বাসাবাড়ি আর হোটেল রেস্টুরেন্টে গ্যাস সিলিন্ডারের ঝুঁকি

প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মো. বিল্লাল হোসেন

রাজধানীর মানুষের নিত্যদিনের সমস্যা গ্যাস সংকট হওয়ায় রান্নার বিকল্প জ্বালানি হিসেবে প্রতিনিয়ত বাড়ছে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ব্যবহার। বিশেষ করে নতুন বাসা বাড়িতে তিতাস কর্তৃক গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় এলপিজির ব্যবহার দিগুণ হয়েছে।

যদিও অনেক বাসা ও খাবার হোটেলে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম না মেনেই ব্যবহার করছে। নেই কোনো অগ্নিনির্বাপনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। ফলে ঘটছে প্রায়ই গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ৮ চামেলীবাগ প্যারাডাইস খাদিম নিবাস নিচতলায় ১৬টি গ্যাস সিলিন্ডার রাখা, দশতলা পুরো ভবন জুড়ে নেই কোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। ছয়টি সিলিন্ডার এমন স্থানে রাখা যেখানে বাসায় চলাচলে নেই কোনো সুবিধা। দায়িত্বরত ম্যানেজার বলেন, ‘এ ভবনের কোথাও কোনো অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই’। একাধিকবার চেষ্টা করে ভবন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

১৫ কাকরাইল কর্ডোভা স্কার্লেট অ্যাপার্টমেন্টে পায়নি গ্যাস সংযোগ। এখানের সব বাসিন্দা এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করেন, নিচতলায় ১০টি ছোট-বড় সিলিন্ডার সারিবদ্ধভাবে রাখা, প্রত্যকটিতে সংযোগ দিয়ে ফ্লাটে গ্যাস নেয়া হয়েছে। একটি বিস্ফোরণ হলে সারিবন্ধভাবে সব বিস্ফোরণ ঘটবে। এখানেও নেই কোনো অগ্নিনির্বাপকের ব্যবস্থা। বাসায় সিলিন্ডার ব্যবহার করেন মো. রুহুল আমিন। পরীক্ষিত গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিলিন্ডার মেয়াদোত্তীর্ণ কিনা আমরা কখনও দেখি না। সিলিন্ডারের গ্যাস শেষ হলে ফোন করি দোকানদার নিজেই দিয়ে দেয়।

ফকিরাপুল রাঁধুনী বিলাস রেস্তোরাঁতে চুলার সঙ্গে রেখেছে গ্যাস সিলিন্ডার। এখানে নেই কোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, চুলার সঙ্গে গ্যাস সিলিন্ডার রাখায় আগুনের তাপে যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। ইনার সার্কুলার রোড ক্যাফে ডায়মন্ড রেস্তোরাঁয় খাবার টেবিলের নিচে শুয়ে রেখে দিয়েছে গ্যাস সিলিন্ডার।

শান্তিনগর বাজারে আমিনা রেস্টুরেন্ট, মাটির চুলা ঘেঁষে রাখা হয়েছে সিলিন্ডার, চুলা থেকে গ্যাস সিলিন্ডারের দূরত্ব মাত্র এক গজের সমান। অগ্নিনির্বাপণের জন্য নেই কোনো ব্যবস্থা। তার পাশের দোকান জুস বার, রিযিক ক্যাপে, জাজাকাল্লাহ ও স্টার বিরিয়ানিতে ঝুঁকি নিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার হচ্ছে।

বিস্ফোরক অধিদফতরের প্রধান বিস্ফোরক পরির্দশক মো. সামসুল আলম বলেন, ১০টা পর্যন্ত সিলিন্ডার নিজেদেরও ব্যবহারের জন্য রাখতে পারে। দশ-বিশটা সিলিন্ডার একসঙ্গে বান্ডেল করে একটি পাইপ দিয়ে বিভিন্ন ফ্লাটে গ্যাস সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে একটা লাইসেন্স নিতে হয়। তবে সব সিলিন্ডার একসঙ্গে না রেখে নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখা, বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা এবং অগ্নিনির্বাপকের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড ডিফেন্সের ওয়ারহাউস ও ফায়ার প্রিভেশনের সহকারী পরিচালক মো. ওহিদুল ইসলাম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বাসা-বাড়িতে একসঙ্গে এতগুলো গ্যাস সিলিন্ডার রাখা ঠিক না, প্রয়োজন হলে ভাগ ভাগ করে রাখতে হবে। আগুন নিভানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে, তার জন্য দশ ইঞ্চি আরসিসি ঢালাই ওয়াল থাকতে হবে যাতে ব্রাস্ট হলে আশপাশে ছড়িয়ে না যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিস্ফোরক একটা আইন আছে, সিলিন্ডারগুলো ঠিকমতো পেশার মেপে গ্যাস ভরছে কিনা, গ্যাস ভরার আগে সেটি টেস্ট করতে হবে টেস্টিং রিপোর্ট পাওয়ার পর গ্যাস ভরতে হবে। কোম্পানিগুলোর একটা দায়বদ্ধতা আছে।

জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এলপিজি সিলিন্ডার আমদানি হয়েছে ৩৯ লাখ ৬৪ হাজার ৭২৮টি। আর দেশে তৈরি হয়েছে ১১ লাখ চার হাজার ৩৩৫ সিলিন্ডার। গত পাঁচ বছরে বোতলজাতকরণ হয়েছে এক কোটি ২৩ লাখ সিলিন্ডার। নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসব সিলিন্ডার অনুমোদন ও ব্যবহার বিধি প্রচার করে বিস্ফোরক পরিদফতর।