জুয়া ক্রিকেটের জন্য কলঙ্ক

  শামিম হোসেন শিশির ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ম্যাচগুলো ঘিরে জুয়া খেলার বিষয়টি সারা দেশে ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়েছে সেটি কম-বেশি সবারই জানা। জুয়া খেলতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন অনেকে। আত্মহত্যা বা খুনের কথাও শোনা গেছে একাধিকবার। জুয়া খেলার বিষয়টি শুধু আইপিএলের ম্যাচকে কেন্দ্র করে নয়; কিছুদিন আগে শেষ হওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ম্যাচকে ঘিরেও অহরহ জুয়া খেলার ঘটনা জানা গেছে। ক্রিকেটের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগ বা আন্তর্জাতিক যে কোনো ম্যাচেই জুয়ার আসর বসিয়ে রাখে জুয়াড়িরা। এ জুয়া শুধু সমাজের নয়, ক্রিকেটেরও বহু ক্ষতি করেছে।

ক্রিকেটে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের যে ভয়ংকর কালো অধ্যায় সেটার কেন্দ্রবিন্দু এ জুয়া। জুয়ার হিসাব মেলাতেই ক্রিকেটার বা দলসংশ্লিষ্টদের ফিক্সিংয়ের প্রলোভন দেখানো হয়। এমন প্রলোভন বহু মহাতারকাকে গ্রাস করে বার বার কলঙ্কিত করেছে ক্রিকেটকে। যুগেযুগে ম্যাচ ফিক্সিংও ক্রিকেটের মধ্যে সেভাবে ঢুকে পড়েছে। বছরখানেক আগে পাকিস্তানের সাবেক কিংবদন্তি পেসার ও দলটির অনেকদিনের কোচ ওয়াকার ইউনূস বলেছিলেন, ‘ক্রিকেটে ভাইরাসের মতো ঢুকে পড়েছে ম্যাচ ফিক্সিং। এ ভাইরাস অপসারণ করা না গেলে একদিন হয়তো ক্রিকেটকেই ধ্বংস করে ফেলবে!’

নাক উঁচু জাত হিসেবে পরিচিত ক্রিকেটের উদ্ভাবক ইংরেজরা চেয়েছিল ক্রিকেট খেলাটা তাদের গোত্র-বর্ণের মধ্যে সীমিত থাক। শ্বেতাঙ্গ নয় বা তাদের চোখে নিচুদের মধ্যে ক্রিকেট ছড়িয়ে পড়ুক সেটা কখনোই মানতে চায়নি ইংরেজরা। সেই অবস্থান থেকে বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়া ক্রিকেটের উর্বরভূমি বনে যাওয়ার বিষয়টি বড় সাফল্যের। আর এ সাফল্যের সবচেয়ে বড় কলঙ্ক ম্যাচ ফিক্সিং।

ফিক্সাররা মার্জিত রুচির ভারতের মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, পাকিস্তানের সেলিম মালিকের মতো বড় তারকাদের ফাঁদে ফেলে বার বার এশিয়ার ক্রিকেটকে কলঙ্কিত করেছে। ২০১০ সালের ফিক্সিং কলঙ্ক পাকিস্তান ক্রিকেটকে একেবারে ধ্বংসের মুখেই ঠেলে দিয়েছিল। পেসার মোহাম্মদ আমিরকে আরেকজন ওয়াসিম আকরাম মনে করা হয়। সেই সময় ১৯ বছর বয়সী ছেলেটার সুইং আর নিয়ন্ত্রণ মুগ্ধ করছিল সবাইকে; কিন্তু ফিক্সিংয়ের কালো অধ্যায় ধ্বংসই করে দিয়েছে আমিরকে। জুয়াড়িদের প্রলোভন উপেক্ষা করতে পারেননি দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা তরুণ আমির। সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফদের সঙ্গে বাজিকরদের ফাঁদে পা দিয়েছিলেন তিনি। তারপর ইংল্যান্ডের একঘেয়ি ট্যাবলয়েড নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ডের এলোপাতাড়ি রিপোর্টের শিকার হন আমির, সালমান বা আসিফরা। এতে ভিত্তি নড়ে গিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেটের। সেই গ্লানি পাকিস্তান ক্রিকেট একা নয়, এশিয়ান ক্রিকেটকে এখনও বহন করতে হচ্ছে।

ফিক্সিং কলঙ্কের গ্রাস থেকে রক্ষা পায়নি বাংলাদেশও। বিশ বছরের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা বাংলাদেশের সাফল্যের পাল্লা খুব বেশি ভারি নয়। তবে সততার সুনাম ছিল। ফিক্সিংয়ের কালো থাবা সেই সুনাম ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। তর্কসাপেক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রতিভাবান ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলকে নিঃশেষ করে দিয়েছে এ ফিক্সিং। বিপিএলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রলোভন উপেক্ষা করতে পারেননি মোহাম্মদ আশরাফুলও। বাংলাদেশ তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বপ্রথম তারকাকে হারিয়েছে, সঙ্গে সততার সার্টিফিকেটও।

ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে আশরাফুলের সেই নিষিদ্ধ হওয়াতে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে। বিপিএল বন্ধই হয়ে পড়েছিল। আন্তর্জাতিকভাবেও বড় ধাক্কার মুখে পড়তে হয়েছিল। শুধু বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা ভারত নয়, ফিক্সিংয়ের কালো থাবা প্রতিনিয়ত কুরে কুরে খাচ্ছে ক্রিকেটকে। আর এ ভয়ংকর ফিক্সিংয়ের একমাত্র কারণ ক্রিকেট জুয়া। বন্ধ হোক ক্রিকেট জুয়া।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×