মন পবনের নাও

পরিচয় নাইবা দিলাম

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

প্রিয়,

যদিও প্রিয় বলে ডাকার শক্তি, ইচ্ছা ধৈর্য কোনটাই নেই আমার তবুও প্রিয় সম্বোধন না করে হীনম্মন্যতার পরিচয় নাইবা দিলাম।

মূল কথায় আসি, সুদীর্ঘ অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে গিয়ে তবেই তোমার সঙ্গে নীড় বেঁধে ছিলাম। মাঝে মাঝে খুব মনে পড়ে সেই ছোট্ট নীড়ের ভালোবাসা আর খুনসুটির কথা। কিন্তু কে জানবে যে সেই ভালোবাসাই আমার চিরদিনের মুখের হাসি কেড়ে নেবে।

যখন শুনলাম তোমার জীবনে আমার পাশাপাশি অন্য কেউ আছে, তখন আমার যে কেমন লেগেছিল তা একমাত্র আমি জানি। যা তোমার মতো হৃদয়হীনের বোঝার মতো ক্ষমতা আল্লাহ দেননি।

সেদিন থেকে কাটানো প্রত্যেকটা আলাদা রাত, আলাদা দিন, একাকী সময় কেমন কেটেছে তা আমি জানি। যদি এক মুহূর্ত চোখ বন্ধু করে উপলব্ধি করার চেষ্টা করো অবশ্যই তুমিও বুঝতে পারবে। যদিও সে চেষ্টা করাটা তোমার কাছে অযৌক্তিক।

আজ খুব মনে পড়ছে তোমার পর মুহূর্তে দেয়া প্রত্যেকটা অত্যাচারের দৃশ্য। যেন এক নিমিষেই এক সুদীর্ঘ তালিকা বানিয়ে ফেলতে পারব।

থাক না, সে তালিকা আর নাইবা বানালাম!! আজ তুমি হয়তো তোমার সঙ্গিণীকে নিয়ে বেশ সুখেই আছ। বিশ্বাস করো প্রিয়, আমিও সুখে আছি। হয়তো তোমার মতো অত সুখে না। কিন্তু যেটুকু দরকার তার এক ভাগ হলেও সুখে আছি।

এখন আর আমাকে শুনতে হয় না চলে যা যেখানে খুশি। তোর মুখও দেখতে চাই না। এখন আর কেউ আমার বইও ছুড়ে উঠানে ফেলে দেয় না। বলে না তোর লেখাপড়া করে বড় হওয়ার কোনো দরকার নেই। হয়তো সামনের বছর মাস্টার্সও কমপ্লিট করে ফেলব।

যাই হোক, ভালো আছি ওদের চাওয়া পাওয়া নিয়ে। এখন ওরাই আমার পৃথিবী। তবে প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখে যাচ্ছি আর একটু ভালো থাকার। হয়তো একটা চাকরি হয়ে গেলে তোমার থেকেও সুখে থাকতে পারব। তখন আর মুখ গোমড়া করে সারা দিন ঘরের কোণে থাকতে হবে না। তখন আমার মনেও রং লাগবে ঠিক যেমনটা তোমার লেগেছিল।

তখন তো তোমার সব অত্যাচার মেনে নিয়ে থেকে গিয়েছিলাম এক কোণে নিলর্জ্জের মতো ভালোবাসার টানে। আর সেই মুহূর্তে কিনা করেছি। তোমার হৃদয় গলাতে!! কিন্তু পারিনি হৃদয়হীনার হৃদয় গলাতে। বিশ্বাস করো আর না করো, এখন আর তাতে আমার কিছু যায় আসে না। শুধু এটুকু জানি ভালো আছ খুব ভালো আছ। তোমাকে ভালো থাকার সুখের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছি। মুক্ত করে দিয়েছি তোমাকে, আমি নিজেই সরে গিয়ে।

‘আমিও ভালো আছি। ছোট্ট, মিষ্টি কলিজার টুকরা মেয়ে দুটোকে নিয়ে’।

ইতি

নুরি

চট্টগ্রাম

প্রিয় পাঠক

এ রকম ঘটনা বা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন আপনিও। সেটা যে কোনো ব্যক্তি, নারী অথবা শিশুকে নিয়ে। অথবা এমন কোনো ঘটনা যা আপনার অনুভূতিতে নাড়া দিতে পারে- সেসব নিয়েই ‘মন পবনের নাও’ আমাদের নতুন বিভাগ। এখানে আপনি অকপটে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ শব্দের মধ্যে লিখতে পারেন আপনার মনের সবচেয়ে আবেগঘন ঘটনার বিবরণ এবং সে সম্পর্কে আপনার অনুভূতির কথা। সেগুলো আমরা যত্ন সহকারে পাত্রস্থ করব।

- বি.স.

লেখা পাঠানোর ঠিকানা

বিভাগীয় সম্পাদক

ঘরে বাইরে (মন পবনের নাও)

দৈনিক যুগান্তর

২৪৪-ক প্রগতি সরণি, কুড়িল, বিশ্বরোড, বারিধারা, ঢাকা ১২২৯

ই-মেইল : [email protected]