বিশেষজ্ঞ অভিমত

ডাকসু নির্বাচন কেমন হল

ডাকসু নির্বাচনে এবার যারা অংশ নিয়েছেন এবং ভোট দিয়েছেন তাদের অনেকেরই জন্মেরও আগে সর্বশেষ এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে নির্বাচন ঘিরে এক আলাদা কৌতূহল জেগেছিল এই প্রজন্মের মাঝে। বহুল প্রতীক্ষিত সেই আশার নির্বাচন কেমন হল? তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েছেন-

  সাইফুল ইসলাম খান ১৯ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

২৮ বছর পর মামলা-মোকাদ্দমা পেরিয়ে হলেও নির্বাচন যে হল এটি একটি ভালো খবর। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসাহ ছড়াতে পারে নাই, কেননা একাধিপত্য ছিল। অন্যদের দাবিগুলো মানা হয়নি। ভোট কেন্দ্র হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে করার দাবি মানা হয়নি। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স কেন নেয়া হল না, সেটিও বোঝা গেল না। ভোট দেয়ার সময়টাও কেন বাড়ানো হল না, এটি বোধগম্য হল না। ছাপ দেয়া ব্যালট পাওয়া গেল, এগুলো তো খুবই অপ্রত্যাশিত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পরিচালনায় এ নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। যেভাবে হওয়া উচিত ছিল, সেভাবে হয়নি। তবে নির্বাচন যে শুরু হল, এটি ভালো লক্ষণ। আমার প্রত্যাশা থাকবে, এ নির্বাচন প্রতি বছর হয় এবং আগামীতে আরও ভালো ও স্বচ্ছভাবে (নির্বাচন) অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাবি কি শুধু রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে বিখ্যাত হবে

ড. তোফায়েল আহমদ, নির্বাচন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ

বাংলাদেশে এখন যে রাজনীতির প্রেক্ষিত, যেখানে দেশের সাধারণ নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত সেখানে ক্যাম্পাসে যদি একটি স্বাভাবিক পরিবেশ থাকত তবে নির্বাচন একটা হতে পারত। কিন্তু এখন তো স্বাভাবিক পরিবেশ নাই। ওখানে আপনি কি আশা করবেন? এই যদি পরিস্থিতি হয় তাহলে এ নির্বাচনের কোনো অর্থ নেই। বর্তমানে আমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন যে পদ্ধতিতে হচ্ছে তার বিরোধী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি কোনো সুফল বয়ে আনবে না। জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কি শুধু রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে বিখ্যাত হবে? নাকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও অন্যান্য দিক আছে?

এটি একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হয়েছে

সুলতানা কামাল, টিআইবির চেয়ারপারসন ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

ডাকসু নির্বাচনে যারা অংশ নিয়েছেন তারাই একেক সময় একেক কথা বলছেন। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, এটি একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হয়েছে। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ধসে গেছে। ফলে এখন যে পর্যায়েরই নির্বাচন হোক না কেন তা স্বচ্ছ হয় না। সাধারণ মানুষের জানারই সুযোগ থাকে না কি হল, কিভাবে হল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও আমরা তেমনি একটি নির্বাচন দেখলাম। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচন নিয়ে এখনও কোনো তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ পায়নি। তেমন করে কিছু বলাও যাচ্ছে না। তবে এটি যে একটি বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে তা সবার সামনে পরিষ্কার হয়ে গেছে।

দলীয় ক্যাডার নন, তারা যে শিক্ষক সেটা অনেকেই ভুলে যান

মেসবাহ কামাল, ইতিহাসবিদ

২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হল। এটি একটি ইতিবাচক দিক। এতদিন কেন নির্বাচন হল না সেটি একটি প্রশ্ন। কিন্তু যেভাবে হল সেটি কাক্সিক্ষত ছিল না। নির্বাচনে যে পরিমাণ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তা হতাশাজনক। বলা হচ্ছে, অন্য সময় জাতীয় নির্বাচনে যেভাবে মিডিয়া ক্যু হয় এখানে সেভাবে হয়েছে ঘোষণা ক্যু। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব স্তরে দলীয় নিয়োগ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে তারা যে দলীয় ক্যাডার নন, তারা যে শিক্ষক সেটা অনেকেই ভুলে যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তো কোনো ইউনিয়ন কাউন্সিল নয়, ইউনিয়ন কাউন্সিলেও ভোটের কারচুপি গ্রহণযোগ্য নয়। সচেতনতার কেন্দ্রভূমি হিসেবে শিক্ষার্থীরা এ নির্বাচনকে মেনে নিতে চাইবে না এটাই স্বাভাবিক। নির্বাচন হল, এটি ভালো খবর। কিন্তু যেভাবে নির্বাচন হলে যথাযথ সুফল বয়ে আনবে সেটা হল না।

প্রশাসন সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছে

সৌমিত্র শেখর, নীল দলের শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রায় তিন দশক পর ডাকসু নির্বাচন করাটাই ছিল অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ। আমি মনে করি, বর্তমান সেশন এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন এবং তারা অত্যন্ত সফলভাবে এটি সম্পন্ন করতে পেরেছেন। তবে হ্যাঁ, একটি ছাত্রী হলে যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে সেটি আমাদের কারও কাছেই কাম্য ছিল না। এই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাকে বাদ দিলে বর্তমান প্রশাসন তিন দশকের স্থবিরতা ও জগদ্দল পাথরকে সরিয়ে গণতন্ত্রের ঝর্ণাধারা প্রবাহিত করতে পেরেছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×