সাঁড়াশি অভিযানের পরও থেমে নেই মাদক ব্যবসা

মাদকের অপব্যবহার, অবৈধ পাচার প্রতিরোধে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, বাংলাদেশ বর্ডারগার্ড, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড যৌথভাবে কাজ করছে। এরপরও অবৈধ মাদকদ্রব্যের ব্যবসা বা চোরাচালানের মাধ্যমে সহজে ধনী হওয়ার পেছনে ছুটছে অনেকেই। লিখেছেন-

  রীতা ভৌমিক ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাদক ব্যবসা

কক্সবাজার জেলার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী টেকনাফের টেকনাফ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ১৬ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের কাছে পুলিশের তালিকাভুক্ত ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করেন। ইয়াবা গডফাদারদের তালিকায় ৭৩ জনের নাম থাকলেও এর সংখ্যা আরও বেশি। তাদের মধ্যে আত্মসমর্পণ করেছে মাত্র ৩০ জন।

এ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ৩ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা জমা পড়ে। জমা পড়েছে ৩০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ৭০টি তাজা কার্তুজ। আনুষ্ঠানিকভাবে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এ আত্মসমর্পণের পরও থেমে নেই ইয়াবা পাচার। পুলিশ প্রশাসন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তদন্তে বেরিয়ে আসছে ইয়াবা পাচারের আরও নতুন নতুন তথ্য। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা ইয়াবা পাচারে জড়িত হচ্ছে। মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পথে এখনও দেশে প্রচুর সংখ্যক ইয়াবা ঢুকছে। ইয়াবা কারবারি ও বাহকের মাধ্যমে তা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ইয়াবা কারবারি ও পাচারকারীদের তালিকাও তৈরি করেছে। এতে টেকনাফের সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদি ও তার পরিবারের নাম উঠে এসেছে। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের অধিকাংশই আত্মসমর্পণ করেছে। এরপরও ইয়াবা আমদানির সঙ্গে জড়িত অনেক ব্যক্তি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

চলতি বছরের মার্চে টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে মিয়ানমার যাওয়ার পথে সীমান্তে নাফ নদীর পাড়ে বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ৬ রোহিঙ্গা মাদক পাচারকারী মারা যায়। টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১৮ রোহিঙ্গা ইয়াবা বহনকারী মিয়ানমার থেকে পাকস্থলীতে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। কক্সবাজারের টেকনাফ মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের হাতে ১৮ রোহিঙ্গা ধরা পড়ে। গোপন সূত্রের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন আচরণের কারণে তাদের ধরা হয়। এক্স-রেতে তাদের পাকস্থলীতে ইয়াবা ধরা পড়ে।

ইয়াবা বহনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে তারা পাকস্থলীতে ঢুকিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে দেয়। শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের অধিকাংশই আত্মসমপর্ণ করেনি। আটকও হয়নি। যারা আত্মসমর্পণ করেছে, কারাগারে রয়েছে। তাদের হয়ে অন্যজন ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। ইয়াবা ব্যবসা চলমান রাখছে। তবে উদ্ধার অভিযানের তৎপরতায় পুলিশ মাদক সংশ্লিষ্ট ২২ হুন্ডি ব্যবসায়ীর নামের তালিকা পেয়েছে। এরা দুবাই, সিঙ্গাপুর ও ভারতে ইয়াবার টাকা পাচার করছে। পুলিশি তৎপরতার কারণে অনেকে আত্মগোপনে চলে গেছে। শুধু মাদক বহনকারীরাই পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মাদক উদ্ধার অভিযানে ধরা পড়ছে।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, দশ বছর ধরে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কক্সবাজার জেলায় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে ১ হাজার ১৫১ জনের নাম পুলিশের তালিকায় রয়েছে। তাদের মধ্যে ইয়াবা ব্যবসায়ী ১০২ জন আত্মসমর্পণ করেছে। ৮১ জন বিভিন্ন সময়ে মারা গেছে। ৩৫০ জন গ্রেফতার হয়েছে। আত্মসমর্পণ এবং উদ্ধার অভিযান চালানোর আগে লাখ লাখ পিস ইয়াবা ধরা পড়ত।

এখন উদ্ধার অভিযানের কারণে ইয়াবা পাচারকারীরা পাচারের কৌশল পরিবর্তন করে মানুষের পাকস্থলীতে ভরে ইয়াবা পাচার করছে। ইয়াবা পাচারকারীদের অনেকেই এই দুঃসাহস দেখাচ্ছে। তাদের শরীর স্ক্যানিং করায় ইয়াবা ধরা পড়ছে। ক্রমাগত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়ায় ইয়াবা বাহকরা ধরা পড়ছে। এভাবে কঠোর উদ্ধার অভিযান চলমান রাখলে একসময় ইয়াবা পাচার থেমে যাবে। আমরা সবাই মিলে ইয়াবা পাচার বন্ধ করতে পারব আশা রাখছি।

রাঘববোয়ালরা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে মাদকবিরোধী অভিযানে যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের মধ্যে অধিকাংশই বহনকারী এবং মাদকসেবী। বাকিরা মাদক ব্যবসায়ী হলেও মূলত তারা খুচরা বিক্রেতা। খুচরা মাদক ব্যবসায়ীদের অধিকাংশই মাদক সেবন করে থাকে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রমণ রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের আর্থিক সহায়তায় ২০১৭ জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পরিচালক ফারুক আলমের নেতৃত্বে পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এই সমীক্ষাটি পরিচালনা করেন। দেশের সাতটি বিভাগের ৭ বছরের ঊর্ধ্বে ১৯ হাজার ৬৬২ জনের ওপর বাংলাদেশে মাদক ব্যবহারের প্রকোপ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ের ওপর সমীক্ষাটি পরিচালিত হয়।

এ সমীক্ষায় জানা যায়, মাদক ব্যবহারকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৬ দশমিক ৮০ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪ দশমিক ৯০ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ১৩ দশমিক ৯০ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে ৭ দশমিক ১০ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ এবং বরিশাল বিভাগে ৪ দশমিক ১০ শতাংশ। এ সমীক্ষায় দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সর্বোচ্চ এবং বরিশাল বিভাগে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সর্বনিম্ন।

মাদকের ধরন অনুযায়ী গাঁজা ৮২ দশমিক ৯০ শতাংশ, অ্যালকোহল ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, ইয়াবা ১৫ দশমিক ২০ শতাংশ, অপিয়ড ৫ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং ঘুমের ওষুধ ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ ব্যবহার করে থাকে। ৪ দশমিক ৮ শতাংশ পুরুষ এবং দশমিক ৬ শতাংশ নারী মাদক ব্যবহার করে। বয়স অনুসারে ৭ থেকে ১৮ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে মাদক ব্যবহারের হার শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ। ১৮ বছর বা এর ঊর্ধ্ব বয়সী মানুষের মধ্যে মাদক ব্যবহারের হার ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এ সমীক্ষায় দেখা যায়, গাঁজা, অ্যালকোহল এবং ইয়াবা ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি। তার মধ্যে পুরুষ মাদক সেবনকারীর সংখ্যা বেশি।

শিশু-কিশোর-কিশোরীদের মাদক বেচাকেনা ও ব্যবহারে সম্পৃক্ততা বাড়ছে ঢাকার গ্রিন রোডের রাস্তায় ১০-১২ বছরের একটি মেয়েকে জাপটে ধরে টানাটানি করছিলেন কয়েকজন। কয়েকদিন পর তাকে রাস্তায় দেখে বাড়িতে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছিলেন তারা। কিন্তু মেয়েটি কিছুতেই বাড়িতে যাবে না। তাদের হট্টগোল, হুড়োহুড়িতে রাস্তায় জটলা তৈরি হয়। মেয়েটিকে মাদকাসক্ত অবস্থায় একটি শিশুর দলে পাওয়া গেছে। মেয়েকে খুঁজে পাওয়া গেছে এ সংবাদ শোনামাত্র পাশের বস্তি থেকে ছুটে আসেন ওর বাবা-মা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেয়েটির মা বলেন, মেয়ে নেশা করে। কীভাবে নেশায় জড়াইল বুঝতে পারি নাই। চোখে চোখে রাইখাও ঘরে রাখতে পারতাছি না। মাঝে মাঝে ঘর থাইক্যা পালাইয়া যায়। কই যায়, কোথায় থাকে জানি না। কয়েকদিন খোঁজখবর কইর‌্যা খুঁইজ্যাও পাই না। পরিচিত লোকের নজরে পড়লে আমারে খবর দেয়। আইজও তাই হইছে। এই রাস্তায় দেইখ্যা লোকজন আমারে খবর দিছে। খবর শোনামাত্র ছুইট্যা আসছি। মেয়েরে মারধর করলেও কাজ হয় না। কোনো কথা কয় না। স্কুলে যায় না। ওদের ভালো রাখার জন্য মাইনষের বাড়ি কাজ করি। কিন্তু মেয়েটা লেখাপড়া শিখা মানুষ হওয়ার বদলে আজেবাজে পোলাপাইনের সাথে মিশ্যা নষ্ট হইয়া গেল। এই মেয়েরে নিয়া কই যামু। কি করুম জানি না।

