চট্টগ্রামে মশাবাহিত রোগ বাড়ছে
jugantor
চট্টগ্রামে মশাবাহিত রোগ বাড়ছে

  এম এ কাউসার, চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে শীত মৌসুমের শুরু থেকেই বেড়ে গেছে মশার উৎপাত। সেই সঙ্গে বেড়েছে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ।

নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ- গত এক মাস ধরে মশার উপদ্রব বাড়লেও নিধনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই।

ফলে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন নগরবাসী। এছাড়া দিনের বেলায়ও মশার কামড় থেকে নিস্তার মিলছে না বাসা-বাড়ি ও অফিস আদালতে।

এদিকে এক মাসে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন নগরবাসী। মশা নিধনে সেবা সংস্থার কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসী।

চট্টগ্রাম জেলা কীটতত্ত্ববিদ এনতেজার ফেরদাওছ যুগান্তরকে বলেন, সাড়া বছরের তুলনায় গত মাস থেকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ৬২ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর খোঁজ মিলেছে। আর গত এক মাসেই (অক্টোবর) ২৩ জন আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে একজন মারা গেছেন।’

তিনি জানান, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের মধ্যে নগরীর মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ১১ জন, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ১৫ জন, মেডিকেল সেন্টারে ১৪ জন, রয়েল হাসপাতালে ৫ জন, ইউএসটিসি হাসপাতালে তিনজন এবং সিএসসিআরে ১৪ জন রোগী সেবা নিয়েছেন। এরা সবাই নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

নগরীর পাহাড়তলী থানার আবদুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান মুরাদ বলেন, ‘আগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রম চোখে পড়লেও গত দু-এক বছর ধরে তা দেখা যাচ্ছে না।

বিকাল হলেই মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখি। তারপরও রক্ষা নেই। তাহলে সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দা হয়ে আমরা কী সেবা পাচ্ছি?’

সূত্র জানায়, জেলার ১৪ উপজেলা ও পার্বত্য চট্টগ্রামে মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত তিন মাসে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

প্রতিনিয়ত এ সংখ্যা বাড়ছে। মশার উপদ্রবে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। যদিও চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের দাবি- মশা নিধনে নগরীর নালা-নর্দমায় নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম চলছে। ১২০ জন কর্মী প্রতিদিন নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তার দাবি।

চলতি নভেম্বর মাসের শুরু থেকে গত তিন সপ্তাহে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৪৩ জন রোগী চমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন রোগী মারা গেছেন। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা এসব রোগীর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৫ জন। বর্তমানে পাঁচজন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী যুগান্তরকে বলেন, ‘সচেতনতার মাধ্যমে মশাবাহিত রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চট্টগ্রামে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। এরই মধ্যে আমাদের রিপোর্টিং কার্যক্রম এবং মশা নিধনে অভিযান বাড়ানো হয়েছে।’

চট্টগ্রামে মশাবাহিত রোগ বাড়ছে

 এম এ কাউসার, চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২৭ নভেম্বর ২০১৮, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে শীত মৌসুমের শুরু থেকেই বেড়ে গেছে মশার উৎপাত। সেই সঙ্গে বেড়েছে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ।

নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ- গত এক মাস ধরে মশার উপদ্রব বাড়লেও নিধনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই।

ফলে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন নগরবাসী। এছাড়া দিনের বেলায়ও মশার কামড় থেকে নিস্তার মিলছে না বাসা-বাড়ি ও অফিস আদালতে।

এদিকে এক মাসে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন নগরবাসী। মশা নিধনে সেবা সংস্থার কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসী।

চট্টগ্রাম জেলা কীটতত্ত্ববিদ এনতেজার ফেরদাওছ যুগান্তরকে বলেন, সাড়া বছরের তুলনায় গত মাস থেকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ৬২ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর খোঁজ মিলেছে। আর গত এক মাসেই (অক্টোবর) ২৩ জন আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে একজন মারা গেছেন।’

তিনি জানান, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের মধ্যে নগরীর মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ১১ জন, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ১৫ জন, মেডিকেল সেন্টারে ১৪ জন, রয়েল হাসপাতালে ৫ জন, ইউএসটিসি হাসপাতালে তিনজন এবং সিএসসিআরে ১৪ জন রোগী সেবা নিয়েছেন। এরা সবাই নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

নগরীর পাহাড়তলী থানার আবদুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান মুরাদ বলেন, ‘আগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রম চোখে পড়লেও গত দু-এক বছর ধরে তা দেখা যাচ্ছে না।

বিকাল হলেই মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখি। তারপরও রক্ষা নেই। তাহলে সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দা হয়ে আমরা কী সেবা পাচ্ছি?’

সূত্র জানায়, জেলার ১৪ উপজেলা ও পার্বত্য চট্টগ্রামে মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত তিন মাসে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

প্রতিনিয়ত এ সংখ্যা বাড়ছে। মশার উপদ্রবে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। যদিও চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের দাবি- মশা নিধনে নগরীর নালা-নর্দমায় নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম চলছে। ১২০ জন কর্মী প্রতিদিন নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তার দাবি।

চলতি নভেম্বর মাসের শুরু থেকে গত তিন সপ্তাহে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৪৩ জন রোগী চমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন রোগী মারা গেছেন। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা এসব রোগীর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৫ জন। বর্তমানে পাঁচজন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী যুগান্তরকে বলেন, ‘সচেতনতার মাধ্যমে মশাবাহিত রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চট্টগ্রামে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। এরই মধ্যে আমাদের রিপোর্টিং কার্যক্রম এবং মশা নিধনে অভিযান বাড়ানো হয়েছে।’