নির্দোষ শিশুর ঠিকানা কারাগার নয়

  রীতা ভৌমিক ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নির্দোষ শিশুর ঠিকানা কারাগার নয়

হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন কারাগারে কোনো শিশু থাকবে না। এরপরও বিনা অপরাধে অনেক শিশু মায়ের সঙ্গে কারাগারের অন্ধ কুঠুরিতে বেড়ে উঠছে। মহিলা রাইটার, হাজতি ও কয়েদিদের মাঝে বেড়ে ওঠায় তাদের শিশুসুলভ আচরণগুলো লোপ পাচ্ছে। কারাগারের ওই পরিবেশ থেকে তাদের সুস্থ পরিবেশে বড় হওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। লিখেছেন- রীতা ভৌমিক

কোনো গর্ভবতী কারাগারে সন্তান প্রসব করলে অথবা মামলায় অভিযুক্ত কোনো মায়ের কোলে শিশু থাকলে সেই শিশুর জায়গাও হয় কারাগারে। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি কারাগারে অপরাধী না হয়েও মায়ের মামলার কারণে অনেক শিশু মায়ের সঙ্গে কারাজীবন কাটাচ্ছে।

যেখানে দাগি আসামি থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধীরাও রয়েছে। এর ফলে এসব শিশু বেড়ে উঠছে অপরাধীদের সংস্পর্শে। একরকম মনোসামাজিক চাপের মধ্য দিয়ে।

কারাগারে আসামিদের মধ্যে কেউ মহিলা রাইটার, মহিলা হাজতি, মহিলা কয়েদি। কারাগারে আটক মায়েদের অনেকেই দাগি আসামি বা কয়েদিদের সঙ্গে থাকে। তাদের নিজেরাও কেউ দাগি আসামি বা কয়েদি। তাদের আচরণগুলো কারাগারে অবস্থানরত কোমলমতি শিশুদের মনে প্রতিফলিত হয়।

কারাগারের ওই পরিবেশের কারণে তাদের শিশুসুলভ আচরণগুলো লোপ পায়। যেসব শিশু কারাগারের স্কুলে যাচ্ছে তারা স্কুলের পর আবার কারাগারের ওই পরিবেশেই ফিরে আসছে। অল্প সময়ের জন্য কারাগারের বাইরে থাকায় তাদের আচরণে তেমন পরিবর্তন হচ্ছে না।

এসব শিশু থাকার জন্য দরকার কারাগারের কাছে শেল্টার হোম। মায়েরা শেল্টার হোমে এসে তাদের সন্তানের সঙ্গে দেখা করবে। এই বন্দিজীবন থেকে আমাদের শিশুরা কবে মুক্তি পাবে? এসব শিশুর সুস্থ জীবন, সুন্দর পরিবেশে কিভাবে বড় করে তোলা যায় এটা নিয়ে ভাবনার সময় এখনই।

যদিও ২০১২ সালে হাইকোর্ট একটি রিটের (রিট নাম্বার ২৩১৬/১২) পরিপ্রেক্ষিতে রুল জারি করেছেন যে, কারাগারে কোনো শিশু থাকবে না। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, হাইকোর্ট রিট করেছে কারাগারে কোনো শিশু থাকবে না।

সরাসরি থানা অথবা আদালত থেকে সাজাপ্রাপ্ত মায়ের শিশুকে শিশুসদনে নিয়ে যাওয়া হবে। এরিই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি নোটিশ দেয়া হয়।

মায়েদের সঙ্গে কারাগারে যে শিশুরা অবস্থান করছে তাদের কিভাবে রাখা হয়েছে, তাদের কি খাবার দেয়া হয়। তাদের পোশাক কি দেয়া হয় এবং তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা কতটুকু দেয়া হয়। মহিলা রাইটার, হাজতি ও কয়েদিদের মাঝে তাদের রাখা হয়েছে।

এক্ষেত্রে তাদের সবাইকে মূলস্রোতধারার শিক্ষা ব্যবস্থায় আনতে হবে। এই বিষয়ে রুল ইস্যু হয়েছে। শিশুর আবাস কারাগার হতে পারে না। মায়ের অপরাধে অপরাধী হয়ে অথবা না জেনে কোনো অপরাধ করে শিশুরা এভাবে কারাগারে বন্দি জীবন-যাপন করবে তা সুস্থ-সুন্দর সমাজ-পরিবেশে কাম্য হতে পারে না।

হেয়ারিং শুরু হলে আমরা উত্থাপন করব সারাদিন এই শিশুদের কারাগারের বাইরে উন্মুক্ত পরিবেশে রাখার ব্যবস্থা করা। রাতে তাদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে নেয়া। বছরের পর বছর কারাগারের এই চার দেয়ালের অন্ধ কুঠুরিতে কয়েদিদের সঙ্গে বসবাস করছে তারা। এই পরিবেশে শিশুর শারীরিক বিকাশ বৃদ্ধি পেলেও মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ আদৌ কি সম্ভব?

এ প্রসঙ্গে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালের হেড অব সাইকোথেরাপি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম এ মোহিত বলেন, শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য নিরাপত্তাবোধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন মায়ের সঙ্গে তার শিশুটি কারাগারে থাকলে সে বুঝে যায় তার মা নিরাপদহীনতায় রয়েছে।

ধীরে ধীরে এটা তার মনের ভেতর গেথে যায়। পরবর্তীতে আচরণে প্রকাশ পায়। এর কারণ শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। তারা ওই আচরণগুলো নিজেদের মধ্যে ধারণ করে বড় হচ্ছে। ফলে এসব নেতিবাচক দিকগুলো তাদের মনে বিস্তার লাভ করে।

শৈশবে তারা পরিবারের মধ্যে, গণতান্ত্রিক পরিবেশে বড় হচ্ছে না। যে পরিবেশে তারা বড় হচ্ছে সেখানে সহিংসতা দেখছে, অনৈতিকতা দেখছে। একজন আরেকজনকে ধমক দিয়ে কথা বলতে দেখছে। সহিংসতার বৈশিষ্ট্য নিয়ে এভাবে বড় হওয়ায় অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায় তাদের সুলভ প্রতিভা।

তাদের মনের ভেতর এক ভীতির সৃষ্টি হয়। তারা চুপচাপ হয়ে যায়। কারও সঙ্গে কথা বলে না। এসব কারণে সামাজিক যোগাযোগ দক্ষতাও এই শিশুদের বাধাগ্রস্ত হয়। মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। আত্মবিশ্বাস লোপ পাচ্ছে। জীবন সম্পর্কে তারা আশাবাদী হয়ে ওঠে না।

কেস স্টাডি

এক

বড় হয়ে শিক্ষক হবে এই স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে উঠছে পাঁচ বছরের মেয়ে লাইজু (আসল নাম নয়)। এক মাস বয়সে মায়ের সঙ্গে তার জায়গা হয়েছিল চট্টগ্রাম জেলা কেন্দ্রীয় কারাগারে। ওর পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার আলীনগর ইউনিয়নের পাহাড়তলী গ্রামে।

বাবা থেকেও আজ তার বাবা নেই। বাবা তার খোঁজ নিতে কোনোদিন চট্টগ্রাম জেলা কেন্দ্রীয় কারাগারে আসেননি। মেয়েও জন্মদাতাকে দেখেও চিনতে পারবে না। মা জামিন পেলে লাইজু ফিরে পেত তার শৈশব। বন্দি জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাধীন জীবন পেত। মেয়ের জীবনের এই স্বাধীনতা কবে ফিরবে জানেন না ওর মা। জানে না ও নিজেও।

এ প্রসঙ্গে লাইজুর মা বলেন, দেবরকে কম্বল চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে শ্বশুরবাড়ি থেকে আমার নামে হত্যা মামলা করা হয়। যেই অপরাধ আমি করিনি সেই অপরাধে আমার সঙ্গে সঙ্গে আমার মেয়েও কারাগারে হাজতবাস করছে। আমার দেবর স্টোক করে মারা গেছেন।

অথচ আমার শ্বশুর-শাশুড়ি মিথ্যা মামলায় আমাকে জেলে পাঠিয়েছেন। আমার পক্ষে কেউ মামলা না লড়ায় জামিন পাই নাই। সাজাও হয় নাই। পাঁচ বছর ধরে কারাগারের চার দেয়ালের ছোট্ট কুঠুরিতে বন্দি আছি। এর মধ্যে এক মাসের শিশুটিরে আমি কিভাবে বড় করছি তা শুধু আমিই জানি।

জামিন পেলে ওর নানাবাড়িতে রেখে মেয়েকে বড় করতাম। আমি পেটে ধরলেও এই মেয়ে তো আমার স্বামীর বংশের, এই ছোট্ট শিশুর জন্য তাদের মন কাঁদে না। কাঁদে না বলেই হয়তো আমার স্বামী আবার বিয়ে করেছে। সেই ঘরে দুই সন্তান আছে।

বাবা হয়ে কিভাবে পারল তার প্রথম সন্তানকে ভুলে যেতে! কত কষ্টে আমার মেয়ে বড় হচ্ছে এখানে। না খেয়ে, আধপেটা খেয়ে মেয়েকে বাঁচিয়ে রেখেছি। শুধু খাওয়া-দাওয়ার কষ্টই নয়, এখানে দীর্ঘমেয়াদি সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি, মহিলা হাজতি ও কয়েদিদের সঙ্গে ও বেড়ে উঠছে।

তাদের অনেকের আচরণে ও ভয় পায়। ভয়ে কুঁকড়ে থাকে। কারও সঙ্গে কথা বলে না। একটা ছোট্ট ঘরে বিশ-ত্রিশজন গাদাগাদি করে থাকি। ঘরটাও স্যাঁতসেঁতে। গরমে ভীষণ গরম। শীতে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। এরপর আবার শীত নিবারণে গরম জামাকাপড় নেই।

এবারের প্রচণ্ড শীতে ঠাণ্ডা মেঝেতে বসে মেয়েকে বুকে জড়িয়ে কাটালাম। তাতে যদি ওর ঠাণ্ডা কম লাগে। ওর বয়স পাঁচ বছর। এখন চট্টগ্রাম জেলা কেন্দ্রীয় কারাগারের অপরাজেয় বাংলাদেশ এর ডে কেয়ার সেন্টারে পড়তে যায়। ও হাতের লেখা শিখেছে। বইয়ের ছবি দেখিয়ে আমাকে ছড়া কেটে বলে। ওখানে যতক্ষণ থাকে ও যে ভালো থাকে তা ওর চোখেমুখে ফুটে ওঠে।

দুই

মামুনের বয়স এখন পাঁচ বছর। ওর আঁকা ছবিতে গাছপালা, ফুল, লতাপাতা, মানুষ সবই জায়গা পেয়েছে। তিন বছর বয়সে মায়ের সঙ্গে তার জায়গা হয় চট্টগ্রাম জেলা কেন্দ্রীয় কারাগারে। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে মামুন সবার ছোট।

বড় তিন ভাইবোন নানাবাড়িতে বড় হচ্ছে। নানা-মামারা মায়ের জামিন নেয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু জামিন নেয়ার মতো অর্থ তার নানা-মামাদের নেই। দুই বছর ধরে মায়ের সঙ্গে কারাগারেই থাকছে সে।

এ বছরের ৭ জানুয়ারি মামলার তারিখ ছিল। বিনা দোষে দুই বছর ধরে ছেলেকে নিয়ে কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি জীবন কাটাচ্ছি। অসুস্থ হয়ে স্বামী মারা যান। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকেরা আমার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ আনে।

তারা মামলায় উল্লেখ করে, প্রেমিকের সহযোগিতায় স্বামীকে হত্যা করেছি। তাদের মিথ্যা অভিযোগে ছোট ছেলের জায়গা হয়েছে কারাগারে। বড় তিন ছেলেমেয়েকেও তারা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।

বাবা-ভাইরা ওদের আশ্রয় না দিলে ওদের জীবনও ছোট ছেলের মতোই দুবির্ষহ হতো। অথচ স্বামী-সন্তানদের নিয়ে আমার সুখের সংসার ছিল। চট্টগ্রামের হালিশহরের সবুজবাগে থাকতাম।

আমার আদরের ছোট ছেলে যার পরিবারের সবার আদর-যত্নে বেড়ে ওঠার কথা ছিল সে বছর দুয়েক ধরে মহিলা কয়েদিদের মাঝে বড় হচ্ছে। তাদের দেখে ভয়ে গুটিয়ে থাকে। অনেক মহিলা কয়েদি গালি-গালাজ, অকথ্য ভাষায় কথা বলে।

পরিবারের মাঝে তাকে এই অশোভন আচরণ দেখতে হতো না। তার ছোট্ট মনে কত আবদার জমা হয়েছে। আমি তাকে তা দিতে পারি না। পেটপুরে খাবার দিতে পারি না। শীতে কুঁকড়ে থাকে। শীতের জামাকাপড় নাই।

পাতলা একটা শার্ট পরেই এবারের শীতটা পার করল। সন্তান অনাদরে বড় হচ্ছে এ যে কি কষ্ট তা একমাত্র একজন মাই-ই অনুভব করতে পারেন। এভাবেই নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করলেন মামুনের মা।

চট্টগ্রাম জেলা কেন্দ্রীয় কারাগারে অপরাজেয় বাংলাদেশ-এর ডে কেয়ারের শিক্ষক জিনাত আরা বেগমের মতে, এখানে এমন শিশু রয়েছে যাদের জন্ম কারাগারেই হয়েছে। জন্মের পরই কারাগারের চার দেয়ালের বন্দি জীবন কাটাচ্ছে।

এ কারণে তাদের বাইরের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সমস্যা হয়। ওরা পারিবারিক আবহ ও সামাজিক পরিবেশে বড় হওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর ফলে ওদের মেধা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ওদের আচরণে খিটমিটে, রাগী ও জেদি ভাব লক্ষ্য করা যায়।

এ শিশুদের সঙ্গে কেউ দেখা করতে এলে তাদের মধ্যে জড়তা কাজ করে। এ থেকে তাদের বের করে আনার জন্য কারাগারে অপরাজেয় বাংলাদেশ-এর ডে কেয়ারে পড়াশোনা, খেলাধুলার ব্যবস্থা রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৫৮ জন শিশুর গড়ে ৫০ জন শিশু ডে কেয়ারে আসে। যাদের পড়ার বয়স হয়নি তারা এখানে এসে খেলাধুলা করে। প্রথম প্রথম তারা চুপচাপ থাকলেও ধীরে ধীরে তারা সবার সঙ্গে মিশছে।

পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করছে। নাচ, গান, ছড়া আবৃত্তি, ছবি আঁকা শিখছে। এখন ওরা সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলতে পারে। শিক্ষকরা ওদের মানসিক বিকাশে সহযোগিতা করছি। যাতে ওদের মায়েদের জামিন হলে ওরা কারাগার থেকে বেরিয়ে স্বাভাবিক স্কুলে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পড়াশোনা করতে পারে।

জাতীয় দিবসগুলো ওদের সঙ্গে ডে কেয়ারে উদযাপন করা হয়। কমিউনিটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ওদের সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া ওদের মায়েদের সঙ্গে মাসে একটা অভিভাবক সভা করা হয়। যাতে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে সহায়ক হয়।

তিন

প্রতিদিন ডাল দিয়ে ভাত খেতে ইচ্ছা করে না মলির (আসল নাম নয়)। মায়ের কাছে প্রায়ই বায়না ধরে মাছ দিয়ে ভাত খাওয়ার। সতের মাসে মাত্র ছয় কি সাত দিন এক টুকরো করে মাংস খেয়েছে। তাও বিশেষ দিবস উপলক্ষে। নইলে ডিম, মাছ, মাংস তো ও চোখেই দেখে না।

মলির বয়স এখন ছয়। টেকনাফে ইয়াবাসহ ওর মা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। ছোট্ট মলিও সেদিন মায়ের সঙ্গেই ছিল। এরপর মাদক মামলায় মায়ের সঙ্গে ওর জায়গা হয় কক্সবাজার জেলা কারাগারে।

সকালে খাবারের তালিকায় ছোট্ট বোতলে এক বোতল দুধ আর দুই টুকরো পাউরুটি, দুপুর ১টায় মায়ের সঙ্গে ডাল দিয়ে অল্প ভাত আর রাতে সবজি দিয়ে ভাত। সকালে নাশতা খেয়ে কারাগারের স্কুলে পড়তে আসে।

এ প্রসঙ্গে ওর মা বলেন, এখান থেকে যে খাবার দেয়া হয় ও খেতে চায় না। প্রতিদিন সকালে দুধ পাউরুটি খেতে চায় না। দুপুরে ভাতের সঙ্গে একটু মাছের জন্য কান্নাকাটি করে। কিন্তু কোথা থেকে মেয়ের ইচ্ছা পূরণ করব।

অভাবের কারণে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ি। আমার জন্য মেয়েটা এত কষ্ট করছে। দাগি আসামিদের মাঝে বড় হচ্ছে। ক্ষুধায় কষ্ট করে। যে খাবার দেয়া হয় তাতে ওর পেট ভরে না। বড়রা ক্ষুধা সহ্য করতে পারলেও একজন শিশু তা পারে না। জামিনে বের হব তাও পারছি না। উকিল টাকা খেয়ে জামিনের ব্যবস্থা করে না।

কক্সবাজার জেলা কারাগারে অপরাজেয় বাংলাদেশ-এর ডে কেয়ারের শিক্ষক কোহিনূর আক্তারের মতে, কারাগারের শিশুরা অপুষ্টির শিকার। কারণ তাদের প্রোটিন ও শর্করা জাতীয় খাবারের অভাব রয়েছে। সকাল নয়টা থেকে বেলা বারোটা পর্যন্ত ছেলে ও মেয়েশিশুরা অপরাজেয় বাংলাদেশ-এর ডে কেয়ারে পড়াশোনা করে।

জানুয়ারিতে মায়ের সঙ্গে জামিনে ২ জন এবং ২ জন বাবার কাছে ফিরে গেছে। বর্তমানে ১২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এই শিশুরা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের। এদের মায়েরা বেশিরভাগই মাদক মামলার আসামি। শুক্র ও শনিবার ডে কেয়ার বন্ধ থাকে।

ওরা বৃহস্পতিবার হলেই আমাকে বলে, আপু আমাদের নিয়ে যান। ওদের কারাগারের পরিবেশ ভালো লাগে না। আগে কারাগারে বিনোদনের ব্যবস্থা ছিল না। মাস চারেক আগে কারাগারের শিশুদের খেলার জন্য দোলনা, ঘোড়া ইত্যাদি খেলনা দেয়া হয়েছে। ডে কেয়ারেও ওদের খেলাধুলার ব্যবস্থা রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter