বিশেষজ্ঞ অভিমত

সম্পর্কটা মানবিকের চেয়ে বাণিজ্যিক হয়ে গেছে বেশি : রাশেদা কে. চৌধুরী

  ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী। ফাইল ছবি

গণসাক্ষরতা অভিযানের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের স্বর্ণযুগটা আমরা পেছনে ফেলে এসেছি। আমাদের শিক্ষকরা আমাদের পিতামাতা তুল্য ছিলেন। শাসন করতেন, আদরও করতেন। এখন ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কটা শুধুই ‘শিক্ষার্থী’ আর ‘পরীক্ষক’ এ রকম হয়ে গেছে। আমাদের এডুকেশন ওয়াচের ২০১৭ সালে ‘বিদ্যালয়ে নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আপনারা দেখেছেন, ৭০ ভাগ শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষকদের রোল মডেল মনে করে না।

অন্যদিকে ৫০ ভাগ শিক্ষকও স্বীকার করেছেন, তারা নিজেদের রোল মডেল মনে করেন না। এই যখন শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি, ছাত্র-শিক্ষকের মন মানসিকতা সেখানে তো আমরা বেশি কিছু আশা করতে পারি না। এখন সম্পর্কটা তো মানবিকের চেয়ে বাণিজ্যিক হয়ে গেছে বেশি।

আইনে, মহামান্য আদালতের নির্দেশনায় আছে, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা যাবে না। যে শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীরা নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শিখবে, সেই শিক্ষক কি নৈতিকতায় এবং মূল্যবোধে নিজেদের উজ্জ্বীবিত করতে পারছেন কিনা? পারলে এ ধরনের ঘটনা ঘটার কথা না। আত্মহননের পথ কেন বেছে নিচ্ছে? এ বয়সটা তো একটা অভিমানী বয়স, স্পর্শকাতর বয়স।

এ বয়সে ঘরে মা-বাবা আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তাদের কাছ থেকে যদি সহানুভূতিশীল আচরণ না পাওয়া যায় হিতে বিপরীত হতে পারে। হ্যাঁ শাসন করবেন, অবশ্যই করবেন। অন্যায় করলে করবেন। কিন্তু অপমান কেন করবেন? অপমানটা যখন পরিবার পর্যন্ত গড়ায় এ বয়সের শিক্ষার্থীর জন্য তা মেনে নেয়া আসলেই কঠিন। আমাদের পরিবারগুলো ছোট, আত্মহননের পথ খুঁজে নেয়াটা খুবই সহজ হয় তাদের জন্য।

এখন শিক্ষকরা অনেক বেশি ব্যস্ত থাকেন। কী করে পাস করানো যাবে, কী করে জিপিএ পাঁচ পাওয়ানো যাবে, এসব শেখাতেই ব্যস্ত। নৈতিকতা মূল্যবোধ শেখানোর সময় হয় না তাদের। শিক্ষা ব্যবস্থাটা শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য কীভাবে শিক্ষার্থীদের জিপিএ পাঁচ পাওয়ানো যায়। শিক্ষার্থীদের বলব, আত্মহনন কোনো সমাধান নয়, বেঁচে থেকে এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করতে হবে।

আজকালকার শিক্ষার্থীরা যাদের কাছে মূল্যবোধ শিখবে তাদের কাছ থেকে তো শিখতে পারছে না। কতটুকু পর্যন্ত শাসন করা যায়? শাসনটা এমনভাবে করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা অভিমান করতে পারে কিন্তু অপমানিতবোধ যেন না করে। শাসন আর অপমান দুটোর মধ্যে পার্থক্য আছে। আপনি তো কোনো মানুষের মানবিক মর্যাদাকে ছোট করতে পারেন না।

এটা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমান। সে শিক্ষার্থী হতে পারে, অভিভাবক হতে পারে কিংবা শিক্ষক হতে পারে। আমাদের শিক্ষকদেরও বুঝতে হবে, শিক্ষাটা পণ্য নয়। শিক্ষার মাধ্যমে তারা জাতি গড়ে তুলছেন। সেই জাতিটাকে এভাবে বিকলাঙ্গভাবে গড়ে তোলা বা মানসিকভাবে অসুস্থ করে গড়ে তোলার তো কোনো মানে হয় না।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত