বন্যা ও বন্যা-পরবর্তী সতর্কতা
jugantor
বন্যা ও বন্যা-পরবর্তী সতর্কতা

  গাজী মুনছুর আজিজ  

২১ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমানে দেশের সিলেট অঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে সেখানকার মানুষের জীবন-যাপন বিপর্যয়ের মুখে আছে। মানুষের পাশাপাশি পশুপাখির অবস্থাও আশঙ্কাজনক। আর বন্যার পানির সঙ্গে সঙ্গে নানা রকম রোগ-বালাইও দেখা দেয়। মূলত বন্যার সময় ময়লা-আবর্জনা, মানুষ ও পশুপাখির মলমূত্র ও পয়নিষ্কাশনব্যবস্থা একাকার হয়ে যায় এবং এসব উৎস থেকে জীবাণু ছড়ায়। ফলে পানি ও কীটপতঙ্গবাহিত নানারকম রোগ ছড়ায়।

সতর্কতা : ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। লবণ ও পানির অভাব পূরণ করাই এর একমাত্র চিকিৎসা। শরীর থেকে যে পরিমাণ পানি বেরিয়ে যায়, তা যদি দ্রুত ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হয়, মানুষ তখনই অসুস্থ হয়ে পড়েন ও শরীরে লবণ পানির ঘাটতি দেখা দিলে মৃত্যু হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। সময়মতো লবণ পানি শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া গেলে মৃত্যুভয় থাকে না। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীকে খাওয়ার স্যালাইন, ভাতের মাড় বা অন্য বিশুদ্ধ পানীয় পান করালে শরীরে লবণ পানির ঘাটতি কমবে।

যেভাবে পানি বিশুদ্ধ করবেন : টিউবওয়েলের বিশুদ্ধ পানি পাওয়া না গেলে বিভিন্ন জলাশয়ের পানি পান ও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে জলাশয়ের পানি পান ও খাওয়ার কাজে ব্যবহার করতে চাইলে ফুটিয়ে পান করতে হবে।

বন্যার সময় চর্ম রোগ : বন্যার পানি গোসল বা গায়ে লাগানো থেকে বিরত থাকুন। কেননা এ পানি বিভিন্ন জীবাণুর ধারক ও বাহক। তাই এ পানির সংস্পর্শে বিভিন্ন চর্ম রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। সব সময় পানির সংস্পর্শে থাকার জন্য হাতে-পায়ে স্যাঁতসেঁতে ও ভেজা আবহাওয়ার কারণে ত্বক বা ত্বকের খোসপাঁচড়া, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, প্যারনাইকিয়া, স্ক্যাবিস জাতীয় নানা ধরনের ত্বকের অসুখ হয়ে থাকে।

বন্যায় ডুবে গেলে যা করতে হবে : যেসব টিউবওয়েল বন্যায় ডুবে গেছে, সেগুলোর পানি ডিসইনফেকশন না করে পান করবেন না। নিজেরাই করতে পারেন এ কাজ। ১০০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডারের সঙ্গে দেড় থেকে দুই লিটার পরিমাণ পানি একটি জগ বা পাত্রে ভালো করে মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। এরপর টিউবওয়েলের মূল অংশটি পাইপ থেকে খুলে পাইপের মধ্যে সেই মিশ্রণটি ঢেলে দিন। এরপর ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। টিউবওয়েলের মূল অংশটি লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট, প্রয়োজনে আরও বেশি সময় ধরে হাতল চাপতে থাকুন।

বন্যার সময় বিশেষ সতর্কতা : জামা-কাপড় ভিজে গেলে দ্রুত পালটে ফেলতে হবে। কারণ ভেজা কাপড় পরে থাকলে ছত্রাক সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দেয়। প্রয়োজনে দিনে দুইবার গোসল করতে পারেন। জীবাণুনাশক সাবান ব্যবহার করতে পারেন। ঘামে বা বৃষ্টিতে বা বন্যার পানিতে ভিজলে ত্বক ধুয়ে শুকিয়ে নিন। রাস্তায় বা বাড়ির আশপাশে এখন যত্রতত্র নোংরা পানি জমে আছে। পায়ের ত্বককে এ নোংরা পানি থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। কেননা এ পানিতে রয়েছে নানারকম জীবাণু। বাড়িতে কারও ছত্রাক সংক্রমণ হয়ে থাকলে, শিশুদের তার কাছ থেকে দূরে রাখুন।

বন্যা-পরবর্তী সতকর্তা : বন্যা-পরবর্তী সময়ে মানুষ (দুই বছরের নিচের শিশু ব্যতীত) ও গবাদিপশুকে কৃমিনাশক খাওয়াতে হবে। এছাড়া বন্যার সময় যেসব রোগ-বালাই হয়, তার সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে। পানি নেমে গেলে বাড়িঘর সব জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। একই সঙ্গে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

বন্যা ও বন্যা-পরবর্তী সতর্কতা

 গাজী মুনছুর আজিজ 
২১ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমানে দেশের সিলেট অঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে সেখানকার মানুষের জীবন-যাপন বিপর্যয়ের মুখে আছে। মানুষের পাশাপাশি পশুপাখির অবস্থাও আশঙ্কাজনক। আর বন্যার পানির সঙ্গে সঙ্গে নানা রকম রোগ-বালাইও দেখা দেয়। মূলত বন্যার সময় ময়লা-আবর্জনা, মানুষ ও পশুপাখির মলমূত্র ও পয়নিষ্কাশনব্যবস্থা একাকার হয়ে যায় এবং এসব উৎস থেকে জীবাণু ছড়ায়। ফলে পানি ও কীটপতঙ্গবাহিত নানারকম রোগ ছড়ায়।

সতর্কতা : ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। লবণ ও পানির অভাব পূরণ করাই এর একমাত্র চিকিৎসা। শরীর থেকে যে পরিমাণ পানি বেরিয়ে যায়, তা যদি দ্রুত ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হয়, মানুষ তখনই অসুস্থ হয়ে পড়েন ও শরীরে লবণ পানির ঘাটতি দেখা দিলে মৃত্যু হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। সময়মতো লবণ পানি শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া গেলে মৃত্যুভয় থাকে না। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীকে খাওয়ার স্যালাইন, ভাতের মাড় বা অন্য বিশুদ্ধ পানীয় পান করালে শরীরে লবণ পানির ঘাটতি কমবে।

যেভাবে পানি বিশুদ্ধ করবেন : টিউবওয়েলের বিশুদ্ধ পানি পাওয়া না গেলে বিভিন্ন জলাশয়ের পানি পান ও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে জলাশয়ের পানি পান ও খাওয়ার কাজে ব্যবহার করতে চাইলে ফুটিয়ে পান করতে হবে।

বন্যার সময় চর্ম রোগ : বন্যার পানি গোসল বা গায়ে লাগানো থেকে বিরত থাকুন। কেননা এ পানি বিভিন্ন জীবাণুর ধারক ও বাহক। তাই এ পানির সংস্পর্শে বিভিন্ন চর্ম রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। সব সময় পানির সংস্পর্শে থাকার জন্য হাতে-পায়ে স্যাঁতসেঁতে ও ভেজা আবহাওয়ার কারণে ত্বক বা ত্বকের খোসপাঁচড়া, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, প্যারনাইকিয়া, স্ক্যাবিস জাতীয় নানা ধরনের ত্বকের অসুখ হয়ে থাকে।

বন্যায় ডুবে গেলে যা করতে হবে : যেসব টিউবওয়েল বন্যায় ডুবে গেছে, সেগুলোর পানি ডিসইনফেকশন না করে পান করবেন না। নিজেরাই করতে পারেন এ কাজ। ১০০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডারের সঙ্গে দেড় থেকে দুই লিটার পরিমাণ পানি একটি জগ বা পাত্রে ভালো করে মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। এরপর টিউবওয়েলের মূল অংশটি পাইপ থেকে খুলে পাইপের মধ্যে সেই মিশ্রণটি ঢেলে দিন। এরপর ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। টিউবওয়েলের মূল অংশটি লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট, প্রয়োজনে আরও বেশি সময় ধরে হাতল চাপতে থাকুন।

বন্যার সময় বিশেষ সতর্কতা : জামা-কাপড় ভিজে গেলে দ্রুত পালটে ফেলতে হবে। কারণ ভেজা কাপড় পরে থাকলে ছত্রাক সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দেয়। প্রয়োজনে দিনে দুইবার গোসল করতে পারেন। জীবাণুনাশক সাবান ব্যবহার করতে পারেন। ঘামে বা বৃষ্টিতে বা বন্যার পানিতে ভিজলে ত্বক ধুয়ে শুকিয়ে নিন। রাস্তায় বা বাড়ির আশপাশে এখন যত্রতত্র নোংরা পানি জমে আছে। পায়ের ত্বককে এ নোংরা পানি থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। কেননা এ পানিতে রয়েছে নানারকম জীবাণু। বাড়িতে কারও ছত্রাক সংক্রমণ হয়ে থাকলে, শিশুদের তার কাছ থেকে দূরে রাখুন।

বন্যা-পরবর্তী সতকর্তা : বন্যা-পরবর্তী সময়ে মানুষ (দুই বছরের নিচের শিশু ব্যতীত) ও গবাদিপশুকে কৃমিনাশক খাওয়াতে হবে। এছাড়া বন্যার সময় যেসব রোগ-বালাই হয়, তার সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে। পানি নেমে গেলে বাড়িঘর সব জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। একই সঙ্গে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন