ফিরে দেখা ২০১৮

আশা-নিরাশায় অস্থিরতার বছর

  যাকারিয়া ইবনে ইউসুফ ও সাইফুল ইসলাম খান ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফিরে দেখা ২০১৮

২০১৮ নির্বাচনের বছর। বছরের শুরু থেকে তা নিয়েই এ পর্যন্ত আবর্তিত হচ্ছে দেশের সব রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক তৎপরতা। দৈনন্দিন জীবনের নানা টানাপড়েন, উপেক্ষা অবহেলা কিংবা অনিয়মে বিভিন্ন পর্যায়ে নানারকম সমস্যা ও সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন সাধারণ মানুষ।

প্রতিমঞ্চে আমরা সেসব সমস্যার কথা তুলে ধরে মানুষের কষ্ট লাঘবের প্রয়াস পেয়েছি। তেমনি উদ্যোগী হয়েছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের উদ্যোগী করতে।

বিভিন্ন সময়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের প্রতিবেদনগুলো আমলে নিয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করেছে। উপকৃত হয়েছেন ভুক্তভোগীরা। সেটুকুই আমাদের সাফল্য। বছরজুড়ে সেই প্রতিবেদনগুলোর কথা আবারও মনে করিয়ে দেয়ার জন্য এ আয়োজন। দু’পর্বের সালতামামির প্রথম পর্বটি আজ ছাপা হল।

প্রতিদিন সড়কে ঝরছে তাজা প্রাণ

রাজধানীসহ সারা দেশে সড়কপথে দুর্ঘটনা আবার বেড়ে গেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় যত মানুষ নিহত, আহত ও পঙ্গু হচ্ছেন, অন্য কোনো ক্ষেত্রে এমনটি হচ্ছে না। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটায় বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালনা, ফিটনেসবিহীন গাড়ির চলাচল, লাইসেন্সবিহীন হেলপারদের গাড়ি চালনা, একই রাস্তায় দ্রুত ও ধীরগতির যানবাহনের একত্রে চলাচল, সড়কের দুরবস্থা, আইন অমান্য ও বিচারহীনতার কারণে সড়কপথ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

চলতি বছরের ১৫ মে ‘আবার সেই সড়ক দুর্ঘটনা : বেড়েছে প্রাণহানি’ শিরোনামে প্রতিমঞ্চ পাতা বের হয়। সেখানে সড়ক দুর্ঘটনার বিভিন্ন কারণসহ বিশেষজ্ঞ অভিমত তুলে ধরা হয়। এরপরও সড়কপথে লাশের মিছিল থেমে নেই। প্রতিদিনই কোথাও না কোথায়ও সড়কে ঝরছে তাজা প্রাণ। গত জুলাইয়ে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে অপেক্ষারত একদল কলেজ শিক্ষার্থীর ওপর যাত্রীবাহী বাস উঠিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। এতে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এরপর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সড়ক দুর্ঘটনারোধে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন।

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক একটি বৈশ্বিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যক্ষ্মা ও এইডস-এর মতো মরণব্যাধিতে মৃত্যুর চেয়েও সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বেশি। বর্তমান বিশ্বে মৃত্যুর অষ্টম কারণ হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা। ‘গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন রোড সেফটি ২০১৮’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর দিক থেকে ভারত, পাকিস্তানের পরই বাংলাদেশের অবস্থান।

বছর বছর বাড়িভাড়া বাড়ছেই

কোটি মানুষের ভারে নুয়ে পড়েছে তিলোত্তমা ঢাকা। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছেন কর্মসংস্থান কিংবা ভাগ্য পরিবর্তনের আশায়। অথচ এত মানুষের বসবাসের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বেশিরভাগ মানুষের আশ্রয়স্থল ভাড়া বাসা।

এদিকে প্রতি বছরই বাড়ছে বাড়িভাড়া। বছরের শুরুতেই বাড়তি বাড়িভাড়ার বোঝা নিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েন রাজধানীর ভাড়াটিয়ারা। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই বাড়িওয়ালারা বাড়তি বাড়িভাড়া চাপিয়ে দেন ভাড়াটিয়াদের কাঁধে। এ নিয়ে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরে প্রতিমঞ্চ। ‘লাগামছাড়া বাড়িভাড়া ভাড়াটিয়ারা দিশাহারা’ শিরোনামে তুলে ধরা হয় রাজধানীর বাড়িভাড়া নৈরাজ্যের চিত্র।

কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রতি বছর জানুয়ারিতে বাড়ানো হয় বাড়িভাড়া। বাংলাদেশ ভাড়াটিয়া ফেডারেশনের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে রাজধানীতে গড়ে আড়াই হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া বেড়েছে।

বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে সরকার প্রথম বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। তবে দেশের কোথাও এ আইনটি যথাযথ কার্যকর হয়নি। বাড়িওয়ালা কর্তৃক নির্যাতনের শিকার ভাড়াটিয়ারা এ নিয়ে বহুবার আন্দোলনও করে। পরে ২০১০ সালের ২৫ এপ্রিল মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করে।

আবেদনটিতে বলা হয়- বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনে ভাড়ার রসিদ প্রদান, বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দেয়া, বাড়িভাড়া চুক্তিসহ বিভিন্ন বিধান রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ বাড়িওয়ালা আইনের বিধান ভঙ্গ করে ইচ্ছামতো ভাড়া বৃদ্ধি, নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিয়ে থাকেন।

এমনকি বাড়িভাড়ার রসিদ দেন না। ভাড়ার ক্ষেত্রে অনেক বাড়ির মালিকের বেআইনি কর্মকাণ্ডের কারণে হাজার হাজার ভাড়াটিয়া অমানবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রুল ও চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১ জুলাই আদালত তার রায়ে জানান, বিদ্যমান আইনটি কার্যকর না হওয়ায় ভাড়াটেকে সুরক্ষা দেয়া যাচ্ছে না। এটি কার্যকর করতে রাষ্ট্রকে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে।

রায়টিতে ভাড়া নির্ধারণের জন্য ছয় মাসের মধ্যে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠনের জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু রায় ঘোষণার আড়াই বছরেও বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ কমিশন গঠিত হয়নি। প্রতিমঞ্চের এ সংখ্যায় ‘কান্নাচাপা জীবনের নাম ব্যাচেলর’ উপশিরোনামে আরও একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। রাজধানীতে বাসা ভাড়া নিতে যেয়ে তারা কতটা অমানবিক আচরণের শিকার হোন তা তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনটি ব্যাচেলরদের হৃদয় স্পর্শ করলেও এ নিয়ে প্রশাসনের তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে ব্যাচেলরদের মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে এখনও হন্যে হয়ে বাসা খুঁজতে হয়, গুনতে হয় বাড়তি খরচও।

কোটা সংস্কার

বছরের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিবেদন

২০১৮ সালে প্রতিমঞ্চের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে একটি ছিল ‘চাকরির বাজারে কোটা পদ্ধতির বেড়াজাল’। গত ০৬ মার্চ সরকারি চাকরির শতকরা ৫৬ ভাগ সংরক্ষিত থাকায় মেধার চেয়ে কোটাকে বেশি প্রাধান্য দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরে পাতাজুড়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রতিমঞ্চ।

প্রতিবেদনে দেশের বেকারের সংখ্যা, চাকরি ক্ষেত্রে বয়সের দেয়াল এবং কোটা পদ্ধতির বেড়াজালের কথা তুলে ধরা হয়। ‘প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছেন সবাই’ শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের এবং তাদের বিরোধিতা করে আসা সংগঠন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ‘কোটা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা যা বলেছেন’ শিরোনামে বিশেষজ্ঞদের মতামত তুলে ধরা হয়।

যেখানে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পর মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকা উচিত নয়, অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর বলেন, বংশ পরম্পরায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বন্ধ করা উচিত, জেন্ডার বিশেষজ্ঞ তানিয়া হক বলেন, বৈষম্য দূর করতে গিয়ে নতুন বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়াও অধ্যাপক মেসবাহ কামাল কোটাকে ৫০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা উচিত এবং সমাজবিজ্ঞানী ড. এএসএম আমানুল্লাহ ২২ শতাংশ কোটা রেখে ৭৮ শতাংশ মেধায় নিয়োগ দেয়া হোক বলে তাদের মত জানান।

৯ এপ্রিল শাহবাগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ-ছাত্রলীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। ওই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। এর জেরে সারা দেশের বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তুমুল আন্দোলন গড়ে ওঠে।

অবশেষে ১১ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা বাতিলের ঘোষণা দিলে আন্দোলনকারীরা ঘরে ফিরে যান। তবে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারি করতে ছয় মাস সময় নেয় সরকার। এ সময়ের মধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা নানাভাবে হামলা-মামলার শিকার হয়। ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লাসহ নানাস্থানে কোটা আন্দোলনকারীদের পিটিয়ে আহত করা হয়। রাজশাহীতে তরিকুল, ঢাকায় নুরু, রাশেদ, মামুন, সুহেল, ফারুক ও লুমাসহ বহু নেতাকর্মী হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে তাদের বেশ কিছুদিন থাকতে হয়েছে শ্রীঘরেও। সর্বশেষ ৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র জারি করার মধ্য দিয়ে কোটা প্রথার অবসান ঘটে। এদিকে সফলতা এলেও আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী শীর্ষ নেতারা এখনও মামলা থেকে অব্যাহতি পাননি।

বাড়ছে পুরুষ নির্যাতনের ঘটনা

পুরুষশাসিত এ সমাজে সবসময়ই আলোচনায় আসে নারী নির্যাতনের খবর। পুরুষ কি নারীর দ্বারা নির্যাতিত হন না? বর্তমানে অনেকেই এমন প্রশ্ন তুলছেন। এ বাস্তবতায় ‘পরিবারে পুরুষ নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে’ এ শিরোনামে গত ২০ ফেব্র“য়ারি সংবাদ প্রকাশ করে প্রতিমঞ্চ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় বিভিন্ন মামলার পর্যালোচনা আর বর্তমান প্রেক্ষাপট বলছে সমাজের অনেক পুরুষ তার নিজ ঘরে প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হচ্ছেন।

চক্ষুলজ্জা আর পরিবারের কথা চিন্তা করে দিনের পর দিন বউয়ের এসব নির্যাতন-নিপীড়ন আর হুমকি-ধুমকি নীরবে সহ্য করে যাচ্ছেন। পুরুষ অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন বলছে সমাজে অনেক পুরুষই স্ত্রীর যন্ত্রণায় নীরবে কাঁদেন। লোকচক্ষুর আড়ালে গিয়ে চোখ মোছেন; কিন্তু দেখার কেউ নেই। বলারও উপায় নেই। বিভিন্ন মহল থেকে পুরুষ নির্যাতন বন্ধে আইন প্রণয়নেরও জোর দাবি জানান হচ্ছে।

এমন বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা নারী নির্যাতন বা পুরুষ নির্যাতন নামে আলাদা আইন না রেখে উভয়ের জন্যই সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হবে এমন মানবিক আইন তৈরির মতামত জানিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানিয়া হক যুগান্তরকে বলেন, সবার কথা বলব না, কিছু নারী ‘পুরুষ’ হয়ে উঠছে। আমাদের এ পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আমরা পুরুষ হয়ে ওঠাকেই ভাবছি মানুষ হয়ে ওঠা! কারণ পুরুষ হতে পারলেই আমি ক্ষমতাবান হতে পারব। পুরুষ রোল মডেল হওয়ায় এখন অনেক নারীও নির্যাতন করেন।

কারণ পুরুষও নির্যাতন করে। নির্যাতন কখনোই আকাক্সিক্ষত জায়গা না। নারীর ক্ষমতায়নের চর্চা করতে গিয়ে কিছু সংখ্যক নারী ‘পুরুষ’ হয়ে উঠেছে। সবাইকে ‘মানুষ’ হওয়া উচিত। তা হলে এ ধরনের ঘটনা কমে আসবে।

অসন্তোষ কাটিয়ে উঠছে সাত কলেজ

পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ নিয়ে গত ৩০ জানুয়ারি ‘সাত কলেজের দেখভালে ব্যর্থ ঢাবি প্রশাসন’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের রাজপথে নেমে নিয়মিত রুটিন ও পরীক্ষার দাবিতে আন্দোলনের কথাও তুলে ধরা হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, যেই লক্ষ্যে রাজধানীর সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার কথা বলেছিলেন সেই লক্ষ্য পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে।

সময়মতো রুটিন, পরীক্ষা ও ফলাফল না হওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে কলেজগুলোর কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর জীবন। মাঝে মধ্যেই সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা নানা দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামছে।

বছরের শুরুর দিকে প্রতিমঞ্চ যখন এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে তখন সাত কলেজ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনেকটাই হিমশিম অবস্থার মধ্যে থাকলেও বছরের শেষ দিকে এসে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে সম্ভব হয়েছে। তবে পরীক্ষার ফলাফল সময়মতো প্রকাশ না করায় কিছুদিন আগেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ-মানববন্ধন করেছে।

সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে ধর্ষণ

দেশব্যাপী হঠাৎ বেড়ে গেছে ধর্ষণের ঘটনা। ধর্ষকের লোলুপ দৃষ্টি থেকে বাদ যাচ্ছে না শিশু ও বৃদ্ধরাও। এমনকি রেহাই পাচ্ছেন না বাকপ্রতিবন্ধী বা ভবঘুরে পাগলও। অপসংস্কৃতি, আকাশ সংস্কৃতি, অশ্লীলতা, ঘুষ, দুর্নীতিসহ নানা কারণে দিনে দিনে সামাজিক অবক্ষয় আর অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি অশ্লীলতার আগ্রাসনে মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের অভাব ও সামাজিক অবক্ষয়ে ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে চরম নৈতিক অবক্ষয়, আকাশ সংস্কৃতি, মাদকের বিস্তার, বিচারহীনতা, বিচার প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা ও বিচারের দীর্ঘসূত্রতা। গত বছর প্রতি দিন গড়ে ১৪ জনের বেশি নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

আর ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিন জনের বেশি নারী। চলতি বছরেও পরিসংখ্যানটা সেদিকেই যাচ্ছে। খবরের কাগজ উল্টালেই ধর্ষণের খবর। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছেই। চলতি বছরের ১০ এপ্রিল ‘ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছেই’ শিরোনামে প্রতিমঞ্চ এক পৃষ্ঠার একটি পূর্ণাঙ্গ আয়োজন করেছিল।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের হিসাব অনুযায়ী চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৬৪৬ জন নারী। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছেন ৫৩ জনকে। আর যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৪১ জন নারী।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার মূলে রয়েছে মনস্তত্ত্ব, পিতৃতন্ত্র ও বৈষম্যমূলক আইন। ইতিহাস, দর্শন, শিক্ষা কারিকুলাম নারীর প্রতিকূলে। রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নও নারীর প্রতি সহিংসতার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। রাষ্ট্র আপসহীন না হলে এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ না করলে সমাজের ভেতরে এই অবক্ষয় রুখে দাঁড়ান যাবে না।

নিয়ন্ত্রণহীন ভোগ্যপণ্যের বাজার

সিয়াম সাধনার মাস রমজান। গোটা বিশ্বের মুসলমান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য দিনেরবেলা যাবতীয় পানাহার থেকে নিজেদের বিরত রাখেন। সেই সঙ্গে যাবতীয় অন্যায় ও পাপ কাজ থেকেও নিজেদের বাঁচিয়ে রাখেন।

দীর্ঘ এক মাস এই ত্যাগ ও ধৈর্যের অনুশীলনের পর আসে মুসলমানের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। প্রতি বছর এই পবিত্র মাস ও ঈদ উৎসবকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারে কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরি করে একটি মহল।

চলতি বছরও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম ছিল আকাশ ছোঁয়া। চলতি বছরের ২২ মে ‘রমজানে পণ্যের দাম বাড়ানোর মহড়া’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় প্রতিমঞ্চ পাতায়।

যেখানে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বড় বড় কয়েকটি শহরের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। এরপরের মাসে ৫ জুন ‘রমজানে ভেজালের জাল সারা দেশে’ শিরোনামে আরেকটি সংখ্যা বের করে প্রতিমঞ্চ। যেখানে খাদ্যদ্রব্যে, ফলমূলে রাসায়নিক মেশানোসহ নানাভাবে ভেজাল মেশানোর বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

প্রতি বছর রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির এ অসুস্থ প্রতিযোগিতা দেখতে দেখতে ক্রেতারাও এখন ক্রীতদাসের হাসিমুখে বাজার করে ফেরেন। প্রতি বছরের মতো এবারও সরকারের পক্ষ থেকে রমজানে বাজার স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা তেমন কাজে আসেনি। রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতারা দুই ধরনের দাম জানাচ্ছেন।

সক্রিয় মৌসুমি অপরাধীরা

প্রতিবারের মতো এবারও ঈদে সঠিক সময়ে বাস না ছাড়া, পরিবহন সংকট, টিকিটের উচ্চমূল্য, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল, যানজট, অতিরিক্ত যাত্রী বহনসহ হাজারও কষ্ট ভোগ করছেন ঘরমুখো মানুষ। এত ভোগান্তির মধ্যে মরার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছিল মৌসুমি অপরাধী চক্রের তৎপরতা।

চলতি পথে, মার্কেট-বাজারে অজ্ঞান পার্টি, থুথু পার্টি, ধাক্কা পার্টি, সালাম পার্টির সীমাহীন দৌরাত্ম্যে অসহায় সাধারণ মানুষ। উৎসবকেন্দ্রিক নানা ভোগান্তি নিয়ে ১৫ জুন ‘ঈদে সক্রিয় মৌসুমি অপরাধীরা’ শিরোনামে বিশেষ সংখ্যা বের করেছিল যুগান্তর।

যেখানে যানজট, ঈদ বকশিশের নামে হিজরাদের দৌরাত্ম্য, দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোর দুঃখ গাঁথা নিয়ে আলাদা আলাদা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গত ঈদে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান এবং ঈদকে ঘিরে পুলিশের কড়া নিরাপত্তার কারণে অপরাধ ছিল তুলনামূলক কম।

বিজ্ঞাপনেই ফোর-জি বাস্তবে বাফারিং

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশে ক্রমেই ইন্টারনেট সেবার প্রসার হচ্ছে। গ্রামগঞ্জে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সেবা চালু হয়েছে। তবে মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ লক্ষ করা যায়।

দেশে ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধি করতে ২০১৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থ্রিজি সেবা চালু করা হলেও এখনও রাজধানীর বাইরে এ সেবা ঠিকমতো পাওয়া যায় না। সেখানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশে ফোর-জি সেবা চালু হল। নামেমাত্র চালু করা ফোর-জি সেবা সীমাবদ্ধ থেকে যায় বিজ্ঞাপনেই। গ্রাহকদের মধ্যে সৃষ্টি হয় অসন্তোষ।

বেশ কয়েকটি অপারেটর ফোর-জি সেবা চালু করার কথা জানাচ্ছে। তবে গ্রাহকরা তাদের মুঠোফোনে ফোর-জি লেখা দেখতে পেলেও বাফারিং মুক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন না বলেই জানিয়েছেন।

এ নিয়ে ১৩ মার্চ ‘থ্রি-জির খবর নেই আবার ফোর-জি’ শিরোনামে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রতিমঞ্চ। প্রতিবেদনটি ভুক্তভোগী গ্রাহকদের কাছে ব্যাপক পঠিত হয়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, বর্তমান বিশ্বে ১৮০টি দেশে ফোর-জি চালু আছে।

তাতে গড় গতি ১৬.৬ এমবিপিএস। সবচেয়ে গতি বেশি আছে সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ায় যথাক্রমে ৪৬.৬৪ ও ৪৫.৮৫ এমবিপিএস। এছাড়া নরওয়ে হাঙ্গেরিতে ৪২ এমবিপিএস। তবে বাংলাদেশের প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টারনেটের বর্তমান গতি সে তুলনায় খুবই কম। বিটিআরসির তথ্যমতে দেশে ইন্টারনেটের গড় গতি ২.১ এমবিপিএস বা তারও কম।

আতঙ্ক ছড়িয়েছে টানা পার্টি

রাজধানী ও দেশের জনবহুল প্রধান শহরগুলোয় ছিনতাই বা ছোঁ মেরে লুটের ঘটনা নতুন কিছু নয়। নব্বইয়ের দশক থেকেই কমবেশি ছিনতাই হয়ে আসছে। বছরের শুরুর দিকে রাজধানীতে টানা পার্টির তৎপরতা বাড়ার খবর ভীতি ছড়িয়েছিল নগরবাসীর মনে। গত ১৩ ফেব্র“য়ারি ‘নগরে ও শহরে টানা পার্টির আতঙ্ক’ শিরোনামে এক পাতার বিশেষ প্রতিবেদন ছাপায় প্রতিমঞ্চ।

প্রতিবেদনে রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু ছিনতাইকবলিত এলাকার কথা তুলে ধরে বলা হয়, ওঁৎ পেতে থাকা টানা পার্টির খপ্পরে পড়ে অনেকেই প্রয়োজনীয় টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান কাগজপত্র হারাচ্ছেন। রাজধানীর দয়াগঞ্জে ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে মায়ের কোল থেকে শিশু মৃত্যু এবং রাজধানীর ধানমণ্ডিতে টানা পার্টির ব্যাগ টানাটানিতে তাদেরই মাইক্রোর চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এক নারী।

এছাড়া প্রতিনিয়ত রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে টানা পার্টির খপ্পরে পড়ে মোবাইল, ল্যাপটপ, ব্যাগ, স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় মূল্যবান জিনিসপত্র হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়লেও টানা পার্টির দৌরাত্ম্য কমেনি। পুলিশ বলছে, টানা পার্টির ৯৮ শতাংশ সদস্যই মাদকসেবী। ওই সংখ্যায় একজন অপরাধ বিজ্ঞানী ও একজন সমাজবিজ্ঞানীর মতামতও তুলে ধরা হয়।

পাশাপাশি রাজধানীতে হিজড়া ও বেদে সম্প্রদায়ের চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়েও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ‘হিজড়া চাঁদাবাজদের অসহনীয় দৌরাত্ম্য’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় রাস্তাঘাটে, শপিংমলে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, ফুটপাতে কোথায় নেই তাদের দৌরাত্ম্য? এমনকি বাসা-বাড়িতে, বিয়ে অনুষ্ঠানে কিংবা যে কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠানেও তাদের উৎপাত দিন দিন বাড়ছেই।

খেলা নিয়ে জুয়া

দেশের সব শ্রেণীর মানুষের আবেগের নাম ক্রিকেট। সাকিব-তামিমরা খেললে মাঠে গিয়ে খেলা দেখার পাশাপাশি ১৬ কোটি মানুষ তাকিয়ে থাকে টিভি পর্দার দিকে। অনেকে আবার ইন্টারনেটে স্কোর দেখেন বা রেডিওতে শোনেন ধারা বিবরণী।

কিন্তু এক ধরনের অসাধু চক্র মানুষের আবেগ-ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়তই ফলাফল নিয়ে হাজার হাজার টাকার বাজি, ওভার বাজি, রানবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের জুয়া খেলছে। এ জুয়াবাজির ফাঁদে পড়ে অনেকেই হয়ে যাচ্ছে সর্বস্বান্ত। টাকার লেনদেন নিয়ে অনেক সময়ই ঘটছে নানা ধরনের বিপত্তির ঘটনা। ভয়ঙ্কর এ জুয়া ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে।

গত ১ মে ‘আইপিএল নিয়ে রমরমা জুয়ার পসরা’ শিরোনামে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর আগেও খেলাকে কেন্দ্র করে জুয়াবাজি নিয়ে সংখ্যা বের করেছিল প্রতিমঞ্চ। সাময়িকভাবে হস্তক্ষেপ নিলেও দেশব্যাপী জুয়াবাজি চলছেই। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বাজিকররা মাঠে গিয়ে বাজি ধরেন; কিন্তু আমাদের দেশে এক ধরনের জুয়াড়ি আছেন যারা বাজি ধরেন টিভির স্ক্রিনে খেলা দেখে।

আজকাল একটু ভালোভাবে খেয়াল করলেই দেখা যায়, যখন কোনো ধরনের খেলা চলে বিশেষ করে টি-২০ কিংবা একদিনের ম্যাচ হলে তো কথাই নেই, জটলা বেঁধে যায় মোড়ের ছোট দোকানগুলোতে। জুয়াড়িদের এ নতুন ধান্দায় বাদ নেই নগরীর অভিজাত এলাকাগুলো। ধনীর দুলালরা বাজি ধরেন বিভিন্নভাবে। অভিজাত হোটেলে গিয়ে তাদের বাজি ধরার ধরনও কিছুটা ভিন্ন এবং অবশ্যই ‘বিগ বাজেট’।

বিভিন্ন ম্যাচ ঘিরে জুয়াড়িদের এ তৎপরতা দেখা যায় গ্রাম-বাংলাতেও। প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন মোড়ের দোকানগুলোতে চলে এসব জুয়ার বাজি। দলগত হার-জিত নির্ধারণ ছাড়া পাশাপাশি চলে ওভার বা ‘বল বাই বল’ বাজি। শুরু হয়েছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় ঘরোয়া আসর অস্ট্রেলিয়ান প্রিমিয়ার লীগ বিগব্যাশ। এ আসরকে ঘিরেই তৎপড় হচ্ছেন জুয়াড়িরা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×