মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া উচিত

  যুগান্তর ডেস্ক    ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক অবশ্যই একটি মধুর সম্পর্ক হওয়া উচিত। বিভিন্ন কারণে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের মধ্যে অনেক দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। তার মধ্যে শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণ একটি বড় কারণ। ছাত্রদের ব্যক্তিগত খোঁজখবর রাখা শিক্ষক হিসেবে খুব দরকার। অনেক সময় অনেক ছাত্র মন খারাপ করে ক্লাসের মধ্যে থাকে। তাদের কাছ থেকে আমি নানা প্রশ্ন করে জানার চেষ্টা করি কেন সে মনোযোগী নয়। অনেক ছাত্র আছে যাদের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, তার পরিবারে বাবা-মা আলাদা। এ ধরনের পরিবারের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যত্নশীল আচরণ করা শিক্ষকের অন্যতম একটি দায়িত্ব বলে আমি করি। যানজটপূর্ণ এ শহরে বিভিন্ন দূরবর্তী এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা বিদ্যা অর্জন করতে আসেন। সময়মতো আসতে না পারার কারণে অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে ক্লাসে প্রবেশ করতে দেন না। যেহেতু পাঁচ মিনিট বা দশ মিনিট অতিক্রান্ত হয়ে গেছে তাই তাকে ক্লাসে ঢুকতে দেয়া হয় না। চিন্তা করেন না যে, কতটা কষ্ট করে কিংবা কতটা দূর থেকে সে এসেছে। শিক্ষকদের মধ্যে এ ধরনের আচরণ থাকা উচিত নয়। আমার নিজের মধ্যেই এটা ছিল, কিন্তু পরে আমি বাস্তবতা অনুধাবন করে এ ছাড়টা শিক্ষার্থীদের দেই।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বতন্ত্র সম্পর্ক তৈরি করা উচিত। আমি নিজে এটা করি বলেই বলছি। তারা কী ভাবছে, পরিবারের আর্থিক অবস্থা কেমন, তার চলতে কষ্ট হচ্ছে কিনা ইত্যাদি বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলাপ করা উচিত। শিক্ষার্থীরা অনেক সময় নেতিবাচক কাজ বা ভুল করে বসেন। তখন কিছু শাস্তি দিতে হয়। কিন্তু সেটা দেয়ার আগে চিন্তা করতে হবে এ শাস্তি তার ব্যক্তিজীবনের ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে। একটা শাস্তি দিই আমরা মানুষকে ভালো হওয়ার জন্য। কিন্তু এটা বুমেরাং হতে পারে। এ বিষয়টিও চিন্তা করতে হবে। অরিত্রীর ক্ষেত্রে বলবো, যেহেতু নকল করছে তাই শাস্তি দেয়া উচিত। তার বাবা-মার সামনে অপমান করাটা উচিত নয়। শিক্ষার্থীকে বাইরে রেখে বাবা-মার সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল। তাদের জীবন ও জগৎ সম্পর্কে ধারণা আমাদের মতো নয়। তারা একটু বেশি আবেগপ্রবণ। যে কেউই চায় তার বাবা-মার সামনে অপমানিত হওয়াটাকে জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করতে। এ সাইকোলোজিটা বুঝতে হবে। এখন সময় আসছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউন্সিলিং অ্যান্ড গাইডেন্স বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়ার। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের ওপর শিক্ষকদের খণ্ডকালীন প্রশিক্ষণ দেয়া দরকার। আর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যা এবং অন্য বিষয়গুলোর ওপর ডিবেটের আয়োজন করা উচিত। এতে তারা এ বিষয়ে আরও গভীরভাবে ভাবতে শিখবে, তাদের মনোবল শক্ত হবে।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : এম এস আই খান

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×