শরতে ফুলের সাজ

কাশবনের পাশে নীল শাড়ি,বাহারি পাড়,খোঁপায় বেলি ফুলের মালা আর শরতের বাতাসে উড়ু উড়ু শাড়ির আচঁলে নারী হয়ে ওঠে অনন্যা, অপরূপা।

  ফারিন সুমাইয়া ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছয় ঋতুর নজরকাড়া নৈপুণ্য ফুলের মাঝে প্রকাশ পায়। প্রকৃতি যেন নিজেকে ক্যানভাসের মতো সঁপে দেয় ফুলের রঙের কাছে। ঋতুরাজ বসন্ত থেকে শুরু করে গোমড়ামুখী শীতেও ফুলের জয়জয়কার। বৃষ্টিস্নাত দিনে হাতে কদম ফুল কিংবা শরতের আকাশের এক চিলতে রৌদ্র কিরণ-কোথায় নেই তার আনাগোনা। যুগে যুগে নারী ফুল দিয়ে নিজেকে যেমন সাজিয়েছে, তেমনি কলমের কালিতে কবি ও সাহিত্যিকরা ফুলকে নানা রূপে তাদের রচনায় তুলে ধরেছেন। শুধু কবিতায় নয়, গানেও আছে ফুলের প্রাধান্য। তাই তো নজরুল তার গানের সুরে প্রেয়সীকে সাজাতে চেয়েছেন ফুলের সম্ভারে।

‘মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী দেব খোঁপায় তারার ফুল’

আর তাই তো ফুলকে সাজের ডালিতে রাখা হয় বেশি প্রাধান্য দিয়ে। প্রিয়জনের কাছে নিজেকে উপস্থাপনে খোঁপায় গোঁজা এক গুচ্ছ বেলি ফুল তার সৌন্দর্যকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলতে পারে। শরতের শুরুতে রোদ-বৃষ্টির খেলাতে সৌন্দর্যপিপাসুদের সঙ্গী হয় শিউলি, বেলি, দোলনচাঁপা, বকুল, শালুক, পদ্ম, জুঁই, কেয়া, কাশফুল, মাধবী, মল্লিকা, মালতিসহ আরও অনেক ফুল। ভাদ্র-আশ্বিন এ দু’মাস শরৎকাল। আর শরৎকাল মানেই এতসব ফুলের সঙ্গে অপরূপ খুনসুটি। শরতের প্রকৃতি øিগ্ধ, কোমল আর শান্ত।

শরতের ফুলের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফুল হচ্ছে বেলি। দেখতে খুব ছোট হলেও এর মিষ্টি সুবাস যে কাউকে মোহিত করবে। ফাল্গুন থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস অব্দি ফোটে বেলি ফুল। এর যখন কলি আসে তখন একটি ডালে প্রায় চার থেকে পাঁচটি কলি আসে এক সঙ্গে। আর ফোটেও প্রায় একই সময়ে। তাই এর মাতাল করা তীব্র মিষ্টি গন্ধে মাতিয়ে তোলে চারদিক। সাজের ডালিতে তাই একে ছাড়া খোঁপার কারুকাজ একেবারেই যেন অসম্পূর্ণ। ছোট ছোট এ ফুলগুলোকে একত্রিত করে সাদা সুতোর বুননে ছোট ছোট বৃত্তাকার মালায় পরিণত করা হয়। অনেকে ফুল ফোটার আগেই কলি দিয়ে তৈরি মালা লহর আকারে খোঁপায় পড়তে বেশি পছন্দ করেন। কাঁচা বেলির খোঁপা আর শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজে নারীকে অনন্যা করে তোলে।

শরতের ফুলের মেলায় আরেকটি ফুল হচ্ছে শিউলি। ছোট আকারের ধবধবে সাদা আর মাঝে লাল টুকটুকে রং শিউলি ফুল প্রকৃতিপ্রেমীর মনে আলাদাভাবে ঠাঁই করে নিয়েছে। শরতের মিষ্টি হাওয়ায় যখন শিউলি ফুল দোল খেয়ে লুটিয়ে পড়ে মাটিতে তখন একে শিল্পীর আঁকা কোনো দৃশ্যের থেকে কম দেখায় না। শিউলি ফুলের একটি বৈশিষ্ট্য হল এটি সন্ধ্যায় ফোটে আর সকালে ঝরে যায়। তাই একে বিষণ্ণ ফুলও বলা হয়। তবে নামে বিষণ্ণ হলেও এটি যে কোনো অনুষ্ঠানে নারীকে সাজিয়ে তোলে অতুলনীয়ভাবে। অনেকে এ ফুলকে বেলি ফুলের মতো খোঁপা থেকে শুরু করে গলার হার, কানের দুল, আংটি আকারে পরে থাকেন। অনেকে বেলি এবং শিউলি ফুলের লোভনীয় ঘ্রাণের কারনে হাতের বালা কিংবা চুড়ি আকারে পরে থাকেন।

শরতের হিমহিম বাতাসের দোলায় দোল খাওয়া আরেকটি ফুলের নাম দোলনচাঁপা। শরতের বিভিন্ন ফুলের মতোই স্নিগ্ধতা আর সাদা রেশমি চাদর গায়ে চেপে আগমন দোলনচাঁপার। এ ফুলগুলো গুচ্ছ আকারে বের হয় এবং ফোটার পর এদের দেখতে বেশ ভালো লাগে। জন্মসূত্রে শরতের আরেকটি উত্তরাধিকারী হচ্ছে জবা ফুল। রক্তরঙ্গা লাল টকটকে এ ফুলটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। গোল ডিম্বাকার লাল রঙের ফুলের পাপড়ির মাঝে লম্বা একটি দণ্ড। আর এর মাথায় ফুলের রেণু, যার বুকে প্রজাপতি থেকে মৌমাছির আনাগোনা লেগেই থাকে। ফুলের এ রাজ্যের আরেক সদস্য হচ্ছে বকুল। শরৎ যেন সব মিষ্টি ঘ্রাণের ফুলকে তার রাজ্যে বন্দি করে রেখেছে।

দেখতে খুব ছোট হলেও তেমনি আরেকটি ফুল হচ্ছে বকুল। যাকে হাতের মুঠোয় পুরে রাখলে তার ঘ্রাণে সারাদিন মোহিত থাকা যায়। যুগে যুগে ভালোবাসার স্মৃতি আর নানা আয়োজনে বকুল ফুলের মালা অনেকটা অংশ জুড়ে আছে। তবে শুধু বকুলের ফুলই বকুলগাছের আকর্ষণের কারণ নয়। এর ঢেউ খেলানো পাতা আর গাছ বরাবরই সবাইকে আকৃষ্ট করে। এর ফুলগুলো খুব ছোট ছোট হওয়ায় একে তারার সঙ্গে সাদৃশ্য করা হয়েছে। এ গাছের কেবল ফুলই বিশেষ নয়। এর ছাল, ফল, বাকল সবকিছুই উপকারী। শরতের সবচেয়ে আকর্ষণ হচ্ছে কাশফুল। স্নিগ্ধ, মোলায়েম আর এর ধবধবে সাদা রঙের কারণে এটি শরতের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে।

কাশফুল ফোটা শরতের আগমন শহরের ইটপাথরের জীবনে বুঝতে পারা যেমন কঠিন, তেমনি প্রকৃতিতে এর সৌন্দর্যের মহিমা উপলব্ধি করাও খুব কষ্টের। শরৎ মানেই আকাশে সাদা মেঘ, গাঢ় নীল আকাশ আর নদীর চরে চরে কাশফুল। তাকে ঘিরে থাকা ফড়িং, মেঘ আর হিমহিম বাতাস শরৎকালকে মহিমাময় করে তোলে। শরতে কাশবনের পাশে সাদা শাড়ি, নীল পাড়, খোঁপায় বেলি ফুলের মালা, হাতে বকুল ফুল আর শরতের বাতাসে উড়ু উড়ু শাড়ির আচঁলে নারী হয়ে ওঠে অনন্যা, অপরূপা।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter