উৎসবের সাজে গহনা

আকাশে ভাসছে পেঁজা তুলোর মত মেঘের ভেলা। মৃদুমন্দ বাতাসে মাথা দোলায় কাশফুলের গুচ্ছ। গুড়গুড় শব্দে বেজে ওঠ ঢাকের বাদ্য। প্রকৃতির এমন আয়োজন মনে করিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার কথা। দুর্গাপূজার ফ্যাশনে, স্টাইল, সাজগোজ এমনকি গহনাতেও থাকে উৎসবের ছোঁয়া। জমকালো এ উৎসবে স্বর্ণ, ডায়মন্ডের মতো গর্জিয়াস গহনায় হয়ে উঠুন নজরকাড়া। খোঁজ জানাচ্ছেন- আফরোজা আক্তার

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জমকালো সোনার গহনা

অধিকাংশ মেয়ের কাছেই অতি শখের গহনা সোনার গহনা। আর পূজার সাজে সোনার গহনা যেন ভিন্নমাত্রা যোগ করে। কারণ শারদীয় সাজে ঐতিহ্য আর জমকলো ভাব ফুটে ওঠে। আর সেই সাজের ষোলআনা পূর্ণ করে সোনার গহনা। সোনার গহনার মধ্যে গলায় জড়োয়া, সীতাহার, চন্দ্রহার, পাঁচনরি হার, কণ্ঠী, মতিহার, নেকলেস ইত্যাদি এখন বেশ জনপ্রিয়। জড়োয়া গহনার মধ্যে জড়োয়া, নবরত্ন জড়োয়া, চিক জড়োয়া, হাঁসুলি (লম্বা সীতাহার)সহ কয়েক ধরনের জড়োয়া রয়েছে। কানের গহনার মধ্যে কানবালা, ঝুমকা, দুল, মাকড়ি চলছে। হাতের শোভা বাড়াতে পূজায় কঙ্কন, বালা, বাউটি, মানতাসা ইত্যাদি পরতে পারেন। হাত ও কোমরের জন্য অতিরিক্ত আরও কিছু গহনা রয়েছে যেমন হাতের জন্য বাজু, হাতপদ্ম, কোমরের জন্য বিছা, কোমরবন্ধনী ইত্যাদি। এসব গহনা নবমী ও দশমীর সাজে ভিন্নমাত্রা যোগ করবে। নবমী ও দশমীতে ট্রেডিশনাল শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে নাকে নথ, নোলক, নাকছবি বেশ মানাবে। পূজা আর আলতা রাঙা পায়ে নূপুর, ঘুঙুর, মল থাকবে না তা কি হয়! শুধু পায়ের গহনা নয়, পূজার সাজে জমকালো লুক আনে চুলের খোঁপার কাটা, সিঁথি টিকলি, ক্লিপ, চেইন কাটা, ঝাপটা প্রভৃতিও। ডিজাইন দেখিয়ে স্বর্ণ কিংবা গোল্ড প্লেটের বানিয়ে নিতে পারেন এসব গহনাও। সঙ্গে থাকুক নতুন একজোড়া পলা, শাঁখা কিংবা বালা। পলার মধ্যে মকড়মুখ পলা এখন বেশ চলছে। স্বর্ণ ছাড়াও ডায়মন্ড কাট গহনা, গোল্ড প্লেটেড মালা, ঝাপটা, কানের দুল প্রভৃতি পরতে পারেন পূজার সাজে। তিন লহরী, চার-লহরী আবার মোটা এক লহরী মালা, বড় আংটি এখন ফ্যাশন সচেতন নারীদের কাছে জনপ্রিয়। এছাড়াও মেটালের দুল, জয়পুরি দুল, মণিপুরী দুল, ইন্ডিয়ান দুল, হংকং দুল, চায়না অর্নামেন্টসও রয়েছে অনেকের পছন্দের তালিকায়।

আছে হোয়াইট ও রোজ গোল্ড

বর্তমানে সোনার গহনার সোনালি রং ছাড়াও হোয়াইট গোল্ড এবং রোজ গোল্ডের চাহিদা বাড়ছে। হোয়াইট গোল্ড হচ্ছে এক ধরনের সাদা ধাতু এবং স্বর্ণের মিশ্রণ। আর রোজ গোল্ড হচ্ছে এক ধরনের সোনা ও তামার সংকর। সোনালি সোনার সঙ্গে দু’একটি হোয়াইট কিংবা রোজ গোল্ডের গহনা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পরলে নতুনত্ব আসবে।

শৌখিন গহনা ডায়মন্ড

ডায়মন্ডের গহনা নারীদের কাছে অত্যন্ত শৌখিন গহনা। পূজায় উৎসবে অনেকের তাই ডায়মন্ডের গহনা কেনার ইচ্ছা থাকে। বর্তমানে ছোট ডায়মন্ডের গহনার প্রতি নারীদের আগ্রহ বাড়ছে। এক্ষেত্রে হীরার আংটি, কানের দুল, নাকফুল, লকেটের চাহিদাই বেশি। গর্জিয়াস ডায়মন্ডের সেট কিনতে চাইলে বেছে নিতে পারেন স্টোন ও মুক্ত সেটিং ডায়মণ্ড সেট।

গহনায় বৈচিত্র্য

সোনার গহনায় বৈচিত্র্য আনতে ফ্যাশনে এখন পেটানো খাঁটি গিনি সোনার বদলে কিছুটা হালকা ডিজাইনের সোনার সঙ্গে পাথর, রুবি, পুঁতি, কুন্দন, মুক্তার মিশেলে তৈরি গহনা চলছে। পূজার পোশাক বা শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে স্টোন বা পুঁতি বসিয়ে নিতে পারেন। এছাড়াও পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে গোল্ডের গয়নায় মিনা করিয়ে নিতে পারেন। ডায়মন্ডের গহনায় বসিয়ে নিতে পারেন জারকান, পান্না, রুবির মতো দামি পাথর।

নজরকাড়া নকশা

কিছুটা হালকা নকশার গহনার জনপ্রিয়তা এখন বেশি। টেড্রিশনাল এবং ট্রেন্ডির মিশেলে তৈরি হওয়া গহনার প্রতি এখন ফ্যাশন সচেতনদের আগ্রহ বেশি। গহনার নকশায় মিসরীয় সভ্যতা, আদিবাসী নকশা, মোগল আমলের পুরনো ধাঁচের নকশা এখন স্টাইলিশ জুয়েলারি।

পোশাক মিলিয়ে গহনা

পূজাতে ঐতিহ্যবাহী শাড়ি যেমন-কাতান, বেনারসি, জামদানির সঙ্গে পরতে পারেন আদি ঢঙের সোনার গহনা। আধুনিক শাড়ি যেমন শিফন, জর্জেট, সিল্ক, নেট শাড়ির সঙ্গে ভালো লাগবে ট্রেন্ডি গহনা। সুতি শাড়ির সঙ্গে ছোটখাটো সোনার গহনা মানানসই। সালোয়ার কামিজের সঙ্গে পরতে পারেন স্টোন, কুন্দুন বসানো গহনা।

গহনা বাজারের খোঁজ-খবর

স্বর্ণের গহনার দাম নির্ভর করে ভরি, ক্যারেট, নকশা ইত্যাদির ওপর। বাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম (৪-১০-২০১৮ তারিখে) ২৪ ক্যারেট ৩৭,৫১৩.৬৪৩ টাকা এবং ২২ ক্যারেট ৪৭,৪৪১.৪৫৩ টাকা। ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড, পূরবী জুয়েলার্স, নিউ জড়োয়া হাউস, আমিন জুয়েলার্স, ভেনাস, ডায়মন্ড জুয়েলার্স, আপন জুয়েলার্স, মৌচাক জুয়েলার্সসহ বিভিন্ন জুয়েলার্স ছাড়াও যমুনা ফিউচার পার্ক, পিংক সিটি, ইস্টার্ন প্লাজা, চাঁদনী চক, মৌচাক মার্কেটে বড় জুয়েলারি দোকান রয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter