প্রক্সি সার্ভারে বেটিং সাইট

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

অনেক আগেই বাংলাদেশে খেলাধুলা বিষয়ক অনলাইনে জুয়া খেলার ১২টি সাইট বন্ধ করেছিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সূত্র বলছে, মূলত পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর যৌথ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বেটিংয়ের বেশকিছু সাইটে সহজেই ঢোকা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি ও সোশ্যাল মিডিয়া স্পেশালিস্ট অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, জুয়াড়িরা সামনাসামনি বাজি ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়েবসাইটেও তৎপর রয়েছেন। যেসব সাইটের বিষয়ে তথ্য পেয়েছি সেসব বন্ধের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও সাইটগুলোর ওপর সাইবার নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তবে অনেকেই প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করে এসব সাইট ভিজিট করছেন। কিছু সাইট সচলের যে অভিযোগ এসেছে, আমরা সেসব বেটিং সাইটের নাম সংগ্রহ করছি। সাইটগুলো ফের বন্ধের জন্য বিটিআরসি’র কাছে অনুরোধ করবো।

জানা গেছে, জুয়াড়িরা টাকা ছাড়াও বিভিন্ন দেশের অন্তত ২৮টি বৈদেশিক মুদ্রায় আর্থিক লেনদেন করছে। বাজিকররা পেপাল, পেওনিয়ার, মাস্টার, ডেবিট ও ক্রেডিটসহ বিভিন্ন দেশের অনলাইনভিত্তিক কার্ডে অর্থ লেনদেন করছে।

বন্ধ করা সেই ১২টি সাইট হচ্ছে- বেট ৩৬৫ ডটকম, ৮৮ স্পোর্টস ডটকম, রেবটওয়ে ডটকম, বেটফ্রিড ডটকম, ডাফাবেট ডটকম, বেটফেয়ার ডটকম, ইউনিবেট ডটকম, বেট ভিক্টর ডটকম, নেটবেট ডটকম, টাইটানবেট ডটকম, উইনার ডটকম ও পেডি পাওয়ার ডটকম। তবে কিছু কিছু সাইটে ইদানিং প্রবেশ করা যাচ্ছে।

এদিকে ক্রিকেট নিয়ে জুয়া খেলার ১২টি ওয়েবসাইট বাংলাদেশে বন্ধ করে দেয়া হলেও প্রক্সি সার্ভার দিয়ে এখনও ওই সাইটগুলোতে ঢোকা যাচ্ছে এবং জুয়া খেলাও অবাধে চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিটিআরসি সাইটগুলো বন্ধ করার ফলে প্রথমে অনলাইনকেন্দ্রিক জুয়াড়িরা কিছুটা সমস্যায় পড়েছিল। তবে দ্রুতই বিকল্প হিসেবে প্রক্সি সার্ভারের ব্যবহার শুরু হয়। ফলে জুয়াও চলেছে সমানতালে।

ক্রিকেট বোর্ডের একটি সূত্র বলছে, তরুণ প্রজন্ম অনলাইনে জুয়া খেলায় ঝুঁকে পড়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ একটি ভীতিকর পরিস্থিতির দিকে এগুচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নেয়া হলে ভবিষ্যতে উঠতি তরুণরা আরও বেশি সংখ্যায় বিপথগামী হবে।