স্বপ্ন বোনার কারিগর প্রিয় শিক্ষক

প্রতিবছর অক্টোবর মাসের ৫ তারিখ বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। শিক্ষা ও উন্নয়ন অর্থাৎ শিক্ষকদের অবদান সর্বত্র ও অনস্বীকার্য। এই মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা, প্রচেষ্টা এবং দায়িত্ব নিয়ে লিখছেন রিয়াজ রিপন

  যুগান্তর ডেস্ক    ০২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতি লাভ করতে পারে না। আর এই শিক্ষা যিনি দেন তিনিই শিক্ষক। শ্রেণীর পাঠ সমাধান দেয়ার মূলে যেমন শিক্ষক, তেমনি জীবন চলার পথে সৎ উপদেশ দিয়ে মনের মধ্যে স্বপ্ন বুনে দিয়ে একজন আত্মপ্রত্যয়ী ব্যক্তি হিসেবে বেড়ে ওঠার পেছনে যিনি অবদান রাখেন তিনিই আমাদের শিক্ষক, কাণ্ডারি, আলোর দিশারী।

আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস বা আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস। দিবসটি বেশ আনন্দের সঙ্গে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ পালন করে থাকে। প্রায় ১০০টি দেশ এই দিবস পালন করছে। তবে সব দেশে একই দিনে নয়। যেমন : ভারতের সাবেক দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বরকে কেন্দ্র করে পালন করা হয় শিক্ষক দিবস। তরুণদের মনে উন্নয়নের বীজমন্ত্র দিতেন ইকুয়েডরের একজন শিক্ষক, লেখক জুয়ান মোন্টাল্ভো। তাকে স্মরণ করে ইকুয়েডর ১৩ এপ্রিল উদযাপন করে শিক্ষক দিবস। আবার জুলাইয়ের মাঝামাঝি পূর্ণচন্দ্র দিবসে অর্থাৎ গুরুপূর্ণিমায় শিক্ষক দিবস পালন করে নেপাল।

এভাবে অন্য দেশগুলো তাদের সুবিধা অনুযায়ী নির্ধারিত দিন শিক্ষক দিবস উদযাপন করে। শুধু ২২টি দেশ এই দিনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করে। ইউনেস্কো ১৯৯৪ সালে দিনটির স্বীকৃতি দেয়। পৃথিবীর সব দেশ ও জাতি শিক্ষকদের কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উদযাপন করছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। দিবসটিকে কেন্দ্র করে ও শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের কথা ভেবে উল্লেখ্য গুরুত্বপূর্ণ ৫টি বিষয়ে শিক্ষকের একটু বেশি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পর্কের সেতুবন্ধন

একজন যোগ্য শিক্ষকের সব সময় মনে রাখা উচিত, শিক্ষাদানের শুরুতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করা। যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের সঙ্গে সম্পর্কের সেতুবন্ধন তৈরি হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত শিক্ষার মাঝে অসামঞ্জস্যতা থেকে যায়। মূলত, শিক্ষার এটিই প্রথম ধাপ হিসেবে গণ্য করা হয়। বিষয়টি এমন যে, শিক্ষক যতই মেধাবী হোক না কেন, তার পাঠদান পদ্ধতি ঠিক না থাকলে কিংবা উভয়ের বয়সের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও একাত্মতা না হলে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি অনুকূলে আসবে না। শ্রেণীর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর প্রধান প্রেরণা হল তাদের প্রিয় শিক্ষক। তাই, তাকে এই বিষয়টিতে খেয়াল রাখতে হবে।

শিশুদের মানসিক বিকাশ ও স্বপ্ন বুনন

ছোটবেলা থেকেই মা-বাবার স্বপ্ন নিয়ে শিশুরা বড় হয়। জানা বা অজানাকে প্রাধান্য না দিয়ে মা-বাবা তাদের প্রতি জোর করেন। যার দরুন, শিশুরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না। তাদের আগ্রহ মূলত শ্রেণীর শিক্ষকই ভালো অনুধাবন করতে পারেন। মানসিক বিকাশের প্রতিটি পর্যায়ের উন্নতি অভিভাবকের পাশাপাশি সহপাঠী ও শিক্ষক দ্বারাই হয়ে থাকে। এভাবে, একজন শিক্ষক কোমলমতিদের মানসিক বিকাশের সঙ্গে মনে স্বপ্ন বুনন করে দিতে পারেন। সেই স্বপ্নের হাত ধরে শিশুরা এগিয়ে চলতে পারে আগামীতে।

