মালনীছড়া চা বাগান
jugantor
ভ্রমণ
মালনীছড়া চা বাগান

  সানন্দা গুপ্ত  

১৭ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চারপাশে সবুজের সমারোহ। নীল আকাশের নিচে যেন সবুজ গালিচা পেতে আছে সজীব প্রকৃতি। উঁচু-নিচু টিলা এবং টিলাঘেরা সমতলে সবুজের চাষাবাদ। শুধু সবুজ আর সবুজ। মাঝে মাঝে টিলাবেষ্টিত ছোট ছোট জনপদ। পাহাড়ের কিনার ঘেঁষে ছুটে গেছে আঁকাবাঁকা মেঠোপথ। কোনো যান্ত্রিক দূষণ নেই। কোথাও আবার ধাবমান পথে ছুটে চলছে রুপালি ঝরনাধারা। প্রকৃতির সব সৌন্দর্যের সম্মিলন যেন এখানে। এমন অন্তহীন সৌন্দর্যে একাকার হয়ে আছে সিলেটের চা বাগান, মালনীছড়া। অনেক দিনের পরিকল্পনার শেষে আজ পা দিলাম মালনীছড়া চা বাগানের পথে।

ভ্রমণসঙ্গী হিসাবে সঙ্গে আছে সানন্দা, সপ্তক, অনিক। গাড়ি থেকে নেমে পদব্রজে এগিয়ে যেতে লাগলাম। মূল সড়কের পাশেই বড় করে লেখা MALNICHERRA-1854। এগিয়ে চললাম বাগান পানে। ঢেউ খেলানো সবুজের চোখ আটকে দেওয়া ছবি বুঝি একটাই পৃথিবীতে। পদব্রজে আমরা চলছি এগিয়ে। বর্ষার শুরু তাই মেঘকন্যার আগমনে সবুজ চায়ের বাগান। দূর মেঘালয় থেকে হিম বাতাস বয়ে নিয়ে আসে অতিথি মেঘকন্যাকে। তার পর চা বাগানের আকাশ সাজে শুভ্র মেঘমালায়। এক সময় মেঘকন্যা বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে কচি চা পাতার ওপর। বৃষ্টির পরশে চায়ের পাতা তার রং বদলায়। বর্ষায় দুটি পাতা একটি কুঁড়ি তোলার উপযুক্ত সময়। মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চা-এর মৌসুম। জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি এ দুমাসে চা প্যাকিং করা হয় না। কারণ শীতকালে অতিরিক্ত ঠান্ডায় চা পাতার কুঁড়ি বৃদ্ধি পায় না। চা গাছের সব পাতায় কিন্তু চা হয় না। শুধু দুটি পাতা এবং একটি কুঁড়ি হলো চা-এর মূল উৎস। দুটি পাতা থেকে আসে লিকার এবং কুঁড়ি থেকে আসে ফ্লেবার। আমরা টিলা বেয়ে এগিয়ে চলছি চা বাগান মানেই দিগন্ত প্রসারী সবুজের মাঝে ছায়া বৃক্ষের মিলনমেলা। নির্ভীক যাত্রী আপনি, অপলক তাকিয়ে থাকবেন চা বাগানের পাশ দিয়ে বয়ে চলা স্বচ্ছ ছড়ার পানে। ছোট ছোট টিলায় ভুটান ফুলে মায়াময় রূপ আমাদের নিয়ে গেল অনাবিল আনন্দে। চলতি পথে ছড়ার জলে স্পর্শ মনকে আরও নাড়া দিয়ে গেল। রাবার বাগানের গভীর অরণ্যে উপলব্ধি করতে পারলাম আলো ছায়ায় মায়াময় লুকোচুরি খেলা। হারাধনের কাছে জানতে চাইলাম এ বাগানের ইতিহাস, তিনি বললেন এটি উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন চা বাগান। মালনীছড়া চা বাগান বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের বৃহত্তম এবং প্রথম প্রতিষ্ঠিত চা বাগান। ১৮৪৯ সালে লর্ড হার্ডসন ১৫০০ একর জায়গার ওপর এটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৬৫০ সালে চীনে প্রথম চা উৎপাদন শুরু হয়। দেশটির বুদ্ধিজীবীদের প্রতিদিনকার জীবনের ৭টি কাজের একটি ছিল চা পান।

ভ্রমণ

মালনীছড়া চা বাগান

 সানন্দা গুপ্ত 
১৭ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চারপাশে সবুজের সমারোহ। নীল আকাশের নিচে যেন সবুজ গালিচা পেতে আছে সজীব প্রকৃতি। উঁচু-নিচু টিলা এবং টিলাঘেরা সমতলে সবুজের চাষাবাদ। শুধু সবুজ আর সবুজ। মাঝে মাঝে টিলাবেষ্টিত ছোট ছোট জনপদ। পাহাড়ের কিনার ঘেঁষে ছুটে গেছে আঁকাবাঁকা মেঠোপথ। কোনো যান্ত্রিক দূষণ নেই। কোথাও আবার ধাবমান পথে ছুটে চলছে রুপালি ঝরনাধারা। প্রকৃতির সব সৌন্দর্যের সম্মিলন যেন এখানে। এমন অন্তহীন সৌন্দর্যে একাকার হয়ে আছে সিলেটের চা বাগান, মালনীছড়া। অনেক দিনের পরিকল্পনার শেষে আজ পা দিলাম মালনীছড়া চা বাগানের পথে।

ভ্রমণসঙ্গী হিসাবে সঙ্গে আছে সানন্দা, সপ্তক, অনিক। গাড়ি থেকে নেমে পদব্রজে এগিয়ে যেতে লাগলাম। মূল সড়কের পাশেই বড় করে লেখা MALNICHERRA-1854। এগিয়ে চললাম বাগান পানে। ঢেউ খেলানো সবুজের চোখ আটকে দেওয়া ছবি বুঝি একটাই পৃথিবীতে। পদব্রজে আমরা চলছি এগিয়ে। বর্ষার শুরু তাই মেঘকন্যার আগমনে সবুজ চায়ের বাগান। দূর মেঘালয় থেকে হিম বাতাস বয়ে নিয়ে আসে অতিথি মেঘকন্যাকে। তার পর চা বাগানের আকাশ সাজে শুভ্র মেঘমালায়। এক সময় মেঘকন্যা বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে কচি চা পাতার ওপর। বৃষ্টির পরশে চায়ের পাতা তার রং বদলায়। বর্ষায় দুটি পাতা একটি কুঁড়ি তোলার উপযুক্ত সময়। মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চা-এর মৌসুম। জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি এ দুমাসে চা প্যাকিং করা হয় না। কারণ শীতকালে অতিরিক্ত ঠান্ডায় চা পাতার কুঁড়ি বৃদ্ধি পায় না। চা গাছের সব পাতায় কিন্তু চা হয় না। শুধু দুটি পাতা এবং একটি কুঁড়ি হলো চা-এর মূল উৎস। দুটি পাতা থেকে আসে লিকার এবং কুঁড়ি থেকে আসে ফ্লেবার। আমরা টিলা বেয়ে এগিয়ে চলছি চা বাগান মানেই দিগন্ত প্রসারী সবুজের মাঝে ছায়া বৃক্ষের মিলনমেলা। নির্ভীক যাত্রী আপনি, অপলক তাকিয়ে থাকবেন চা বাগানের পাশ দিয়ে বয়ে চলা স্বচ্ছ ছড়ার পানে। ছোট ছোট টিলায় ভুটান ফুলে মায়াময় রূপ আমাদের নিয়ে গেল অনাবিল আনন্দে। চলতি পথে ছড়ার জলে স্পর্শ মনকে আরও নাড়া দিয়ে গেল। রাবার বাগানের গভীর অরণ্যে উপলব্ধি করতে পারলাম আলো ছায়ায় মায়াময় লুকোচুরি খেলা। হারাধনের কাছে জানতে চাইলাম এ বাগানের ইতিহাস, তিনি বললেন এটি উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন চা বাগান। মালনীছড়া চা বাগান বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের বৃহত্তম এবং প্রথম প্রতিষ্ঠিত চা বাগান। ১৮৪৯ সালে লর্ড হার্ডসন ১৫০০ একর জায়গার ওপর এটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৬৫০ সালে চীনে প্রথম চা উৎপাদন শুরু হয়। দেশটির বুদ্ধিজীবীদের প্রতিদিনকার জীবনের ৭টি কাজের একটি ছিল চা পান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন