মশার উৎপাতে দিশেহারা ঢাবি শিক্ষার্থীরা
jugantor
মশার উৎপাতে দিশেহারা ঢাবি শিক্ষার্থীরা

  এম এস আই খান  

২৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জ্বলন্ত কয়েলের ওপর বসে আছে মশা! দিনেদুপুরে মশারি টাঙিয়ে পরীক্ষা প্রস্তুতি নিচ্ছেন কেউ কেউ। এমন দৃশ্য এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে।

মশার কামড়ের কারণে শান্তিমতো ঘুম কিংবা পড়াশোনা কোনোটাই করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। আর হঠাৎ করে মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হচ্ছেন মশাবাহিত নানা রোগে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার সূত্রে জানা যায়, ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩৬ শিক্ষার্থী। তাদের অধিকাংশই ভাইরাস, টাইফয়েড কিংবা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। ভর্তি রোগীর বাইরে বহু সংখ্যক জ্বরের রোগী সেন্টার থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসা ১০০ রোগীর মধ্যে ৮ জন ডেঙ্গু রোগী। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. সারওয়ার জাহান মুক্তাফী যুগান্তরকে বলেন, এটি নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নয়। এটি একটি আনুমানিক তথ্য। তবে চলতি মাসেও আমরা বেশ কয়েকজন ডেঙ্গু রোগী পেয়েছি।

যারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হন তাদের অধিকাংশই অন্যত্র চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা আমাদের কাছে থাকে না। রোববার মেডিকেল সেন্টারে তৃতীয়তলায় কথা হয় স্যার এএফ রহমান হলের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রবিউল আলমের সঙ্গে। গণরুমে থাকা এ শিক্ষার্থী মঙ্গলবার থেকে ডেঙ্গু জ্বরে ভুগছেন। জ্বর মাথায় নিয়েই তাকে বার্ষিক পরীক্ষা দিতে বসতে হয়েছে।

এফ রহমান হলের আরও দুই শিক্ষার্থী ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্য হলেও একই অবস্থা। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে তো যথারীতি একটি ব্লগের নামই পড়ে গেছে ডেঙ্গু ব্লগ! এছাড়াও সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চলে গেছেন বাড়িতে।

বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় কবি জসীমউদ্দীন হলের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রিফাত ইসলাম শোভন, হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের শিক্ষার্থী রুবেল মিয়া এবং একই হলের আনিসুর রহমানসহ আরও অনেকেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।

মেয়েদের হলগুলোতেও আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। সমাজবিজ্ঞানের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের আবাসিক ছাত্রী কনক ফারজানাও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাসে অন্তত দু’বার মশার ওষুধ ছিটানোর কথা শোনা গেলেও বাস্তবতা ভিন্ন বলে দাবি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের। সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা বিরতি দিয়ে যে ওষুধ ছিটান তার কার্যকারিতা সম্পর্কেও প্রশ্ন রয়েছে শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলের আশপাশের নর্দমা, ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করে শুধু ওষুধ স্প্রে করায় কোনো লাভ হচ্ছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহীন রহমান আরফিন যুগান্তরকে পাঠানো এক চিঠিতে জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসেই আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাগুলো হয়ে থাকে।

তাই সবাই পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চাই। কিন্তু মশার অত্যাচারে তা হচ্ছে না। দিন নেই, রাত নেই মশার কামড়ে মানুষ অতিষ্ঠ। ইতিমধ্যে মশার কামড়ে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি চলে গেছে।

আবাসিক হলের ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করা, ময়লা-আবর্জনা ঠিকমতো অপসারণ না করা, দুর্বল পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা- এসব কারণে হলগুলোতে মশার উপদ্রব বাড়ছে।

মশার উৎপাতে দিশেহারা ঢাবি শিক্ষার্থীরা

 এম এস আই খান 
২৭ নভেম্বর ২০১৮, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জ্বলন্ত কয়েলের ওপর বসে আছে মশা! দিনেদুপুরে মশারি টাঙিয়ে পরীক্ষা প্রস্তুতি নিচ্ছেন কেউ কেউ। এমন দৃশ্য এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে।

মশার কামড়ের কারণে শান্তিমতো ঘুম কিংবা পড়াশোনা কোনোটাই করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। আর হঠাৎ করে মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হচ্ছেন মশাবাহিত নানা রোগে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার সূত্রে জানা যায়, ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩৬ শিক্ষার্থী। তাদের অধিকাংশই ভাইরাস, টাইফয়েড কিংবা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। ভর্তি রোগীর বাইরে বহু সংখ্যক জ্বরের রোগী সেন্টার থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসা ১০০ রোগীর মধ্যে ৮ জন ডেঙ্গু রোগী। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. সারওয়ার জাহান মুক্তাফী যুগান্তরকে বলেন, এটি নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নয়। এটি একটি আনুমানিক তথ্য। তবে চলতি মাসেও আমরা বেশ কয়েকজন ডেঙ্গু রোগী পেয়েছি।

যারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হন তাদের অধিকাংশই অন্যত্র চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা আমাদের কাছে থাকে না। রোববার মেডিকেল সেন্টারে তৃতীয়তলায় কথা হয় স্যার এএফ রহমান হলের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রবিউল আলমের সঙ্গে। গণরুমে থাকা এ শিক্ষার্থী মঙ্গলবার থেকে ডেঙ্গু জ্বরে ভুগছেন। জ্বর মাথায় নিয়েই তাকে বার্ষিক পরীক্ষা দিতে বসতে হয়েছে।

এফ রহমান হলের আরও দুই শিক্ষার্থী ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্য হলেও একই অবস্থা। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে তো যথারীতি একটি ব্লগের নামই পড়ে গেছে ডেঙ্গু ব্লগ! এছাড়াও সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চলে গেছেন বাড়িতে।

বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় কবি জসীমউদ্দীন হলের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রিফাত ইসলাম শোভন, হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের শিক্ষার্থী রুবেল মিয়া এবং একই হলের আনিসুর রহমানসহ আরও অনেকেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।

মেয়েদের হলগুলোতেও আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। সমাজবিজ্ঞানের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের আবাসিক ছাত্রী কনক ফারজানাও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাসে অন্তত দু’বার মশার ওষুধ ছিটানোর কথা শোনা গেলেও বাস্তবতা ভিন্ন বলে দাবি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের। সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা বিরতি দিয়ে যে ওষুধ ছিটান তার কার্যকারিতা সম্পর্কেও প্রশ্ন রয়েছে শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলের আশপাশের নর্দমা, ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করে শুধু ওষুধ স্প্রে করায় কোনো লাভ হচ্ছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহীন রহমান আরফিন যুগান্তরকে পাঠানো এক চিঠিতে জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসেই আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাগুলো হয়ে থাকে।

তাই সবাই পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চাই। কিন্তু মশার অত্যাচারে তা হচ্ছে না। দিন নেই, রাত নেই মশার কামড়ে মানুষ অতিষ্ঠ। ইতিমধ্যে মশার কামড়ে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি চলে গেছে।

আবাসিক হলের ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করা, ময়লা-আবর্জনা ঠিকমতো অপসারণ না করা, দুর্বল পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা- এসব কারণে হলগুলোতে মশার উপদ্রব বাড়ছে।