চায়ের অনেক গুণ
jugantor
চায়ের অনেক গুণ

  চয়ন বিকাশ ভদ্র  

১৭ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কবীর সুমন-এর একটা জনপ্রিয় গানের দুটো কলি হচ্ছে-

‘এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই,

ডাইনে ও বায়ে আমি তোমাকে চাই ’

ক্লান্ত দেহে যখন অলসতা এসে বাসা বাঁধে তখনই এ আলস্য দূর করতে চাই এক কাপ চা। ইংরেজিতে চা-এর প্রতিশব্দ হলো টি (tea). গ্রিকদেবী থিয়ার নামানুসারে এরূপ নামকরণ করা হয়েছিল। তাই চা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ছিল Thea sinensis, এখন হয়েছে Camellia sinensis, চীনে টি-এর উচ্চারণ ছিল চি। পরে হয়ে যায় চা।

আড্ডায়, বাড়িতে অতিথি আপ্যায়নে চা ছাড়া চলে না। অনেকের আবার সকালে ঘুম থেকে উঠার পর চা না পেলে দিনটাই হয়ে যায় বৃথা। বিশ্বের মানুষ প্রতিদিন ৩৭০ কোটি কাপ চা পান করেন।

এর পুষ্টিগুণ কম হলেও এতে রয়েছে নানা উপকারী উপাদান। চায়ে আছে পলিফেনলস, ফ্ল্যাভোনয়েডস ও ক্যাটেচিন। পলিফেনলস এবং ক্যাটেচিন ফ্রি রেডিক্যালস তৈরিতে বাধা দেয় এবং কোষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে থামায়। সে জন্য চা ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চায়ে পলিফেনলসের পরিমাণ ২৫ শতাংশের চেয়েও বেশি। এটা দেহের অভ্যন্তরে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

চায়ের উপাদানগুলোর মধ্যে ৭ শতাংশ আছে থিওফাইলিন ও থিওব্রোমিন। শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির জন্য এগুলো অনেক উপকারী। চা এন্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হলেও এতে রয়েছে ক্যাফেইন নামক উত্তেজক পদার্থ। সাধারণত এক কাপ চায়ে রয়েছে প্রায় ৩০-৪০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন। ক্যাফেইনের কারণেই ঘুম কম হওয়া, হজমে ব্যাঘাত ঘটা ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তবে এ ক্যাফেইনের কিছু ভালো দিকও রয়েছে। এটি হৃৎপিণ্ড ও দেহের অন্যান্য পেশি সতেজ রাখতে সহায়তা করে। চায়ে আছে এপিগ্যালোক্যাটেচিন-গ্যালেট (ইজিসিজি) নামের এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, যা খুব কার্যকর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ভিটামিন সি-এর চেয়ে ১০০ গুণ বেশি ফলদায়ক। এটা কোষের ডিএনএকে এমনভাবে সুরক্ষা দেয়, যেন ক্যানসারের প্রভাবে এর রূপান্তর না ঘটে। এ ছাড়া চা রক্তে কলস্টেরলের মাত্রা কমায়। ডায়াবেটিসের জন্যও উপকারী চা। এর লিকার দাঁতের ক্ষয় রোধ ও মাড়ি শক্ত করে। নিয়মিত চা পানে রক্ত চলাচল ভালো হয়, পেট পরিষ্কার করে আর মস্তিষ্ককে রাখে সচল। বিভিন্ন ধরনের চায়ের মাধ্যমে লাল চা ও গ্রিন টি খুবই উপকারী। লাল চায়ের মধ্যে থাকা ট্যানিন ফ্লু, ঠান্ডা, ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রমণ ও অন্ত্রের প্রদাহ থেকে প্রতিরোধ করে দেহকে সুরক্ষা রাখে। এর মধ্যে থাকা ট্যানিন ফ্লু, ঠান্ডা, ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রমণ থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়। এর মধ্যে থাকা ট্যানিন হজম প্রক্রিয়াকে সাহায্য করে। এটি অন্ত্রের সমস্যা এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে। লাল চা অন্ত্রের প্রদাহ প্রতিরোধেও কাজ করে। লাল চা খাওয়া কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। নিয়মিত লাল চা খেলে হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মুখের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান দাঁতের ক্ষয় তৈরিকারী ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে। লাল চায়ের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রেক্টাল, জরায়ুর ক্যানসার, ফুসফুস ও ব্লাডার ক্যানসার প্রতিরোধ করে।

ফিগার ঠিক রাখতে অনেকেই গ্রিন টি-এর প্রতি বেশি ঝুঁকছেন। জাপানের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে দুই কাপের বেশি গ্রিন টি পান করেন তারা মানসিকভাবে অনেক বেশি ফিট। সবুজ চায়ে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ই, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ছাড়াও বিভিন্ন খনিজ উপাদান যা প্রতিটি মানুষের শরীরেই প্রয়োজন।

তবে এটা মনে রাখতে হবে যে, অতিরিক্ত চা পান করলে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হতে পারে। যেমন-অবসাদ আসতে পারে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।

সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ

ময়মনসিংহ

চায়ের অনেক গুণ

 চয়ন বিকাশ ভদ্র 
১৭ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কবীর সুমন-এর একটা জনপ্রিয় গানের দুটো কলি হচ্ছে-

‘এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই,

ডাইনে ও বায়ে আমি তোমাকে চাই ’

ক্লান্ত দেহে যখন অলসতা এসে বাসা বাঁধে তখনই এ আলস্য দূর করতে চাই এক কাপ চা। ইংরেজিতে চা-এর প্রতিশব্দ হলো টি (tea). গ্রিকদেবী থিয়ার নামানুসারে এরূপ নামকরণ করা হয়েছিল। তাই চা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ছিল Thea sinensis, এখন হয়েছে Camellia sinensis, চীনে টি-এর উচ্চারণ ছিল চি। পরে হয়ে যায় চা।

আড্ডায়, বাড়িতে অতিথি আপ্যায়নে চা ছাড়া চলে না। অনেকের আবার সকালে ঘুম থেকে উঠার পর চা না পেলে দিনটাই হয়ে যায় বৃথা। বিশ্বের মানুষ প্রতিদিন ৩৭০ কোটি কাপ চা পান করেন।

এর পুষ্টিগুণ কম হলেও এতে রয়েছে নানা উপকারী উপাদান। চায়ে আছে পলিফেনলস, ফ্ল্যাভোনয়েডস ও ক্যাটেচিন। পলিফেনলস এবং ক্যাটেচিন ফ্রি রেডিক্যালস তৈরিতে বাধা দেয় এবং কোষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে থামায়। সে জন্য চা ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চায়ে পলিফেনলসের পরিমাণ ২৫ শতাংশের চেয়েও বেশি। এটা দেহের অভ্যন্তরে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

চায়ের উপাদানগুলোর মধ্যে ৭ শতাংশ আছে থিওফাইলিন ও থিওব্রোমিন। শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির জন্য এগুলো অনেক উপকারী। চা এন্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হলেও এতে রয়েছে ক্যাফেইন নামক উত্তেজক পদার্থ। সাধারণত এক কাপ চায়ে রয়েছে প্রায় ৩০-৪০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন। ক্যাফেইনের কারণেই ঘুম কম হওয়া, হজমে ব্যাঘাত ঘটা ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তবে এ ক্যাফেইনের কিছু ভালো দিকও রয়েছে। এটি হৃৎপিণ্ড ও দেহের অন্যান্য পেশি সতেজ রাখতে সহায়তা করে। চায়ে আছে এপিগ্যালোক্যাটেচিন-গ্যালেট (ইজিসিজি) নামের এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, যা খুব কার্যকর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ভিটামিন সি-এর চেয়ে ১০০ গুণ বেশি ফলদায়ক। এটা কোষের ডিএনএকে এমনভাবে সুরক্ষা দেয়, যেন ক্যানসারের প্রভাবে এর রূপান্তর না ঘটে। এ ছাড়া চা রক্তে কলস্টেরলের মাত্রা কমায়। ডায়াবেটিসের জন্যও উপকারী চা। এর লিকার দাঁতের ক্ষয় রোধ ও মাড়ি শক্ত করে। নিয়মিত চা পানে রক্ত চলাচল ভালো হয়, পেট পরিষ্কার করে আর মস্তিষ্ককে রাখে সচল। বিভিন্ন ধরনের চায়ের মাধ্যমে লাল চা ও গ্রিন টি খুবই উপকারী। লাল চায়ের মধ্যে থাকা ট্যানিন ফ্লু, ঠান্ডা, ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রমণ ও অন্ত্রের প্রদাহ থেকে প্রতিরোধ করে দেহকে সুরক্ষা রাখে। এর মধ্যে থাকা ট্যানিন ফ্লু, ঠান্ডা, ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রমণ থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়। এর মধ্যে থাকা ট্যানিন হজম প্রক্রিয়াকে সাহায্য করে। এটি অন্ত্রের সমস্যা এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে। লাল চা অন্ত্রের প্রদাহ প্রতিরোধেও কাজ করে। লাল চা খাওয়া কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। নিয়মিত লাল চা খেলে হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মুখের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান দাঁতের ক্ষয় তৈরিকারী ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে। লাল চায়ের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রেক্টাল, জরায়ুর ক্যানসার, ফুসফুস ও ব্লাডার ক্যানসার প্রতিরোধ করে।

ফিগার ঠিক রাখতে অনেকেই গ্রিন টি-এর প্রতি বেশি ঝুঁকছেন। জাপানের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে দুই কাপের বেশি গ্রিন টি পান করেন তারা মানসিকভাবে অনেক বেশি ফিট। সবুজ চায়ে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ই, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ছাড়াও বিভিন্ন খনিজ উপাদান যা প্রতিটি মানুষের শরীরেই প্রয়োজন।

তবে এটা মনে রাখতে হবে যে, অতিরিক্ত চা পান করলে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হতে পারে। যেমন-অবসাদ আসতে পারে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।

সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ

ময়মনসিংহ

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন