মৌসুমি ফল কালোজাম
jugantor
মৌসুমি ফল কালোজাম

  হাসান মাহমুদ রিপন  

২১ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফলের মৌসুম এখন। যাকে মধুমাস বলে। ফলের দোকানগুলোতে দেশি ফলের সমারোহ। এ মধুমাসে আম-জাম ও কাঁঠালের মিষ্টি রসে যেন প্রাণ জুড়িয়ে যায়। মৌসুমি অনেক ফলের ভিড়ে এক ফলের নাম কালোজাম। এ জন্যই কবি বলেছেন, ‘পাকা জামে মধুর রসে রঙিন করি মুখ’। পরম উপকারী এ কালোজাম ফলটি সব শ্রেণির মানুষের কাছে সমাদৃত। রসালো ও মিষ্টি স্বাদের এ ফলটি শক্তির আধার বলে পরিচিত। ফলের দোকানে রসালো আঙুরের দিকে চোখ গেলেও, কালোজামে খুব একটা চোখ যায় না কারও। তবে এ ফলের খাদ্যগুণ কিন্তু অনেক দামি ফলকেও হার মানায়। জুন, জুলাই ও আগস্ট এই তিন মাস চুটিয়ে খেতে পারবেন কালোজাম। আমাদের দেশে সব ফলের মধ্যে অন্যতম হলো কালোজাম। অন্য মৌসুমি ফলের তুলনায় জামের স্থায়ীকাল কম হলেও এটি পুষ্টিগুণে অতুলনীয়।

কালোজাম গ্রীষ্মকালীন ফল। গাছটির উদ্ভব দক্ষিণ এশিয়া, সিলন, আন্দামান ও ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জে। বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলংকা ও ইন্দোনেশিয়া এ ফল ব্যাপকভাবে চাষ হয়। বাংলাদেশে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, গাজীপুর, সিলেট, দিনাজপুর ও টাঙ্গাইল জেলায় কালোজাম বেশি উৎপন্ন হয়।

জাম নানা দেশে নানা নামে পরিচিত। যেমন-জাম্বুল, জাম্বু, জাম্বুলা, জাভা প্লাম, জামুন, কালোজাম, জামব্লাং, জাম্বোলান, কালো প্লাম, ড্যামসন প্লাম, ডুহাট প্লাম, জাম্বোলান প্লাম, পর্তুগিজ প্লাম ইত্যাদি। তেলেগু ভাষায় একে বলা হয় নেরেদু পান্ডু, মালায়ালাম ভাষায় নাভাল পাজহাম, তামিল ভাষায় নাভা পাজহাম, কানাডিয়ান ভাষায় নেরালে হান্নু ও ফিলিপাইনে একে বলা হয় ডুহাট।

বাংলাদেশে কালোজামের কোনো অনুমোদিত জাত নেই। ফলের আকার অনুযায়ী দুই জাতের জাম পাওয়া যায়। একটি খুদি জাত খুব ছোট এবং মহিষে জাত বেশ বড় ও মিষ্টি। গ্রীষ্মকালে আমের মতো আরেকটি জনপ্রিয় ফল হলো এ কালোজাম। কালচে বেগুনি রঙের এ ফলটি খেতেও যেমন সুস্বাদু, তেমনই পুষ্টিগুণে ভরা। ছোটদেরও এ ফল বেশ পছন্দের। জাম স্বাদে কোনটি মিষ্টি আবার কোনটি টক মিষ্টি।

এবার আসা যাক জামের কিছু পুষ্টিগুণের কথা। কালোজামে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফ্লকটোজ।

১০০ গ্রাম কালোজামে পুষ্টিগত মান যেমন শক্তি ৬০ কিলোক্যালরি, শর্করা ১৫.৫৬ গ্রাম, স্নেহ পদার্থ ০.২৩ গ্রাম, প্রোটিন ০.৭২ গ্রাম, ভিটামিন এ ৩.০ আন্তর্জাতিক একক, থায়ামিন বি১ ০.০০৬ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লাভিন বি২ ০.০১২ মিলিগ্রাম, ন্যায়েসেন বি৪ ০.২৬০ মিলিগ্রাম, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড বি ৫ ০.১৬০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৬ ০.০৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ১৪.৩ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৯ মিলিগ্রাম, লোহা ০.১৯ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৫ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৭৯ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ১৪ মিলিগ্রাম ও পানি ৮৩.১৩ গ্রাম।

এ ছাড়া কালোজামে রয়েছে ফাইটো কেমিক্যালস আর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি দেয়। প্রতিরোধ করে ইনফেকশনের মতো সমস্যাও। কালোজামে পাওয়া যায় অ্যালার্জিক নামে এক ধরনের এসিডের উপস্থিতি যা ত্বককে করে শক্তিশালী। ক্ষতিকর আলট্রা-ভায়োলেট রশ্মির প্রভাব থেকে ত্বক ও চুলকে রক্ষা করে।

মৌসুমি ফল কালোজাম

 হাসান মাহমুদ রিপন 
২১ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফলের মৌসুম এখন। যাকে মধুমাস বলে। ফলের দোকানগুলোতে দেশি ফলের সমারোহ। এ মধুমাসে আম-জাম ও কাঁঠালের মিষ্টি রসে যেন প্রাণ জুড়িয়ে যায়। মৌসুমি অনেক ফলের ভিড়ে এক ফলের নাম কালোজাম। এ জন্যই কবি বলেছেন, ‘পাকা জামে মধুর রসে রঙিন করি মুখ’। পরম উপকারী এ কালোজাম ফলটি সব শ্রেণির মানুষের কাছে সমাদৃত। রসালো ও মিষ্টি স্বাদের এ ফলটি শক্তির আধার বলে পরিচিত। ফলের দোকানে রসালো আঙুরের দিকে চোখ গেলেও, কালোজামে খুব একটা চোখ যায় না কারও। তবে এ ফলের খাদ্যগুণ কিন্তু অনেক দামি ফলকেও হার মানায়। জুন, জুলাই ও আগস্ট এই তিন মাস চুটিয়ে খেতে পারবেন কালোজাম। আমাদের দেশে সব ফলের মধ্যে অন্যতম হলো কালোজাম। অন্য মৌসুমি ফলের তুলনায় জামের স্থায়ীকাল কম হলেও এটি পুষ্টিগুণে অতুলনীয়।

কালোজাম গ্রীষ্মকালীন ফল। গাছটির উদ্ভব দক্ষিণ এশিয়া, সিলন, আন্দামান ও ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জে। বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলংকা ও ইন্দোনেশিয়া এ ফল ব্যাপকভাবে চাষ হয়। বাংলাদেশে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, গাজীপুর, সিলেট, দিনাজপুর ও টাঙ্গাইল জেলায় কালোজাম বেশি উৎপন্ন হয়।

জাম নানা দেশে নানা নামে পরিচিত। যেমন-জাম্বুল, জাম্বু, জাম্বুলা, জাভা প্লাম, জামুন, কালোজাম, জামব্লাং, জাম্বোলান, কালো প্লাম, ড্যামসন প্লাম, ডুহাট প্লাম, জাম্বোলান প্লাম, পর্তুগিজ প্লাম ইত্যাদি। তেলেগু ভাষায় একে বলা হয় নেরেদু পান্ডু, মালায়ালাম ভাষায় নাভাল পাজহাম, তামিল ভাষায় নাভা পাজহাম, কানাডিয়ান ভাষায় নেরালে হান্নু ও ফিলিপাইনে একে বলা হয় ডুহাট।

বাংলাদেশে কালোজামের কোনো অনুমোদিত জাত নেই। ফলের আকার অনুযায়ী দুই জাতের জাম পাওয়া যায়। একটি খুদি জাত খুব ছোট এবং মহিষে জাত বেশ বড় ও মিষ্টি। গ্রীষ্মকালে আমের মতো আরেকটি জনপ্রিয় ফল হলো এ কালোজাম। কালচে বেগুনি রঙের এ ফলটি খেতেও যেমন সুস্বাদু, তেমনই পুষ্টিগুণে ভরা। ছোটদেরও এ ফল বেশ পছন্দের। জাম স্বাদে কোনটি মিষ্টি আবার কোনটি টক মিষ্টি।

এবার আসা যাক জামের কিছু পুষ্টিগুণের কথা। কালোজামে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফ্লকটোজ।

১০০ গ্রাম কালোজামে পুষ্টিগত মান যেমন শক্তি ৬০ কিলোক্যালরি, শর্করা ১৫.৫৬ গ্রাম, স্নেহ পদার্থ ০.২৩ গ্রাম, প্রোটিন ০.৭২ গ্রাম, ভিটামিন এ ৩.০ আন্তর্জাতিক একক, থায়ামিন বি১ ০.০০৬ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লাভিন বি২ ০.০১২ মিলিগ্রাম, ন্যায়েসেন বি৪ ০.২৬০ মিলিগ্রাম, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড বি ৫ ০.১৬০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৬ ০.০৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ১৪.৩ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৯ মিলিগ্রাম, লোহা ০.১৯ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৫ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৭৯ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ১৪ মিলিগ্রাম ও পানি ৮৩.১৩ গ্রাম।

এ ছাড়া কালোজামে রয়েছে ফাইটো কেমিক্যালস আর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি দেয়। প্রতিরোধ করে ইনফেকশনের মতো সমস্যাও। কালোজামে পাওয়া যায় অ্যালার্জিক নামে এক ধরনের এসিডের উপস্থিতি যা ত্বককে করে শক্তিশালী। ক্ষতিকর আলট্রা-ভায়োলেট রশ্মির প্রভাব থেকে ত্বক ও চুলকে রক্ষা করে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন