প্রতি বলেই নিঃস্ব হচ্ছেন কেউ না কেউ

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) নিয়ে সারা দেশে চলছে ক্রিকেট জুয়ার উৎসব। শুধু ক্লাব পাড়া আর অনলাইনেই নয় এ জুয়া ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামে মহল্লায় মহল্লায়। মাঠে হচ্ছে খেলা আর মাঠের বাইরে সেই জুয়া নিয়ে ঘটছে সহিংস ঘটনাও। জুয়ার ফাঁদে পড়ে অনেক সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হচ্ছেন।

জানা গেছে, মাঠের খেলা টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করার সময় ৯ থেকে ১০ সেকেন্ডের একটি গ্যাপ তৈরি হয়। অর্থাৎ মাঠে একটি বল হয়ে যাওয়ার অন্তত নয় সেকেন্ড পর তা টিভিতে দেখা যায়। এ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই জুয়ায় জড়িয়ে পড়েন জুয়াড়িরা। কর্মস্থলে কাজ করলেও তাদের নিজস্ব লোক থাকছে মাঠে। মোবাইল ফোনে সাংকেতিক ভাষায় এসএমএস দেয়া নেয়া চলছে। চায়ের দোকান, সেলুন, বাসা বাড়ি, অফিস কোথায় নেই এই বিপিএল জুয়া। তবে ক্রিকেট বাজির বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রিত হয় ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে, যা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়। বিপিএল এর সময় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অনলাইনে ডলার বেচা-কেনার হিড়িক পড়ে যায়। যদিও ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা কিছু সাইট বন্ধ করেছে। তবুও জুয়াড়িরা প্রক্সি সার্ভার দিয়ে বিভিন্ন সাইটের মাধ্যমে এসব সাইটে জুয়া খেলে যাচ্ছেন। প্রিয় দল, প্রিয় খেলোয়াড়, নিজের অঞ্চল এসব পুঁজি করে বিপিএল এখন জুয়াড়িদের জুয়ার মৌসুম। দলের সক্ষমতা অনুযায়ী বাজির টাকা ওঠা-নামা করছে। প্রতি বলে নিঃস্ব হচ্ছেন কেউ না কেউ আবার কারো বা মুখে হাসি। রাজধানীর প্রতিটি মার্কেটে গেলেই বিপিএল জুয়া নিয়ে শতশত নিঃস্ব হয়ে যাওয়া মানুষের গল্প পাওয়া যায়। বিশেষ করে উঠতি বয়সের কর্মচারীরা এ জুয়ায় বেশি আসক্ত। নিউ মার্কেট, চন্দ্রিমা, চাদনী চক মার্কেটের কয়েকজন দোকান মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। তারা খেলা চলাকালীন কর্মচারীদের প্রতি বেশি মনোযোগ দেন। কারণ এ সময় টাকার জন্য তার নানা ধরনের অনিয়ম করে। কর্মচারীর চাকরি খোয়া যাচ্ছে এ খেলাকে কেন্দ্র করে।

মার্কেটগুলোতে আগে শখ করে মালিকপক্ষ খেলা দেখার জন্য দোকানেই টেলিভিশন আনতেন। এখন বেশির ভাগ দোকানে টেলিভিশন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অনেক দোকানে খেলা চলাকালীন মোবাইল ফোনে খেলার স্কোর জানা বা শোনা নিষিদ্ধ। তারপরও থেমে নেই। এ জুয়ার নিয়ে চালু হয়েছে নানা সাংকেতিক শব্দ। আর এই শব্দগুলো দিয়েই জুয়াড়িরা জুয়া চালাচ্ছেন। নিউ মার্কেটের ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান বলেন, এ ক্রিকেট নয় জুয়ার মৌসুম, জুয়ার উৎসব। আমরা খুবই বিরক্ত এবং হতাশ। জুয়ায় যে আমাদের কর্মচারীরা আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাই নয়, সংঘাত বাড়ছে। ব্যবসায় মন্দ প্রভাব পড়ছে। এ জুয়া নিয়ন্ত্রণে সামাজিক আন্দোলন দরকার এবং সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এই জুয়াকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের ব্যবসা। কেউ স্বল্প সময়ের জন্য চড়া সুদে ঋণ দেয়ার ব্যবসা করে। কেউ কেউ আবার কমিশন ব্যবসা করে। কেউ আবার জুয়ার টাকার জিম্মাদার। প্রথম দিকে ক্রিকেটের এ জুয়া কিছুটা প্রকাশ্যই ছিল। কিন্তু এখন তা কিছুটা গোপনেই হয়। তবে পাড়া-মহল্লা, মার্কেটে সবাই জানে কে জুয়া খেলে, কে এজেন্ট। আর জুয়াড়িরাও তাদের কাজে বৈচিত্র্য এনেছে। মোবাইল ফোনে, ফেসবুকসহ নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংকেতিক ভাষায় এ জুয়া চালাচ্ছে।

বাংলাদেশে যে কোনো জুয়া বা বাজি ধরা নিষিদ্ধ। বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয় আইন (১৮৬৭ সালে প্রণীত) অনুযায়ী, যে কোনো ঘর, স্থান বা তাঁবু জুয়ার আসর হিসেবে ব্যবহৃত হলে তার মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী, জুয়ার ব্যবস্থাপক বা এতে কোনো সাহায্যকারী তিন মাসের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। পাড়ায় পাড়ায় ছড়িয়ে পড়া এ ক্রিকেটে জুয়া আইনিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। আর ক্রিকেটে জুয়া নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো আইন না থাকায় জুয়াড়িদের ধরেও কিছু করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্রিকেট বেটিং বা স্পোর্টস জুয়া প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রণয়ন, অনলাইন বেটিং সাইট বন্ধ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের এই সংক্রান্ত সচেতনতায় এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে কঠোর ও কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে। এভাবে ক্রিকেট জুয়ার প্রভাব বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের যে সুন্দর ভাবমূর্তি আছে, তা নষ্ট হবে এবং ক্রিকেট তার সৌন্দর্য হারাবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×