শিশু-কিশোর-কিশোরীরা মাদকাসক্ত হচ্ছে, মাদক বেচাকেনায় সম্পৃক্ত হচ্ছে। মাদক সেবন করিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবহার করছে। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, পাঠ্যপুস্তকে মাদকবিরোধী বিষয় সংযুক্ত করা হলে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে।

মাদকের পরিমাণ, মামলা

ও আসামির সংখ্যা

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ বর্ডারগার্ড, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য মামলা, আসামি ও উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের এক তথ্যে জানা যায়, ৫ কোটি ৩০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪৫১.৫০৬ কেজি হেরোইন, ০.৭৫ কেজি কোকেন, ৭.২৭৭ কেজি আফিম, ৬০২৯৫.১২৪ কেজি গাঁজা, ৭ লাখ ১৫ হাজার ৫২৯ বোতল ফেনসিডিল, ৫৩৯.৯৫ লিটার ফেনসিডিল, ১০ লাখ ৫ হাজার ৭১৯ বোতল বিদেশি মদ, ৭৩৬.১৮ লিটার বিদেশি মদ, ১ লাখ ১৩ হাজার ৯১ ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৭১০ বোতল বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। মামলা হয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৭৮টি এবং আসামির সংখ্যা ১ লাখ ৬১ হাজার ৩২৩ জন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির মাদকদ্রব্য, মামলা, আসামি ও মাদকদ্রব্যের এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, ০.৬৫৬ কেজি হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। ৭৯টি মামলায় ৮৫ জন আসামি ধরা পড়েছে। ১৫২.৫০১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। ৬৪৭টি মামলায় ৬৬৭ জন আসামি ধরা পড়েছে। ৭২ হাজার ১৮৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। ৩৬৩টি মামলায় ৩৯৩ জন আসামি ধরা পড়েছে। ১০৯৬.৬ লিটার অবৈধ চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে। ১০৬টি মামলায় ১০২ জন আসামি ধরা পড়েছে। ১ হাজার ২৮৭ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। ৪১টি মামলায় ৪৭ জন আসামি ধরা পড়েছে।

চলতি বছরের ৭ এপ্রিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর ৫০টি থানার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্যসহ ৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে অভিযুক্ত। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১ হাজার ৬২৯ পিস ইয়াবা, ৫০৮ গ্রাম বা ৭৯ পুরিয়া হেরোইন, ৫ কেজি ১০০ গ্রাম বা ২০ পুরিয়া গাঁজা, ১৫ বোতল ফেনসিডিল ও ২২টি নেশাজাতীয় ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫৩টি মামলা করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ যা বলা হয়েছে

