কার্ড ডালা গাড়ি সাজানো
jugantor
কার্ড ডালা গাড়ি সাজানো

  ঘরেবাইরে ডেস্ক  

০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিয়ে কেবল দুটি মানুষের নতুন বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া না। দুটো পরিবারের মানুষের মাঝেও নতুন বন্ধনের জন্ম নেওয়া। বিয়ে মানেই ঘটা করে উৎসব আয়োজন করা। বিয়ে বাড়িতে থাকে তাই নানা কাজের ব্যস্ততা। বর-কনের কেনাকাটা তো আছেই তার পাশাপাশি বাড়ির অন্য সদস্যদের জন্য কেনাকাটার লম্বা তালিকা থাকে তৈরি। শাড়ি কিংবা শেরওয়ানি থেকে শুরু করে বিয়ের ঘর সাজানো, কনের মেহেদি, সাজের ডালা, হলুদের ডালা সব কিছুতে চাই আগাম প্রস্তুতি আর ভিন্ন সাজের আমেজ। গতানুগতিক ধারার একটু বাইরে গিয়ে সবাই চায় বিয়ের এ স্মৃতি নিজের মনের মতো করে রাঙিয়ে তুলতে। আর বিয়ের প্রস্তুতিপর্ব শুরু করতে হয় একটু আগেভাগেই। এ প্রস্তুতির প্রথমেই থাকে বিয়ের কার্ড। নিমন্ত্রণের এই পত্র যতটা আলাদা চাই ঠিক ততটাই চাই সাদাসিধে। যেহেতু বিয়ের কার্ড তাই লাল রঙের আভা থাকা চাই। এর পাশাপাশি অনেকেই সোনালি কিংবা রুপালি রং যুক্ত করেন। এর বাইরেও নিজের পছন্দ অনুযায়ী রং বেছে নিতে পারেন বর-কনের পক্ষ থেকে। এ বিয়ের কার্ডের ঠিকানা, সময়, বর-কনের নাম তাদের পারিবারিক ছোট করে পরিচয়ের পাশাপাশি থাকে আলাদা করে ছবি। আগে এই প্রচলন না থাকলেও বর্তমানে অনেকেই কার্ডে নিজেদের ছবি দিয়ে ভিন্নতা আনতে পছন্দ করেন। এ ক্ষেত্রে নানা ডিজাইনের মাধ্যমেও ভিন্নতা আনা হয় কার্ডের মাঝে। কোনোটি তিন ভাঁজের, কোনো কার্ড চারকোনায় আলাদা খামে, আবার কোনোটি পালকি কিংবা ডালার মাধ্যমে ফুল, মিষ্টির সঙ্গে পাঠানো হয়। এসব কার্ডেও আলাদা করে থাকে নকশা, বিয়ের পালকি, ময়ূরের পেখম সঙ্গে হরেক রঙের পাথরের। এসব কার্ডের কাগজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আপনি ভিন্নতা আনতে পারেন। জুঁই, বেলি, রজনিগন্ধা, গোলাপ, চন্দন ফুলের সুগন্ধিও কার্ডের মাঝে ব্যবহার করা হয়। খাম থাকলে তাতে রেশমি সুতা আর স্টোনের আলাদা বেণি করা কারুকাজ কিংবা বিয়ের আলপনাবিশিষ্ট নকশার ছাপ থাকে।

কার্ডের পরেই আসে মেহেদির ডালার পালা। বিয়ের আগের অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে হলুদের পর্ব নিয়ে থাকে নানা আয়োজন। হলুদের আয়োজনে হলুদ রঙের শাড়িতে হবু বৌ সাজিয়ে তুলেন নিজেকে। অনেকেই গোলাপি, সবুজ, কমলা সঙ্গে হলুদ রঙের কম্বিনেশনের শাড়ি পরতে পছন্দ করেন। শাড়ির সঙ্গে মিল রেখে বেঁছে নেওয়া হয় গহনা। আর এ ক্ষেত্রে ফুলের তৈরি গহনাতেই বেশি চোখে পড়ে কনেকে। এসব ফুলের মাঝে যেমন আছে তাজা ফুল তেমনি আর্টিফিশিয়াল ফুল দিয়েও সাজিয়ে তোলা হয় বৌকে। বড় গোলাপ আর গাঁদা ফুল সঙ্গে বেলি আর রজনিগন্ধা ফুল সুতার বুননে বুননে পুঁতি, পাথরযুক্ত করেও গহনায় রূপ দেওয়া হয়। আর ডালাতে থাকে মেহেদি, মিষ্টি, পান সুপারি, মাছ, ফল, বর কিংবা কনের বাড়ির লোকেদের জন্য পোশাকসহ স্যান্ডেল, ব্যাগ, পারফিউমসহ আরও অনেক কিছু। এসব ডালা আর কুলাও তাই সাজানো হয় ভিন্ন সাজে। বেতের চিকন বুননে সঙ্গে লেইস জরির ফিতা আর রঙের আলপনা চোখে পড়ে। আরও আছে কাপড়ের কাগজের ফুলসহ রেশমি কাপড়ের ব্যবহার পুরো ডালা আর কুলার মাঝে। সব কিছু সাজিয়ে খুব যত্নে পাঠানো হয় হবু আত্মীয়ের বাড়িতে। ডালাগুলো হালকা সোনালি রঙের প্লাস্টিক কিংবা রেশমি কাপড়ে ঢেকে পাঠানো হয়। বিয়ের আরেক আকর্ষণ হচ্ছে গাড়ি সাজানো। কতটা সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলা যায় তা নিয়েও চিন্তার কমতি থাকে না। বিয়ের গাড়ি সাজাতে তাই ফুল বেছে নেন অনেকেই। গোলাপ ফুল গাড়ির মাঝে মাঝে রেখে চারপাশের গাঁদা ফুল দিয়ে জড়িয়ে নেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে গাড়ির চারপাশের কাপড়ের বা কাগজের ফুল আর সামনের অংশে বড় করে ফুলের ডালা রাখা হয়। এতে গাড়ি দেখতেও যতটা সুন্দর দেখায় তার থেকে আলাদাও লাগে সব সময়ের বিয়ের গাড়ির সাজের থেকে। গাড়ির পাশাপাশি বাসর ঘর সাজাতে কিংবা হলুদের স্টেজ সাজাতে প্রয়োজন পড়ে ফুলের। তাই বিয়ের সময় অর্কিড, বেলি, গাঁদা, রজনিগন্ধা, গ্লাডিওলাসসহ গোলাপ ফুলের প্রয়োজন পড়ে সবচেয়ে বেশি।

কোথায় পাবেন : যমুনা ফিউচার পার্ক, রাজলক্ষ্মী, পিঙ্ক সিটি, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, শাহবাগ চত্বর, এলিফ্যান্ট রোড, ধানমন্ডি, বসুন্ধরা সিটি, কাঁটাবন, বনানী, গুলশান-২, ফার্মগেট খামারবাড়িসহ আপনার আশপাশের ফুলের দোকান কিংবা কার্ডের দোকান পেয়ে যাবেন।

দাম : বিয়ের কার্ডের দাম পড়বে কার্ডপ্রতি ১৫০ থেকে শুরু করে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত। আর হলুদের ডালা পড়বে ৩৫০ থেকে শুরু করে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। আর ফুলের দাম পড়বে গাঁদা ফুলের প্রতি মালা ২৫-৪৫ টাকা করে, রজনিগন্ধা স্টিক পড়বে ১৫-২০ টাকা প্রতি স্টিক, গোলাপ পড়বে ২০-৩৫ টাকা পিস।

কার্ড ডালা গাড়ি সাজানো

 ঘরেবাইরে ডেস্ক 
০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিয়ে কেবল দুটি মানুষের নতুন বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া না। দুটো পরিবারের মানুষের মাঝেও নতুন বন্ধনের জন্ম নেওয়া। বিয়ে মানেই ঘটা করে উৎসব আয়োজন করা। বিয়ে বাড়িতে থাকে তাই নানা কাজের ব্যস্ততা। বর-কনের কেনাকাটা তো আছেই তার পাশাপাশি বাড়ির অন্য সদস্যদের জন্য কেনাকাটার লম্বা তালিকা থাকে তৈরি। শাড়ি কিংবা শেরওয়ানি থেকে শুরু করে বিয়ের ঘর সাজানো, কনের মেহেদি, সাজের ডালা, হলুদের ডালা সব কিছুতে চাই আগাম প্রস্তুতি আর ভিন্ন সাজের আমেজ। গতানুগতিক ধারার একটু বাইরে গিয়ে সবাই চায় বিয়ের এ স্মৃতি নিজের মনের মতো করে রাঙিয়ে তুলতে। আর বিয়ের প্রস্তুতিপর্ব শুরু করতে হয় একটু আগেভাগেই। এ প্রস্তুতির প্রথমেই থাকে বিয়ের কার্ড। নিমন্ত্রণের এই পত্র যতটা আলাদা চাই ঠিক ততটাই চাই সাদাসিধে। যেহেতু বিয়ের কার্ড তাই লাল রঙের আভা থাকা চাই। এর পাশাপাশি অনেকেই সোনালি কিংবা রুপালি রং যুক্ত করেন। এর বাইরেও নিজের পছন্দ অনুযায়ী রং বেছে নিতে পারেন বর-কনের পক্ষ থেকে। এ বিয়ের কার্ডের ঠিকানা, সময়, বর-কনের নাম তাদের পারিবারিক ছোট করে পরিচয়ের পাশাপাশি থাকে আলাদা করে ছবি। আগে এই প্রচলন না থাকলেও বর্তমানে অনেকেই কার্ডে নিজেদের ছবি দিয়ে ভিন্নতা আনতে পছন্দ করেন। এ ক্ষেত্রে নানা ডিজাইনের মাধ্যমেও ভিন্নতা আনা হয় কার্ডের মাঝে। কোনোটি তিন ভাঁজের, কোনো কার্ড চারকোনায় আলাদা খামে, আবার কোনোটি পালকি কিংবা ডালার মাধ্যমে ফুল, মিষ্টির সঙ্গে পাঠানো হয়। এসব কার্ডেও আলাদা করে থাকে নকশা, বিয়ের পালকি, ময়ূরের পেখম সঙ্গে হরেক রঙের পাথরের। এসব কার্ডের কাগজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আপনি ভিন্নতা আনতে পারেন। জুঁই, বেলি, রজনিগন্ধা, গোলাপ, চন্দন ফুলের সুগন্ধিও কার্ডের মাঝে ব্যবহার করা হয়। খাম থাকলে তাতে রেশমি সুতা আর স্টোনের আলাদা বেণি করা কারুকাজ কিংবা বিয়ের আলপনাবিশিষ্ট নকশার ছাপ থাকে।

কার্ডের পরেই আসে মেহেদির ডালার পালা। বিয়ের আগের অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে হলুদের পর্ব নিয়ে থাকে নানা আয়োজন। হলুদের আয়োজনে হলুদ রঙের শাড়িতে হবু বৌ সাজিয়ে তুলেন নিজেকে। অনেকেই গোলাপি, সবুজ, কমলা সঙ্গে হলুদ রঙের কম্বিনেশনের শাড়ি পরতে পছন্দ করেন। শাড়ির সঙ্গে মিল রেখে বেঁছে নেওয়া হয় গহনা। আর এ ক্ষেত্রে ফুলের তৈরি গহনাতেই বেশি চোখে পড়ে কনেকে। এসব ফুলের মাঝে যেমন আছে তাজা ফুল তেমনি আর্টিফিশিয়াল ফুল দিয়েও সাজিয়ে তোলা হয় বৌকে। বড় গোলাপ আর গাঁদা ফুল সঙ্গে বেলি আর রজনিগন্ধা ফুল সুতার বুননে বুননে পুঁতি, পাথরযুক্ত করেও গহনায় রূপ দেওয়া হয়। আর ডালাতে থাকে মেহেদি, মিষ্টি, পান সুপারি, মাছ, ফল, বর কিংবা কনের বাড়ির লোকেদের জন্য পোশাকসহ স্যান্ডেল, ব্যাগ, পারফিউমসহ আরও অনেক কিছু। এসব ডালা আর কুলাও তাই সাজানো হয় ভিন্ন সাজে। বেতের চিকন বুননে সঙ্গে লেইস জরির ফিতা আর রঙের আলপনা চোখে পড়ে। আরও আছে কাপড়ের কাগজের ফুলসহ রেশমি কাপড়ের ব্যবহার পুরো ডালা আর কুলার মাঝে। সব কিছু সাজিয়ে খুব যত্নে পাঠানো হয় হবু আত্মীয়ের বাড়িতে। ডালাগুলো হালকা সোনালি রঙের প্লাস্টিক কিংবা রেশমি কাপড়ে ঢেকে পাঠানো হয়। বিয়ের আরেক আকর্ষণ হচ্ছে গাড়ি সাজানো। কতটা সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলা যায় তা নিয়েও চিন্তার কমতি থাকে না। বিয়ের গাড়ি সাজাতে তাই ফুল বেছে নেন অনেকেই। গোলাপ ফুল গাড়ির মাঝে মাঝে রেখে চারপাশের গাঁদা ফুল দিয়ে জড়িয়ে নেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে গাড়ির চারপাশের কাপড়ের বা কাগজের ফুল আর সামনের অংশে বড় করে ফুলের ডালা রাখা হয়। এতে গাড়ি দেখতেও যতটা সুন্দর দেখায় তার থেকে আলাদাও লাগে সব সময়ের বিয়ের গাড়ির সাজের থেকে। গাড়ির পাশাপাশি বাসর ঘর সাজাতে কিংবা হলুদের স্টেজ সাজাতে প্রয়োজন পড়ে ফুলের। তাই বিয়ের সময় অর্কিড, বেলি, গাঁদা, রজনিগন্ধা, গ্লাডিওলাসসহ গোলাপ ফুলের প্রয়োজন পড়ে সবচেয়ে বেশি।

কোথায় পাবেন : যমুনা ফিউচার পার্ক, রাজলক্ষ্মী, পিঙ্ক সিটি, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, শাহবাগ চত্বর, এলিফ্যান্ট রোড, ধানমন্ডি, বসুন্ধরা সিটি, কাঁটাবন, বনানী, গুলশান-২, ফার্মগেট খামারবাড়িসহ আপনার আশপাশের ফুলের দোকান কিংবা কার্ডের দোকান পেয়ে যাবেন।

দাম : বিয়ের কার্ডের দাম পড়বে কার্ডপ্রতি ১৫০ থেকে শুরু করে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত। আর হলুদের ডালা পড়বে ৩৫০ থেকে শুরু করে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। আর ফুলের দাম পড়বে গাঁদা ফুলের প্রতি মালা ২৫-৪৫ টাকা করে, রজনিগন্ধা স্টিক পড়বে ১৫-২০ টাকা প্রতি স্টিক, গোলাপ পড়বে ২০-৩৫ টাকা পিস।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন