুন তো যোগ হয়ই। হয়তো কাটিংয়ে কিছু পরিবর্তন আসে, আবার কিছু পরিবর্তন আসে নকশায়।

তরুণীদের ফিউশনধর্মী কাপড় বেশি পছন্দ। কম বয়সী মেয়েরা সিঙ্গেল কামিজ, পালাজ্জো, ন্যারো শেপ সিগারেট প্যান্ট বা লেঙ্গিস বা স্কার্ট পরছে লেয়ারিং করে। সালোয়ার-কামিজ না পরে অনেকে ধুতি-সালোয়ার, ট্রাউজারের সঙ্গে বেছে নিচ্ছে বিভিন্ন ধরনের টপ। গতানুগতিক সালোয়ার-কামিজের বাইরে তাই অনেকেই পড়ছেন প্যাটার্ন ভিন্নতার পোশাক। ফেব্রিক ভেরিয়েশনের পাশাপাশি এতে থাকছে প্রাচীন ভারতীয় ও মরোক্কান ঐতিহ্যের ছোঁয়া। কামিজের ঘের হচ্ছে নানা রকম। দেশি ধাঁচের পোশাকগুলোই হয়তো ঈদের প্রথম দিন বেশি পরা হয়। ফ্যাশনে এখন কাপড়ের বৈচিত্র্য বা আরামদায়ক কি না এবং কাটিংটা কতটা ট্রেন্ডি সেটিও বিবেচ্য। নতুন কাপড়ের মধ্যে রয়েছে সিক্যুয়েন্স, ডিজিটাল, জুমার, লামলাম কটন, লেদার প্রিন্টসহ নানা ধরনের কাপড়। এর মধ্যে সিক্যুয়েন্স কাপড় বেশ গর্জিয়াস। ইন্ডিয়ান কটন রয়েছে কয়েক ধরনের। ইন্ডিয়ান কটনগুলোর পাড়ে চওড়া অ্যাম্ব্রয়ডারি ও হাতের কাজ করা। ভেলভেট কাপড়ে জর্জেটের ওপর নকশা করা হয়েছে ভেলভেট দিয়ে। কটনের মধ্যে রয়েছে চোখ ধাঁধানো নানা ডিজাইন। নতুন আসা লেদার প্রিন্ট খুব আরামদায়ক। নেট কাপড়ের ওপর লেদারের ফুলের মতো বসানো কাপড় জুড়ে। এছাড়া বোম্বে টিস্যু, কটন নেট, লেস চিকেন, ইন্ডিয়ান নেট, ক্রস নেটসহ নানা ধরনের কাপড় বেছে নিতে পারেন আপনার ঈদের পোশাকটির জন্য। রাতে লাল, কালো, নীল, মেজেন্টা, কমলা এবং দিনে গোলাপি, বেগুনি, আকাশি, অ্যাশ রঙের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। সালোয়ারের ক্ষেত্রে মূলত নরমাল ডিজাইনই প্রাধান্য পেয়েছে। সঙ্গে থাকছে ম্যাচিং ওড়না। সালোয়ার-কামিজ ছাড়াও ঈদ কালেকশনে থাকছে বিভিন্ন ডিজাইনের ফতুয়া, টপস, শাড়ি ইত্যাদি। মেয়েদের পোশাকে বৈচিত্র্য এসেছে কাটিংয়ে। লং কাটের একটি কামিজ যেকোনো নারীকে সহজেই করে তোলে অনন্য। কামিজের ঝুল নিয়ে করা হয়েছে নানা এক্সপেরিমেন্ট। এভাবে নানা ডিজাইনে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে ঈদ কালেকশনে। আমাদের দেশে গাউন এখন বেশ ফ্যাশন ইন। ঈদ উৎসবে জমকালো ভাব আনতে গাউনের ওপর নির্ভর করাই যায়। আর তাইতো বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস নিয়ে এসেছে সুতির গাউন থেকে শুরু করে জমাকালো কাজ করা গাউন। কাটা ছাটে আছে ভিন্নতা। তরুণীরাও বেছে নিচ্ছেন তাদের পছন্দমতো গাউন।

ছেলেদের ঈদের পোশাক মানেই পাঞ্জাবি। ফ্যাশন হাউসগুলোও সেকথা মাথায় রেখে নিয়ে এসেছেন নানা রঙের পাঞ্জাবি। নকশা হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে ফুলের মোটিফ, জ্যামিতিক মোটিফের নানা ধরন। ফুলের বাইরে পাতা, ময়ূর, শাখা-প্রশাখা জাতীয় শৈলী এবারের ঈদ ট্রেন্ডে ঢুকেছে। পাঞ্জাবি যেন হয়ে উঠেছে ডিজাইনারের রং করা ক্যানভাস। ফ্যাশন হাউসগুলোর পাঞ্জাবির সংগ্রহে থাকছে নতুন নকশা, নতুন রং। কাটিংয়েও এসেছে পরিবর্তন, বাজার দখল করে আছে শর্ট আর সেমি লং পাঞ্জাবি। সঙ্গে শর্ট কাটের ফতুয়াও বেশ ট্রেন্ডি এখন। চেক নয়, ছাপা নকশার শার্টই এবার ঈদ ফ্যাশনে বেশি চলছে। বৈচিত্র্যময় ছাপা নকশার শার্টের চাহিদা বেশি। ঈদ ফ্যাশন কেমন হবে তা অনেকটা নির্ভর করে ঋতু আর ট্রেন্ডের ওপর। আবহাওয়ার কারণে উৎসবে এখন গুরুত্ব পাচ্ছে ক্যাজুয়াল শার্ট। বর্ষাকালে ঈদ বলে নীল রঙের অনেক পোশাক বাজারে। নানা ধরনের ওয়াশ করে ফেড করা শার্টও ঈদের বাজারে ভালো চলছে। পাশাপাশি গরম আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই তরুণরা এবারও পোলো টি শার্টগুলোকে পছন্দের তালিকায় রেখেছে।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.