বিশেষজ্ঞ অভিমত

ইন্টারনেট যেমন মানুষকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে এসেছে তেমনি ব্যক্তিগত তথ্যকে করে তুলেছে অনিরাপদ। এ ধরনের সমস্যায় কী করে সুরক্ষিত থাকা যায় কিংবা কী করণীয় তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছেন-

  সাইফুল ইসলাম খান ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রভাবশালী না হলে পুলিশ পাত্তা দেয় না

বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সাবেক নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী যুগান্তরকে বলেন, আমাদের পুলিশ এখন ভিআইপি নিয়ে ব্যস্ত। সাধারণ জনগণ তাদের কাছে যেয়ে আশানুরূপ ব্যবহার পায় না। ভুক্তভোগীরা যদি সংগঠনের মাধ্যমে পুলিশের কাছে যায় তাহলে কিছুটা তদন্ত হয়। পুলিশ কী সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দেশে সাইবার ক্রাইম ইউনিট গঠন করা হলেও তাদের লোকবল খুবই কম। অভিযোগকারী ভিআইপি কেউ না হলে দ্রুত সেবা পাওয়া কঠিন। ভুক্তভোগী যদি প্রভাবশালী কেউ না হয় তাহলে তো

পুলিশ তাকে কোনো পাত্তাই দেবে না। অন্যদিকে এ কথাও সত্যি, সাইবার ক্রাইম ইউনিটের লোকবলের তুলনায় মামলার সংখ্যা অনেক বেশি। মেয়েরা অনলাইনে ব্লাকমেইলিংয়ের শিকার হলেও তারা অভিযোগ করতে চায় না; কারণ তারা পয়সা খরচ করতে পারে না। আবার একাধিক পুরুষ কর্মকর্তার হাতে তদন্ত হলে তাদের কাছেও ওই ছবি বা ভিডিও যাচ্ছে। এ কারণে মেয়েরা আইনি পদক্ষেপে যেতে চায় না। এজন্য নারী তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া উচিত। মনে রাখা উচিত, নারীরা প্রতিবাদ না করলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়বে।

বুঝেশুনে অ্যালাউ অপশন চাপুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ শরিফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ব্যবহারকারীরা যদি সচেতন থাকি তবে অনেক কিছুই এড়িয়ে চলা সম্ভব। কোনো অ্যাপস যদি কোনো তথ্য নিয়ে নেয় তবে আমাদের জানিয়েই নিয়ে নেয়। অ্যাপস ইন্সটল করার সময়ই তারা সতর্ক করে যে তোমার ফোনলিস্ট আমরা দেখব, মেসেজ আমরা পড়ব, মেমরিকার্ডে বা গ্যালারিতে আমরা প্রবেশ করব। এই একসেস অধিকার (প্রবেশাধিকার) তারা চায়। তখন ব্যবহারকারী হয়তো না বুঝেই অ্যালাউ করে দেয়। এভাবে আমরা নিজেরাই নিজেদের বিপদগুলো ডেকে আনি। যদি এলাউ বা অ্যাকসেপ্ট না করে তাহলে কিন্তু এ তথ্যগুলো ওই অ্যাপস নিতে পারে না। তাই তথ্য চুরি যাওয়ার আগেই আমাদের যেনে বুঝে এলাউ করা উচিত। অনলাইনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও সেটিংসগুলো বুঝে করা উচিত। তাহলে অন্য কেউ আমাদের তথ্য চুরি করে বিপদে ফেলতে পারবে না। অনলাইনে কেউ ব্লাকমেইলের শিকার হলে সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯ এ ফোন করে অভিযোগ জানানো উচিত। সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কাছে বিভিন্ন ধরনের টুলস রয়েছে, তারা অনেকদূর পর্যন্ত যেতে পারেন। কে করেছে, কখন করেছে, কোথা থেকে করেছে- এগুলো বিশ্লেষণ করে বের করা সম্ভব।

ছবি দেয়ার আগে চিন্তা করা উচিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন্স অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানিয়া হক যুগান্তরকে বলেন, ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো কীভাবে ব্যবহার করা উচিত তা অনেকেই জানে না। অনেকে অপরিচিত ব্যক্তিকে তার অনলাইন বন্ধু তালিকায় যোগ করে নিচ্ছে। সেখান থেকে ভালো আলাপচারিতার মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এভাবে যেমন চট করেই একটা সম্পর্ক গড়ে উঠছে তেমন চট করেই আবার এ ধরনের সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে। ভেঙে যাওয়ার পরপরই দেখা দেয় বিপত্তি, শুরু হয় ব্লাকমেইলিং। আমার এক ছাত্রীর বিয়ে ভেঙে গেছে অনলাইনে অপপ্রচারের কারণে। আর অল্প বয়সের ছেলেমেয়েদের অবসর যাপনের মাধ্যম এখন অনলাইন। সেখানে তারা সহজেই অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে। আবার অনেকেই পর্নোগ্রাফি দেখে খারাপ কাজে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এ কারণে পর্নোগ্রাফি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া উচিত। কতটুকু ব্যবহার করলে আমি বিপদে পড়ব না, এ শিক্ষাটা স্কুল-কলেজে দেয়া উচিত। অনলাইনে বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে সচেতনতার বিকল্প নেই। অন্যকে কোনো ছবি দেয়ার আগে অবশ্যই এটা মাথায় রাখা উচিত, এ ছবি প্রকাশ হলে আমার কতটা সমস্যা হতে পারে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×