২০১৮ সালের ৬৩ নং আইনে মাদকদ্রব্যের নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ ও চাহিদা হ্রাস, অপব্যবহার ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কল্পে বিধান প্রণয়নের জন্য প্রণীত আইন জারি হয়েছে। এ আইন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ নামে অভিহিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, নতুন আইনে ইয়াবা পাচার ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০০ গ্রামের বেশি অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা আটকে সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কিংবা মৃত্যুদণ্ড। গডফাদারদের জন্য মানিলন্ডারিং মামলায় শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ আইন সম্পর্কে বলেন, খসড়া আইন অনুযায়ী পাঁচ গ্রামের বেশি ইয়াবা পরিবহন, মজুদ, বিপণন এবং সেবনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর ২৫ গ্রামের বেশি হেরোইন, কোকেনসহ সমজাতীয় মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রাখা হয়েছে। এর আগের আইনে মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল দুই থেকে পনের বছরের কারাদণ্ড। হেরোইন ও কোকেন উদ্ভূত মাদকদ্রব্যের জন্যও ইয়াবার মতোই কঠোর শাস্তি রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত এই আইনে। হেরোইন, কোকেন, কোকো মাদকের পরিমাণ ২৫ গ্রামের বেশি হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। আর ২৫ গ্রামের নিচে হলে কমপক্ষে দুই বছর ও সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ডের বিধান আছে।

প্রস্তাবিত আইনানুযায়ী, মাদকাসক্ত ব্যক্তির ডোপ টেস্টে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে কমপক্ষে ছয় মাস ও সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেয়া হবে।

খসড়া আইন অনুযায়ী পাঁচ গ্রামের বেশি ইয়াবা পরিবহন, মজুদ, বিপণন এবং সেবনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর ২৫ গ্রামের বেশি হেরোইন, কোকেনসহ সমজাতীয় মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রাখা হয়। এর আগের আইনে মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল দুই থেকে পনের বছরের কারাদণ্ড। নতুন এ আইনের খসড়ায় ইয়াবা ‘ক’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। এর রাসায়নিক নাম অ্যামফিটামিন। এ মাদক চাষাবাদ, প্রক্রিয়াকরণ, উৎপাদন, বহন, পরিবহন, আমদানি-রফতানি এবং স্থানান্তরের জন্য আইনে শাস্তির বিধান রাখা হয়। সে ক্ষেত্রে মাদকের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম হলে এক থেকে দুই বছরের সাজা এবং অর্থদণ্ড করা হবে। এদিকে মাদকের পরিমাণ ১০০ গ্রামের বেশি অথবা ২০০ গ্রাম পর্যন্ত হলে পাঁচ থেকে দশ বছরের সাজা এবং অর্থদণ্ড ভোগ করতে হবে। পরিমাণ ২০০ গ্রামের বেশি হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হবে।

মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ, বিপণন, হস্তান্তর, গ্রহণ, অর্পণ, প্রেরণ, নিলামকরণ, লেনদেন, ধারণ, গুদামজাত এবং প্রদর্শনের অপরাধেও শাস্তির বিধান রাখা হয়। সে ক্ষেত্রে মাদকের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০০ গ্রামের বেশি হলে এক থেকে দুই বছরের সাজা এবং জরিমানা করা হবে। এর পরিমাণ ২০০ গ্রামের বেশি অথবা ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত হলে পাঁচ থেকে দশ বছরের সাজা এবং অর্থদণ্ড করা হবে। মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ৪০০ গ্রামের বেশি হলে এর শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড। হেরোইন, কোকেন মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ২৫ গ্রাম হলে কমপক্ষে দুই বছর এবং সর্বোচ্চ দশ বছর কারাদণ্ড। আর মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ২৫ গ্রামের বেশি হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পরিবহন, ব্যবসা, সংরক্ষণ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ সব এর মধ্যে চলে আসে। নতুন আইনে ইয়াবা, সিসা বার, ডোপ টেস্টের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তে সব ধরনের মাদককে নতুন আইনে যুক্ত করা হয়েছে। এমন কোনো বিষয় নেই, যা আইনের আওতায় আসবে না। কোনো না কোনোভাবে তালিকার মধ্যে চলে আসবে।

একনজরে মাদকাসক্ত রোগীর সংখ্যা

২০১৮ সালে সরকারি ও বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাপ্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ৩৮ হাজার ৩৫ জন। তাদের মধ্যে সরকারি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাপ্রাপ্ত রোগী ২৫ হাজার ১৪৩ জন এবং বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাপ্রাপ্ত রোগী ১২ হাজার ৮৯২ জন।

মাদকমুক্ত এলাকা ঘোষণা

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী মার্চ ২০১৮ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী কয়েকটি এলাকাকে মাদকমুক্ত করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে খুলনা বিভাগের মাগুরা জেলার চারটি উপজেলা এবং নড়াইল জেলার তিনটি উপজেলা।

ঢাকা বিভাগের ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলা, চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলা, রাজশাহী বিভাগের পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলা, বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি সদর উপজেলা, সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলা, রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও জেলার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা এবং ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর জেলার নকলা উপজেলাকে মাদকমুক্ত ঘোষণার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

কেসস্টাডি

দুই ব্যক্তি অচেতন অবস্থায় একজন নারীকে ঢাকার শেরেবাংলানগরের হৃদরোগ ইন্সটিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ রেখে ওই দুই ব্যক্তি পালিয়ে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে বিষয়টি অবগত করে। পুলিশ শেরেবাংলা নগরের হৃদরোগ ইন্সটিটিউট হাসপাতাল থেকে ওই নারীর লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ময়নাতদন্তে ওই নারীর পাকস্থলী থেকে পলিথিনের প্যাকেটে দেড় হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেন ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আ. ম সেলিম রেজার মতে, ওই নারীর পাকস্থলীতে একেকটি পলিথিনের প্যাকেটে ৩০ থেকে ৩৫টি ইয়াবা পাওয়া যায়। মোট ৫৭টি ইয়াবার পলিথিনের প্যাকেট পাওয়া গেছে। পায়ুপথে অথবা মুখ দিয়ে ইয়াবার এই পলিথিনের প্যাকেটগুলো পাকস্থলীতে ঢোকানো হয়। এর ফলে ওই নারীর নার্ভের ওপর চাপ পড়েছে। যার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পলিথিনের প্যাকেট ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও ছিল। পলিথিনের প্যাকেট ছিঁড়ে ইয়াবা বড়ি বেরিয়ে পড়লে মানুষের বাঁচার আশা থাকে না। পলিথিনের প্যাকেট ছিঁড়ে গেলে ইয়াবা বিস্ফোরিত হয়ে তার শরীরে ছড়িয়ে পড়লে মৃত্যু অনিবার্য। কারণ একজন মানুষ একটি অথবা দুটি ইয়াবা বড়ি সেবন করে। একসঙ্গে হাজার হাজার ইয়াবা বড়ি শরীরে ঢুকে পড়লে সেই ব্যক্তির বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। অতি দরিদ্র হওয়ার কারণে বেঁচে থাকার তাগিদে তারা মাদক সেবন না করেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে মাদক বহন করছে। তার পাকস্থলী থেকে উদ্ধার করা ইয়াবা পরীক্ষা করতে দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শেরেবাংলানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানে আলম মুনশি বলেন, ময়নাতদন্ত করার সময় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা যে নারীর পাকস্থলী থেকে ইয়াবা উদ্ধার করেছেন তার পরিচয় পাওয়া গেছে। ওই নারীর নাম রিতা বড়–য়া। তার বাড়ি কক্সবাজারের উখিয়ায়। বয়স ৪০ বছর। তার স্বামী লাশ শনাক্ত করেছেন। রিতা বড়–য়ার পাকস্থলীতে পলিথিনের ৫৫টি প্যাকেটে ৩০টি করে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ইয়াবা পাচারে এ কৌশল অবলম্বন করছে। এভাবে ইয়াবা বহনকারী নারী-পুরুষ পাকস্থলীতে ইয়াবা বড়ি ঢুকিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একস্থান থেকে অন্যস্থানে তা পৌঁছে দেয়। ইয়াবা ব্যবসায়ীরা যাতে এ পদ্ধতিতে আর ইয়াবা পাচার করতে না পারে এ জন্য সড়ক ও জলপথে দূরপাল্লার বাস, ট্রেন ও লঞ্চে বিমানের মতো যাত্রী এবং তাদের লাগেজ স্কেনিং করার ব্যবস্থা করা। সড়ক ও নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ শক্ত অবস্থান নিলে ইয়াবা পাচার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

কর্তৃপক্ষ যা বললেন

ব্যবসায়ীরা কৌশল পরিবর্তন করছে

মো. নজরুল ইসলাম সিকদার

অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা)

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর

এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় মাদক চালানের ক্ষেত্রে মাদক ব্যবসায়ীরা কৌশল পরিবর্তন করছে। স্থলপথের পরিবর্তে আকাশ ও জলপথকে বেশি ব্যবহার করছে। আগেও মাদক পাচার হিসেবে বিমানবন্দরকে ব্যবহার করা হতো। তবে তা কম ছিল। এখন স্থলপথে দীর্ঘ যানজটের কারণে সময় বেশি লাগে। যারা পাকস্থলীতে করে ইয়াবা নিয়ে আসে। দীর্ঘক্ষণ পেটে মাদক থাকায় সেই মাদক বহনকারীর জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যানজটের কারণে কৌশল হিসেবে মাদক বহনকারীরা আবাসিক ফ্লাইটে যাতায়াত করছে। বিমানবন্দরে প্রচুর ইয়াবা ধরা পড়েছে। যে ব্যক্তির বাসে চড়ার সামর্থ্য নেই। সে বিমানে চড়ছে। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে তারা রুট বদল করছে। রুট বদল করেও তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে পারছে না। তাদের দেখলেই বোঝা যায় এরা মাদক পাচারকারী। মাদক ব্যবসায়ীরা ভারতের বসিরঘাট হয়ে সাতক্ষীরা, সুন্দরবন এলাকা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ দিয়ে বাংলাদেশে মাদক নিয়ে ঢুকছে। যাতায়াতের পথ ব্যবহারের কৌশল পরিবর্তনের মতো মাদক বহনের কৌশলও পরিবর্তন করেছে। আখ, সুপারি, মরিচ, নারিকেল, ডাব, লাউ, কুমড়া, পাতিল, মেডিকেল ইমার্জেন্সির ভেতর মাদক আনছে। বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তি টুপি, নারীরা শরীরের মধ্যে, হাতে ক্যাপেটাল লাগিয়ে মুমূর্ষু রোগী সেজেও মাদক আনানেয়া করে থাকে। মাদক বহনকারীরা যে কৌশলই ব্যবহার করে থাকুক না কেন আমরাও চেষ্টা করছি তাদের ধরতে। আমাদের লিঙ্ক আছে। আমরাও অনেক সময় পুলিশকে তথ্য দিই। এ ক্ষেত্রে দেখা যায়, বড় মাপের মাদক ব্যবসায়ীরা ধরা পড়ছে না। বেশিরভাগই ধরা পড়ছে মাদক বহনকারীরা। মাদক ব্যবসা একেবারে কমে গেছে এটা বলা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় মাদক ব্যবসায়ীরা সতর্কতা অবলম্বন করছে। মাদকের সহজলভ্যতা কমেছে। ইয়াবার মূল্য বেড়েছে। ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ইয়াবা ধরা প্রায় তিনশ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সামাজিক সচেতনতাও বাড়াতে হবে

এবিএম মাসুদ

পুলিশ সুপার, কক্সবাজার

মাদক মামলা অনুযায়ী কক্সবাজার জেলার মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ১ হাজার ১৫১ জনের তালিকা হয়েছে। তাদের মধ্যে আত্মসমর্পণ করেছে ১০২ জন। এদের কাছ থেকে ৬০০ মাদক ব্যবসায়ীর নাম পাওয়া গেছে। এ নামের ভিত্তিতে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। এর ফলে আগের তুলনায় শতকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মাদক চালান কমেছে। তবে এখনও রোহিঙ্গা এবং পুরনো মাদক ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দেশের ভেতর শতকরা ২০ থেকে ৩০ ভাগ মাদক ঢুকছে। মাদক উদ্ধার অভিযান চালানোয় মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক পাচারের রুট পরিবর্তন করেছে। উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে মাদকের সরবরাহও কমেছে। এরপরও যে ইয়াবা সেবনকারী প্রতিদিন যে দু-তিন পিস ইয়াবা সেবন করত, মাদক সরবরাহ কমে যাওয়ায় সে এক পিস ইয়াবা সেবন করছে। মাদকসেবীদের মাদক থেকে বের করে আনতে, মাদকের চাহিদা কমাতে সামাজিক সচেতনতাও বাড়াতে হবে। অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। সমাজের মানুষকে সচেতন হতে হবে। তাহলেই মাদকমুক্ত সমাজ, রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×