তুলনামূলক ও বাস্তবধর্মী শিক্ষা দান

অনেক সময়ই একজন শিক্ষক বইয়ের বা শ্রেণীর বাইরে যেতে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন, যা শিক্ষা পশ্চাৎকরণের অন্যতম হাতিয়ার। শিশুদের মনের জল্পনা-কল্পনায় থাকে অগণিত প্রশ্ন। এগুলোর সমাধান দেয়া, আনুষঙ্গিক বিষয় উপস্থাপন, তুলনামূলক আলোচনা ও নির্ধারিত পাঠকে বাস্তবকেন্দ্রিক করে তোলাটাই হওয়া উচিত একজন শিক্ষকের পণ। তার জন্য প্রয়োজন ঘটমান প্রচেষ্টা। বর্তমানে শিক্ষার্থীর চাহিদার কথা ভেবে নির্দিষ্ট বিষয় পাঠ চলাকালীন সামঞ্জস্য শাখা-প্রশাখা আলোচনা, উদাহরণ, যুক্তিযুক্ত তুলনা এমনকি প্রয়োজনে শ্রেণীর বাইরে বিচরণ করা অতি আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারিধারা স্কলার্স ইন্সটিটিউশনের বিজ্ঞানের একজন শিক্ষিকা মৌটুসী বড়–য়া। তার ভাষায় উঠে এসেছে বাস্তব শিক্ষার কথা। তার মতে, ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ফলে নির্ভুল দেখা ও অজানার কৌতূহল দূর করা সম্ভব।

পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি

কিশোর শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের পাশে থেকে বর্তমান দুরূহ সময় অতিক্রম করছে অভিভাবক থেকে শুরু করে গুরুজনরাও। মাদক, পারিবারিক সমস্যা, প্রযুক্তি কলহ, অসৎ ছায়ার সংস্পর্শে এসে ভুল পথে পা দিচ্ছে তরুণরা। এগুলো থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় হচ্ছে অভিভাবকসহ সব শিক্ষকের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। শ্রেণী শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গেথ সত্যতা, পারিবারিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা, ধর্মীয় চিন্তা-চেতনা ও সামাজিকতার গুরুত্ব তাদের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। নানাভাবে প্রত্যক্ষ উদাহরণ দেখিয়ে অন্ধকার পথ থেকে আলোর দিকে নেয়া শিক্ষকেই প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য।

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও আত্ম উন্নয়ন

বর্তমান প্রজন্মের সব শিক্ষাবিষয়ক উপকরণের ব্যবহার একজন আধুনিক শিক্ষকের জানা উচিত কেন না প্রযুক্তির অগ্রগতির প্রবাহে শিক্ষক যদি প্রযুক্তি জ্ঞানে পিছিয়ে থাকে তবে তিনি তার ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে তেমন মূল্যায়ন পান না। একসময় সর্বাধুনিক ও সর্বোৎকৃষ্ট সমাধানের অন্তরায় থেকে তার গ্রহণযোগ্যতা কমাতে থাকেন। তাই, একজন শিক্ষকের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিজেকে উন্নত করার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন একই ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষিকা রোমানা আক্তার। শিশুদের পুঁথি জ্ঞান পর্যন্ত সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যবহারিক কাজে বেশি মনোনিবেশ করার প্রতি তিনিও গুরুত্বারোপ করেন। শিক্ষকদের নিজেদের উন্নয়নে, নিজেদের প্রচেষ্টায় ব্যবহার করতে পারেন স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট। যে কোনো সময়, যে কোনো স্থানে বসে নিজেকে আপডেট করে নিতে পারেন একজন যোগ্য চমৎকার দক্ষ মানুষ গড়ার কারিগর।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×