টঙ্গীর প্রতিটি মহল্লায় জুয়ার আসর

  মো. পলাশ প্রধান ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর মহানগরের প্রতিটি পাড়ামহল্লায় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) খেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় জুয়ার আসর। অভিযোগ রয়েছে আইপিএলকে কেন্দ্র করে জুয়ার মহোৎসবে পরিণত হয়েছে গাজীপুরের শিল্প নগরীর টঙ্গীতে। আইপিএলের প্রতিটি ম্যাচকে ঘিরেই মহানগরের বিভিন্ন স্থানে মুদি দোকান, সেলুন, হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্লাব ও ঘরে জুয়ার আসর বসছে। সচেতন নাগরিকরা বলেন, পুলিশ প্রশাসন ইচ্ছা করলে এ জুয়ার আসর বন্ধ করে দিতে পারে। প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় এক শ্রেণীর অসাধু লোক এ জুয়ার আসর করে আসছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, টঙ্গী বাজার, বৌ বাজার, জামাই বাজার, আরিচপুর পুরান পট্টি, শেরে বাংলা রোড, গাজীবাড়ি, মধুমিতা রোড, স্টেশন রোড তুরাগ স্ট্যান্ড, কামারপাড়া রোড, মিলগেইট, টিএন্ডটি, মরকুন, শিলমুন, ঝিন্নু মার্কেট, মিলগেইট, চেরাগ আলী, কলেজ গেট, হোসেন মার্কেট, এরশাদনগর (বাস্তুহারা), গাজীপুরসহ বোর্ডবাজার এলাকার প্রতিটি পাড়ামহল্লার মুদি দোকান, চায়ের দোকান, সেলুনের দোকান ও ঘরে প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) খেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হচ্ছে জুয়ার আসর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টঙ্গীর শেরে বাংলা রোড এলাকার এক স্থানীয় জানান, পুলিশ এসব দোকান থেকে দৈনিক মাসোহারা তুলছেন। এজন্যই এসব চা বা মুদি দোকানে জুয়ার আসর বসতে পারছে। তবে এসব দোকানের বিরুদ্ধে কথা বললে পুলিশ দিয়ে হয়রানিরও হুমকি দিয়ে থাকে অনেকেই।

জানা যায়, গাজীপুরে শুধু আইপিএল নয়; যে কোনো আন্তর্জাতিক ওয়ানডে, টেস্ট, টি-২০, বিপিএল, বিশ্বকাপ আসর, এমনকি দেশ-বিদেশের ঘরোয়া লীগের খেলা শুরু হলেই জুয়ার মহোৎসব শুরু হয়ে যায়। কোন দল জিতবে, কোন খেলোয়াড় কত রান করবে, কোন বোলার ক’টা উইকেট নেবে, উইকেট পড়বে কিনা, ৪ না ৬ রান হবে এমন অনেক বিষয় নিয়ে বাজি (জুয়া) ধরা হয়।

এ ধরনের জুয়ার খেলোয়াড়দের দু’ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত, যারা এক সঙ্গে কোনো দোকান, সেলুন, হোটেল বা ঘরে বসে জুয়া খেলে। এরা বাজি বা জুয়ার টাকা নগদ পরিশোধ করে। দ্বিতীয়ত যারা বাড়ি, অফিস বা অন্যত্র বসে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচিতদের সঙ্গে বাজি বা জুয়া খেলে। এ জুয়ার টাকা লেনদেন হয় বিকাশ ও অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। প্রথম ধরনের জুয়া ২০ টাকা থেকে দু’হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় জুয়া ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চলে।

এছাড়াও লোভের বশবর্তী হয়ে এমনকি দিনমজুর ও রিকশা চালকরাও জুয়া খেলছেন। এদের কেউ কেউ বাড়ির জিনিসপত্র বিক্রি ও সুদে ঋণ নিয়ে জুয়ায় অংশ নিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। বিভিন্ন পেশার মানুষ এ জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়লেও শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি লক্ষ করা যায়। মূলত তরুণদের মধ্যেই জুয়ার আসক্তি সবচেয়ে বেশি।

গাজীপুরের টঙ্গীর তিস্তাগেইট রোডের এলাকায় আব্দুস সালামের দোকান। দোকান পরিচালনা করেন সালামের স্ত্রী দুলু বেগম। দুলু বেগম বলেন, আইপিএল খেলা না ছাড়লে আমার দোকানের মালামাল চলবে না। আমি বাধ্য হয়ে খেলা শুরু হলেই টিভি ছাড়ি। এতে করে যদি আমাকে পুলিশ নিয়ে যায় তাহলে কী আর করার আছে। টিভিতে খেলা শুরু হলে আমার দোকানে একটু ভিড় হয়। তাতে দোকান একটু ভালো চলে। এখন পর্যন্ত পুলিশ বাধা দেয়নি।

এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, খুব গোপনে ও কৌশলে এ জুয়া চলায় জড়িতদের গ্রেফতার করা খুব কঠিন। তারপরও পুলিশ এ ব্যাপারে ব্যাপক তৎপর রয়েছে। আইপিএল জুয়া শুধু টঙ্গীতেই নয়, পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×