যত্ন ও খাবার-দাবার
jugantor
কুরবানির পশু
যত্ন ও খাবার-দাবার

  ঘরেবাইরে ডেস্ক  

২৮ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুরবানির ঈদের দুই-একদিন আগে অনেকেই কুরবানির গরু কিনে রাখেন। যাদের আগে থেকেই গরু-ছাগল লালন-পালন করার অভ্যাস আছে তাদের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না হলেও যারা ঈদের জন্যই প্রথম গরু-ছাগল ক্রয় করেন তাদের ক্ষেত্রে নতুন পশুকে সামাল দিতে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। গ্রামের তুলনায় শহরের বাসিন্দাদের এ ঝামেলা আরও বেশি। যারা অন্তত একদিন আগে গরু-ছাগল কেনেন তাদেরও কুরবানির পশুর খাবার-দাবার, যত্নআত্তি নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। তবে এ সমস্যাগুলো মোকাবিলা করে কুরবানির পশুর খাবার এবং যত্নের প্রতি আলাদা নজর দিতে হবে। তা না হলে পশুটি দুর্বল হয়ে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়তে পারে। যার ফলে রোগাক্রান্ত পশু কুরবানি করতে ঝামেলায় পড়তে হতে পারে।

কুরবানির পশুর যত্ন ও খাবার-দাবার সম্পর্কে নিচে প্রয়োজনীয় কিছু টিপস দেওয়া হলো-

কুরবানির পশুর যত্ন

পশুকে খোলা আকাশের নিচে রাখা যাবে না। কেননা খোলা আকাশের নিচে রাখলে অনেক্ষণ বৃষ্টিতে ভিজলে পশুর ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। অথবা শীতের দিনে ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণেও পশুটির ঠান্ডা লাগতে পারে। পশুর যাতে ঠান্ডা না লাগে সে বিষয়ে লক্ষ রাখতে হবে এবং আলো-বাতাসহীন অতিরিক্ত গরম স্থানেও পশু রাখা যাবে না। অর্থাৎ যেখানে ঠান্ডা ও গরম সহনীয় মাত্রায় রয়েছে পশু এমন স্থানেই রাখতে হবে। গ্যারেজ বা ছাউনি দেওয়া কোনো জায়গায় পশু রাখার ব্যবস্থা করা উচিত। পশু যে জায়গায় রাখা হবে সে জায়গা যেন ভিজে বা স্যাঁতসেঁতে না হয় সে বিষয়টি নজরে রাখতে হবে। শীতের সময় ঠান্ডা বাতাস যাতে না লাগে সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। পশু অবশ্যই শুকনো জায়গায় রাখতে হবে। শীতের সময়ে পানি বা ভাতের মাড় একটু গরম করে দেওয়া উচিত। পশু রাখার স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। পশু থাকার জায়গায় খড় বা চট বিছিয়ে দিতে হবে। পশু যেন কোনোভাবে ছুটে বেরিয়ে যেতে না পারে সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। যদি প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়ে তবে ছালা, চট গায়ে জড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।

পশুর খাবার

পশু গরু হলে খড় এবং এর পাশাপাশি দানাদার খাদ্য, যেমন গমের ভুসি, কুঁড়া, খেসারি ভাঙা, ছোলা ভাঙা, ভাতের মাড়, ঝোলা গুড়, পরিষ্কার ঘাস খাওয়ানো যেতে পারে। আর ছাগলকে দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন গাছের পাতা যেমন-কাঁঠালপাতা, আমপাতা এবং সম্ভব হলে ঘাস খাওয়ানো যেতে পারে। পশুকে পর্যাপ্ত পানি ও পরিমিত লবণ খাওয়াতে হবে। পশুর প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। যেমন পশু ঝিমুচ্ছে কিনা বা খাবার খেতে না চাইলে অথবা পশুকে যদি অস্বাভাবিক মনে হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে কাছাকাছি কোনো পশু ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শের জন্য কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতাল ঈদের সময় সার্বক্ষণিকভাবে খোলা থাকবে। তা ছাড়া ঢাকা শহরের আরও কিছু পশু হাসপাতালে অফিস সময়ে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং পশু অসুস্থ হলে প্রেসক্রিপশন নেওয়া যেতে পারে।

এড়িয়ে চলা উচিত

যে কোনো পচা-বাসি খাবার, পচা আটা, পচা চালের ভাত, পচা ভুসি, কপির পাতা, পচা পানির ঘাস পশুকে খাওয়ানো যাবে না। কারণ এতে পশু অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। পশুকে বেশি পরিমাণ ভাত খাওয়ানো, পশুকে বিরক্ত করা, দৌড়ানো বা আঘাত করা, জোর করে কোনো খাবার খাওয়ানো প্রভৃতি কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কুরবানির পশু

যত্ন ও খাবার-দাবার

 ঘরেবাইরে ডেস্ক 
২৮ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুরবানির ঈদের দুই-একদিন আগে অনেকেই কুরবানির গরু কিনে রাখেন। যাদের আগে থেকেই গরু-ছাগল লালন-পালন করার অভ্যাস আছে তাদের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না হলেও যারা ঈদের জন্যই প্রথম গরু-ছাগল ক্রয় করেন তাদের ক্ষেত্রে নতুন পশুকে সামাল দিতে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। গ্রামের তুলনায় শহরের বাসিন্দাদের এ ঝামেলা আরও বেশি। যারা অন্তত একদিন আগে গরু-ছাগল কেনেন তাদেরও কুরবানির পশুর খাবার-দাবার, যত্নআত্তি নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। তবে এ সমস্যাগুলো মোকাবিলা করে কুরবানির পশুর খাবার এবং যত্নের প্রতি আলাদা নজর দিতে হবে। তা না হলে পশুটি দুর্বল হয়ে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়তে পারে। যার ফলে রোগাক্রান্ত পশু কুরবানি করতে ঝামেলায় পড়তে হতে পারে।

কুরবানির পশুর যত্ন ও খাবার-দাবার সম্পর্কে নিচে প্রয়োজনীয় কিছু টিপস দেওয়া হলো-

কুরবানির পশুর যত্ন

পশুকে খোলা আকাশের নিচে রাখা যাবে না। কেননা খোলা আকাশের নিচে রাখলে অনেক্ষণ বৃষ্টিতে ভিজলে পশুর ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। অথবা শীতের দিনে ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণেও পশুটির ঠান্ডা লাগতে পারে। পশুর যাতে ঠান্ডা না লাগে সে বিষয়ে লক্ষ রাখতে হবে এবং আলো-বাতাসহীন অতিরিক্ত গরম স্থানেও পশু রাখা যাবে না। অর্থাৎ যেখানে ঠান্ডা ও গরম সহনীয় মাত্রায় রয়েছে পশু এমন স্থানেই রাখতে হবে। গ্যারেজ বা ছাউনি দেওয়া কোনো জায়গায় পশু রাখার ব্যবস্থা করা উচিত। পশু যে জায়গায় রাখা হবে সে জায়গা যেন ভিজে বা স্যাঁতসেঁতে না হয় সে বিষয়টি নজরে রাখতে হবে। শীতের সময় ঠান্ডা বাতাস যাতে না লাগে সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। পশু অবশ্যই শুকনো জায়গায় রাখতে হবে। শীতের সময়ে পানি বা ভাতের মাড় একটু গরম করে দেওয়া উচিত। পশু রাখার স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। পশু থাকার জায়গায় খড় বা চট বিছিয়ে দিতে হবে। পশু যেন কোনোভাবে ছুটে বেরিয়ে যেতে না পারে সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। যদি প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়ে তবে ছালা, চট গায়ে জড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।

পশুর খাবার

পশু গরু হলে খড় এবং এর পাশাপাশি দানাদার খাদ্য, যেমন গমের ভুসি, কুঁড়া, খেসারি ভাঙা, ছোলা ভাঙা, ভাতের মাড়, ঝোলা গুড়, পরিষ্কার ঘাস খাওয়ানো যেতে পারে। আর ছাগলকে দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন গাছের পাতা যেমন-কাঁঠালপাতা, আমপাতা এবং সম্ভব হলে ঘাস খাওয়ানো যেতে পারে। পশুকে পর্যাপ্ত পানি ও পরিমিত লবণ খাওয়াতে হবে। পশুর প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। যেমন পশু ঝিমুচ্ছে কিনা বা খাবার খেতে না চাইলে অথবা পশুকে যদি অস্বাভাবিক মনে হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে কাছাকাছি কোনো পশু ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শের জন্য কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতাল ঈদের সময় সার্বক্ষণিকভাবে খোলা থাকবে। তা ছাড়া ঢাকা শহরের আরও কিছু পশু হাসপাতালে অফিস সময়ে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং পশু অসুস্থ হলে প্রেসক্রিপশন নেওয়া যেতে পারে।

এড়িয়ে চলা উচিত

যে কোনো পচা-বাসি খাবার, পচা আটা, পচা চালের ভাত, পচা ভুসি, কপির পাতা, পচা পানির ঘাস পশুকে খাওয়ানো যাবে না। কারণ এতে পশু অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। পশুকে বেশি পরিমাণ ভাত খাওয়ানো, পশুকে বিরক্ত করা, দৌড়ানো বা আঘাত করা, জোর করে কোনো খাবার খাওয়ানো প্রভৃতি কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন