কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে এর মধ্যেই

  মো. বিল্লাল হোসেন ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পণ্যের দাম

পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজান সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বেড়েই চলছে। আত্মসংযমের এ পুরো মাসজুড়েই কিছু অতিরিক্ত মুনাফালোভী ব্যবসায়ী বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করার জন্য চরম ভোগান্তিতে পড়েন খুচরা বাজারের ক্রেতারা।

বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সংকট না থাকলেও রমজান সামনে রেখে পাল্লা দিয়ে বাড়ে অনেক দ্রব্যের দাম। যদিও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সিটি কর্পোরেশন এবারও বলে আসছে রমজানে কোনো পণ্য বাড়তি দামে বিক্রি করা যাবে না। আর সেটি করা হলে আইনের আওতায় আনা হবে; কিন্তু সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজাকে কেন্দ্র করে একসঙ্গে সবাই একই পণ্য ক্রয় করার কারণে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বেড়ে যায়। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) আসন্ন রমজান উপলক্ষে ট্রাকে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি জোরালোভাবে শুরু করে তাহলে বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

সাধারণ ক্রেতারা বলছে, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দাম অনেক বেড়ে যায়, রমজানে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে করতে হলে এখনই অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

সবজির বাজারে প্রতি কেজি গত সপ্তার চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকার মতো, কাঁকরোল ১০০ থেকে বেড়ে ১২০ টাকা, বরবটি ৮০, পেঁপে ৫০, চিচিঙা ৮০, করলা ৮০, ওস্তা ১০০, বেগুন লম্বা ৬০, গোন বেগুন ৮০, লতি ৮০, ঢ্যাঁড়স ৬০, পটোল ৬০, কাঁচামরিচ ৮০, ধনেপাতা ৮০, পাকা টমেটো মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, লালশাক ১০ টাকা আঁটি, পালংশাক ১৫ টাকা।

কারওয়ানবাজারে বাজার করতে আসা মো. সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সাধারণত রমজান এলে প্রতিদিন বাজার করা যায় না, তাই এক মাসের বাজার একসঙ্গে করি; কিন্তু অন্যান্য সময়ের তুলনা প্রায় সবকিছুর দাম কিছুটা বেশি। সরকারের উচিত নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা।

পেঁয়াজ ২৫ থেকে বেড়ে ৩০ টাকা, রসুন ৮২ থেকে বেড়ে ৯৬ টাকা, আদা ৭২ থেকে বেড়ে ৮৬ টাকা, দেশি মসুরের ডাল ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা, খেসারির ডাল ৫৫ থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, ছোলা-বোট বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। বেশনের ডাল ৪০ টাকা। আলু ডায়মন্ড ২৫ থেকে বেড়ে ৩০ টাকা। বাঁধাকপি ৫০ টাকা পিস, ছোট ফুলকপি ৬০ টাকা। শিম ৫০ থেকে ৬০ টাকা, প্রতি পিস লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে চালের দাম। সাধারণত কোরবানি সামনে রেখে মসলার দাম বাড়লেও রোজা আসার আগেই মসলার দাম প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজারে এলাচ ২১০০ থেকে বেড়ে ২৩০০ টাকা, জিরা ৩৭০ টাকা। দারচিনি ৩০০ টাকা, ধনিয়া ১৩০, কিশমিশ ৩০০ থেকে ৩২০, কাঠবাদাম ৭৯০, কালো গোলমরিচ ৭০০, আলু বোখারা ৩৫০।

গরুর মাংস এবং মুরগির দাম কিছুটা অপরির্বতিত রয়েছে। তবে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ৫ টাকা বেড়ে ১৭০ টাকা, ব্রয়লাল লাল ২৩০, আর পাকিস্তানি কক বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২৮০ টাকা কেজিতে। তার্কি মুরগি দাম কমে ৫০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৫৫০ ও খাসির মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। মুরগির ডিমের দাম অপরির্বতিত রয়েছে। বয়লার মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১০০ টাকা, দেশি মুরগি ১৯০ টাকা, পাকিস্তানি ১৪০ টাকা, হাঁস ১৩০ টাকা।

শান্তিনগর বাজারের গরুর মাংস বিক্রেতা বলেন, গাবতলী হাটে যখন ব্যবসায়ী কম আসে তখন কিছু পাইকারি ব্যবসায়ী একসঙ্গে গরু কিনে সিন্ডিকেট তৈরি করে; কেননা তাদের কাছ ছাড়া অন্য কোথাও গরু পাওয়া যায় না, তাই বাধ্য হয়ে দাম দিয়ে গরু কিনতে হয় এবং বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।

মাছের বাজারে অনেকটা আগুন ইলিশ ১ কেজি ওজনের প্রতি হালি হাঁকা হচ্ছে পাঁচ হাজার টাকা, রুই প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৫০০ টাকা, পাবদা মাছ ৫০০-৬০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৫০-১৮০ টাকা, টেংরা ৬০০-৭০০ টাকা, চিতল ৬০০-৮০০ টাকা, শিং ৫০০-৬০০ টাকা। তেলাপিয়া ১৬০-১৮০ টাকা।

কারওয়ানবাজার সিটি কর্পোরেশন কাঁচাবাজার কিচেন মার্কেটের ইসলামিয়া শান্তি সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. লোকমান হোসেন যুগান্তরকে বলেন, রোজা সামনে রেখে সরকার যে মাল আমদানি করে সেগুলো যদি শবেবরাতের আগে চলে আসত তাহলে বাজারের পণ্যের দাম এতটা বাড়ে না। বিদেশ থেকে যেসব মালামাল আসে সেগুলো যথাসময়ে না পৌঁছালে বাজারে সংকট দেখা দেয়, ঠিক তখনই মূল্যবৃদ্ধি পায়। রোজা সামনে রেখে আমদানিকারকের চেয়ে ব্যবসায়ীদের বেশি চাহিদা থাকে আর সেই সুযোগে আমদানিকারকরা মালের দাম বাড়িয়ে দেয়; সেখানে খুচরা ব্যবসায়ীদের কমানোর সুযোগ থাকে না। টিসিবি যদি আগামী সপ্তাহের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি বাড়িয়ে দেয় তাহলে বাজারে মালের দাম বাড়বে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×