কাঁসার বাটি

কিছু কিছু কাঁসার প্লেটে ধূপ, সিঁদুর আর শাঁখা রাখা হয়। এই উপকরণগুলো ব্যবহার করা হয় মূলত দশমীতে। দেবী দুর্গাকে বিসর্জনের দিনেই সব বিবাহিত নারী একে অন্যকে সিঁদুর পরিয়ে দেন। বিজয়া দশমীতে তাই সবাই সাদা শাড়ি আর লাল পাড়ে সাজিয়ে তোলেন নিজেকে

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

ঘরেবাইরে প্রতিবেদক

উলুধ্বনি আর চন্দনের সুগন্ধিতে ধরিত্রীর বুকে আগমন ঘটে দেবী দুর্গার। দশ হাতে পাপমোচন এবং ভক্তকূলে শান্তি আনতেই যুগে যুগে মা ফিরে আসেন সন্তানদের মাঝে। তাই তো সব সনাতন ধর্মাবলম্বী দুর্গাপূজায় নিজেকে রাঙিয়ে তোলেন নতুন করে। হাতে শাঁখা আর সিঁথিতে সিঁদুর রঙে রাঙিয়ে দেবী দুর্গাকে বরণ করা হয় সবার মাঝে। দুর্গাপূজার মূল আকর্ষণ শুরু হয় ষষ্ঠী থেকে। এর পর সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী এবং সবশেষে দশমী। ঢাকের তালে তালে আর চন্দন, ধূপ আর কর্পূরের সুগন্ধিতে চারদিক মেতে ওঠে দেবী দুর্গাকে ঘিরে। মূলত আশ্বিন এবং চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে দুর্গাপূজা। আশ্বিন মাসের দুর্গাপূজা শারদীয় দুর্গাপূজা এবং চৈত্র মাসের দুর্গাপূজা বাসন্তী নামে পরিচিত। তবে এদের মধ্য শারদীয় দুর্গাপূজাই বেশি প্রচলিত এবং বাসন্তী কিছু পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। দুর্গাপূজা শুরু হয় মহালয়া থেকে। তাই এর তাৎপর্যও ভিন্ন।

দেবীকে লাল ফুলে বরণ কিংবা অর্ঘ্য পরিবেশন সব কিছুতেই থাকে কাঁসার বাটির পরিবেশনা। এছাড়া পূজার লগ্নে ঘি, তেল, কর্পূর ইত্যাদি রাখা হয় কাঁসার বাটিতে। এসব কাঁসার বাটি নানা রকমের আর আকারের হয়ে থাকে। একদম ছোট থেকে শুরু করে মাঝারি কিংবা বিশাল আকারের কাঁসার বাটি ব্যবহার করা হয় ভোগ অর্পণের সময়। উলুধ্বনি, ধূপ আর মন্ত্রে চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে। কাঁসার এই বাটিগুলো শুধু খাবারের জন্যই নয়, পাশাপাশি পূজার সামগ্রী যেমন ফল, মিষ্টি, বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। একটি বড় কাঁসার পাত্রে ছোট ছোট বাটিগুলো বৃত্তাকারে সাজিয়ে রাখা হয়। আর এতে থাকে মুষ্টিভর্তি আতপ চাল, নানা ধরনের ফল ও মিষ্টান্নজাতীয় খাবার, যা মাকে নিবেদন করা হয়। নৈবেদ্যের জন্য ব্যবহৃত কাঁসার এই বাটিগুলো কিছু যেমন গোলাকার হয়ে থাকে তেমনি কিছু চ্যাপ্টা আবার কিছু ছোট চারপাশে মোড়ানো আকারের হয়ে থাকে। কিছু কিছু কাঁসার প্লেটে ধূপ, সিঁদুর আর শাঁখা রাখা হয়। এই উপকরণগুলো ব্যবহার করা হয় মূলত দশমীতে। দেবী দুর্গাকে বিসর্জনের দিনেই সব বিবাহিত নারী একে অন্যকে সিঁদুর পরিয়ে দেন। বিজয়া দশমীতে তাই সবাই সাদা শাড়ি আর লাল পাড়ে সাজিয়ে তোলেন নিজেকে। অন্যদিকে অষ্টমীতে আয়োজন করা হয় কুমারী পূজার। দেবীরূপে কন্যাশিশুকে সাজিয়ে এই পূজা সম্পন্ন করা হয়। সব শেষে আসে দশমীর দিন। যেদিন সব ভক্তকে কাঁদিয়ে দেবীদুর্গা পাড়ি জমান কৈলাসে। আর যাওয়ার কালে রেখে যান এই কয়েকটি দিনে তাকে ঘিরে ভক্তকূলের আনন্দমাখা সব স্মৃতি।

কোথায় পাওয়া যাবে : এসব কাঁসার বাটি প্লেট পাওয়া যাবে পুরান ঢাকার শাঁখারি বাজারে। আলাদাভাবে ছোট প্রত্যক পিসের দাম পড়বে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং আকারে বড় কাঁসার সরঞ্জামের দাম পড়বে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত।