রেস্টুরেন্ট

বারকোড ক্যাফে

শব্দের খেলায় তারুণ্যের আড্ডা

  নাজমুল হক ইমন ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়বে ক্যাফের দেয়ালে নানা ধরনের বাক্য লেখা। ইংরেজি লেখাগুলো একসঙ্গে মেলালে বাণীর মতো লাগবে। আবার আলাদাভাবে পড়লেও ভালো লাগবে। ‘মানুষ যদি তোমাকে জোর করে টেনে নিচে নামাতে চায়, তাহলে তোমার অবস্থান তাদের ওপরে!’ এমন একটি লেখাও চোখে পড়বে বারকোড ক্যাফের দেয়ালে। এরকম আরও অনেক বাণী সাঁটানো! আছে ভালোবাসা নিয়ে নানা কথা, স্বপ্ন নিয়ে, স্বপ্নপূরণ নিয়ে, তারুণ্য আর অনুপ্রেরণা নিয়ে নানা বক্তব্য। ক্যাফের বিভিন্ন দেয়ালে এমন সব চমৎকার বাণী আর বাক্যের পাশাপাশি টাঙানো নানা ধরনের ছবি।

বারকোডের মূল জায়গা বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাজধানী চট্টগ্রাম। তবে সে সীমানা ছাড়িয়ে বারকোড ক্যাফে গত কয়েক বছর ধরে ঢাকাতে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। শুরুতে গুলশান-১ এলাকায় ক্যাফেটি চালু হলেও বর্তমানে সেটি বন্ধ করে বনানীতে নতুন শাখা চালু করা হয়েছে দুইতলা বাসায় দুর্দান্ত ইন্টেরিয়র আর মজার মজার শব্দের খেলায় বারকোড তারুণ্যের একটি আড্ডার জায়গাতে রূপ নিয়েছে।

বিশেষ ধরনের সস, মুরগি, কাজুবাদাম, টমেটো, ক্যাপসিকাম ও মধু দিয়ে তৈরি হানি চিকেন সালাদ। বারকোড ক্যাফের খাবারের এই পদ ভোজনরসিকদের কাছে জনপ্রিয়। দুই থেকে তিনজন অনায়াসেই খেতে পারে। হানি চিকেন সালাদের পাশাপাশি ক্যাফেতে আরও কয়েক পদের সালাদ পাওয়া যায়। এসব সালাদও বেশ ভালো অর্ডার করেন ক্যাফেতে আসা তরুণ-তরুণীরা। তারুণ্য নির্ভর এ ক্যাফেতে কোনো খাবারই অর্ডারের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশন করা হয় না। অর্ডার করে মোটামুটি আধাঘণ্টা খানিক সময় দিতে হবে। এরপর মিলবে খাবার। আবার দামের ব্যাপারটাও খুব সাধারণ। ভোজনরসিকদের সাধ্যের মধ্যে রাখা হয়েছে। বারকোড ক্যাফে মূলত ইতালিয়ান ও আমেরিকান খাবারের রেস্তোরাঁ।

এই ক্যাফের পরিকল্পনা আসে বারকোড রেস্টুরেন্ট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মঞ্জুরুল হকের মাথা থেকে। শুধু বারকোডই নয় তাদের আরও অনেক রেস্টুরেন্ট এবং ক্যাফে আছে তবে সেগুলো চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। তিনি জানান, চট্টগ্রামের মানুষ ঢাকার মানুষের কাছে খুব গর্ব করে বলতেন, আমাদের বারকোড ক্যাফে আছে, তোমাদের কী আছে? এখন সেটা আর বলতে পারেন না! কারণ ঢাকা-চট্টগ্রামে আমাদের একই রকম অপারেশন চলে। ফুড থেকে শুরু করে খাবারের মানও মোটামুটি একই। এছাড়া চট্টগ্রামের বারকোড ক্যাফের আদলেই সাজানো হয়েছে ঢাকার বারকোড।

মঞ্জুরুল হকের চিন্তার প্রতিফলন বারকোড ক্যাফের দেয়ালজুড়ে। ক্যাফের ভেতরে দেয়ালজুড়ে চোখে পড়বে নানা ধরনের গ্রাফিতি। বিশ্বের বিভিন্ন মনীষীদের জীবনমুখী উৎসাহব্যঞ্জক বাণী দিয়ে সাজানো দেয়াল। খেতে খেতে এসব বাণী পড়ে হয়তো অনুপ্রাণিত হতে পারেন অনেকেই।

২০১৩ সালের কথা। ছোট্ট পরিসরে চট্টগ্রামে শুরু হয় বারকোড ক্যাফের পথচলা। তখন মাত্র ৫০ জনের বসার ব্যবস্থা ছিল। তবে খাবারের স্বাদ, মান এবং পরিবেশনের আন্তরিকতার কারণে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি এ রেস্টুরেন্টকে। এখন বারকোড ক্যাফের মোট ৬টি শাখা রয়েছে, যার মধ্যে ৫টিই চট্টগ্রামে। আর একটি ঢাকার বনানীতে। একটি দুইতলা ভবনে মোট ৬০ আসনবিশিষ্ট এ ক্যাফে তিনস্তরে সাজানো। যারা সিঙ্গেল বসতে চান, আর কেউ পরিবার নিয়ে আসলে আর কর্পোরেট মিটিং করতে চাইলে। সব ধরনের আসনের ব্যবস্থা আছে এ ক্যাফেতে। ফুডের দাম সর্বনিু ২০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত। আর মেন্যুতে রয়েছে প্রায় শ’খানিক আইটেম। রয়েছে সেট মেন্যু এবং আলাকার্ড খাবার।

ঢাকার বারকোড সম্পর্কে মঞ্জুরুল হক জানান, চট্টগ্রাম থেকে পাওয়া সুনাম এবং সাধারণ মানুষের আস্থাকে সঙ্গে নিয়েই বারকোড ক্যাফে ঢাকায় জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। প্রচুর মানুষ প্রতিদিন আসে খাবারের স্বাদ নিতে। এবার পালা চট্টগ্রামের মতো এখানকার ভোজনরসিকদেরও আস্থাভাজন হওয়া।

ক্যাফের নাম বারকোড রাখার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বারকোড হচ্ছে নিজস্ব পরিচয়। বারকোড ক্যাফে সব সময় চায় তাদের স্বতন্ত্র পরিচয়টা ধরে রাখতে। এ কারণেই নাম ‘বারকোড’। ফ্রেশ এবং উন্নতমানের খাবার সাশ্রয়ী দামে পরিবেশন করাই বারকোড ক্যাফের বিশেষত্ব।

এখানকার মিন্ট লেমন, ওভেন বেকড পাস্তা, হানি চিকেন সালাদ, চিটাগাং পিৎজাসহ বিভিন্ন আইটেম সুনাম কুড়িয়েছে ভোজনরসিকদের কাছে। মনকাড়া বিভিন্ন অফার দিয়ে ক্রেতাদের আসতে বাধ্য করতে আগ্রহী নয় বারকোড ক্যাফে। খাবারের মান, স্বাদ এবং হাতের নাগালে থাকা দামের কারণেই ক্রেতারা বারবার ফিরে আসেন। বারকোড ক্যাফেতে পরিবার পরিজন নিয়ে ডিনার কিংবা লাঞ্চ করা যায়, বন্ধুদের নিয়ে নির্ভেজাল আড্ডা দেয়া যায়। পুরো রেস্টুরেন্টের পরিবেশ সাজানো হয়েছে এটা মাথায় রেখেই।

রেস্টুরেন্টের মেন্যুতে স্ট্যাটারে রয়েছে গ্রিলড বাটার কাট কিং প্রণ, হানি প্রণ, ফিশ লিম প্রণ, গার্লিক প্রণ পটেটো অ্যান্ড টমেটো, কালামারি রিং, গ্রিলড কালামারি, বাফালো চিকেন উইংস, গার্লিক ব্রেড উইথ চিজ, স্পাইসি মাশরুম, হট কার্ব মাশলা, গিলড কার্ব, মিক্সড সীফুড প্লাটার, রয়েছে স্যুপের নানা পদ সী ফুড স্যুপ, থাই স্যুপ, থাই ক্লিয়ার স্যুপ, ক্রিম মাশরুম স্যুপ, আরও রয়েছে সালাদের নানা পদ হানি চিকেন সালাদ, বিবিকিউ চিকেন সালাদ, ফ্রেশ চিকেন সালাদ। চিকেনের নানা পদ দিয়ে সাজানো হয়েছে আরও মেন্যু ইংলিশ রোস্ট চিকেন মেল, চিকেন চিলি মেল, লেমন বাটার চিকেন মেল, চিকেন স্টেক মেল। বিফেরও বেশ কয়েকটি আইটেম আছে। টি-বেন স্টেক, বিফ চিনি মেল, ওয়ের্স্টান চিলি বিফ, স্পাইসি বিফ উইথ নাটম, বিফ পিপার স্টেক। সী ফুডের নানা ধরনের পদ আছে, রয়েছে পিৎজা, পাস্তা, বারকোড স্পেশাল মেন্যু, বার্গার, শর্মা, ফালুদা, মজিটো, কোল্ড বেভারেজ, হট বেভারেজসহ নানা ধরনের খাবার।

ক্যাফেতে কথা হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘প্রায় সময় বন্ধুরা মিলে এখানে আসি। গল্প করার পাশাপাশি পড়াশোনার বিষয়েও আলাপ করি। খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি অনেকক্ষণ আড্ডা দেয়া যায় এখানে। বলতে পাবেন তারুণ্যের একটি মেলবন্ধনে পরিণত হয়েছে বারকোড।

বারকোড ফেসবুক ঠিকানা : https://www.facebook.com/barcodecafebanani/

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter