ডিমের দাম স্থিতিশীল

মুরগির পাইকারি বাজারও চড়া

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মো. পলাশ প্রধান

সারা দিন রোজা রেখে দিনের শেষে একটু আমিষের প্রয়োজন মেটাতে মুরগির মাংস অনেক প্রয়োজনীয় মনে করেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। এ ঘাটতি মেটাতে পোলট্রি শিল্প রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতির এ সময়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের আমিষের জোগানে একমাত্র উৎস এখন পোলট্রি মুরগির ডিম ও মাংস।

মাত্র কয়েক দশক আগেও দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে ডিম বা মুরগি তেমন সহজলভ্য ছিল না। তবে আশির দশকের শুরুতে দেশে ফার্ম বা পোলট্রি মুরগি পালন ও ডিমের উৎপাদন শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে এর পরিধি। অল্প সময়েই ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির মাংস ও ডিম দেশের মানুষের অন্যতম প্রধান খাবারের জায়গা করে নিয়েছে। মানুষের আমিষের চাহিদা মেটাতে শীর্ষে রয়েছে পোলট্রি শিল্প।

বর্তমানে গরু, মহিষ, খাসি কিংবা ভেড়ার মাংসের দাম অনেক বেশি, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। এ অবস্থায় স্বাভাবিক ও সাধ্যের মধ্যে রয়েছে শুধু পোলট্রির মাংসের দাম। ফলে আমিষের দৈনন্দিন চাহিদার সিংহভাগই পূরণ করছে এ খাতে।

দেশের বিভিন্ন জেলার পোলট্রি শিল্পের ফার্ম থেকে আসা মুরগিগুলো মূলত গাজীপুরে পাইকারি বিক্রি হয়। গাজীপুর সদর চৌরাস্থা ও টঙ্গী পাইকারি বাজারগুলোতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার দর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, এ বাজার দর কেউ মানছে না বলে জানান বাজারের অনেক ব্যবসায়ী।

সরেজমিনে গাজীপুর সদর ও টঙ্গী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পাইকারি ব্যবসায়ীরা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে মুরগি বিক্রি করতে পারছে না। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন জোগান কম, তাই দাম বেশি। অন্যদিকে খামারিরা বলছেন সঠিক দাম পাচ্ছে তারা।

দেখা যায়, দেশি মুরগির কেজি প্রতি ৪৫৫ থেকে ৪৬০ টাকা, ফার্মের মুরগি ১৫০ টাকা, কক মুরগি ২৩০ থেকে ২৩৫ টাকা। এদিকে, ফার্মের প্রতি ডিম ৬.৯০ পয়সা, সাদা ডিম ৬.৭০ পয়সা, হাঁসের ডিম ১১ টাকা, দেশি ডিম ১৫ টাকা। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিমের দাম স্থিতিশীল হলেও অস্থির ব্রয়লার মুরগির বাজার। রমজানে দাম বেড়েছে দেশি ও পাকিস্তানি কক জাতের মুরগির।

টঙ্গী বাজার মুরগি ব্যবসায়ী মো. আকবর আলী জানান, আমাদের বাজার যদিও অনেক বড়। দেখাশোনা বা নিয়ন্ত্রণে কেউ নেই। আমাদের মাঝে একশ্রেণীর সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা আছেন, যারা বিভিন্ন উৎসবের আগে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী মুরগি দিচ্ছে না। যে কারণে চাহিদা অনুযায়ী ভোক্তাদের কাছে মুরগি না পাওয়াই মুরগির দাম বেড়ে যায়। তিনি আরও জানান, আগেপরে কখনও টঙ্গী মুরগি বাজারে তেমন কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি। জেল জরিমানা হলে এমন কাজ আর করবে না।

রাজধানীর উত্তরা থেকে আসা খুচরা ব্যবসায়ী মো. আল-আমিন জানান, আমি উত্তরার অধিকাংশ রেস্টুরেন্টে মুরগি দিয়ে থাকি। তবে, রমজান মাসে এর চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণে। প্রতিবছরই রমজান মাসের আগ থেকে একটি সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা মুরগির দাম দিগুণ করে দেয়। এতে অতিষ্ঠ হয়ে যায় ভোক্তারা।

এ প্রসঙ্গে গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পোলট্রি খাত বিশেষ ভূমিকা রাখছে। দেশে যে পরিমাণ মাংসের চাহিদা, এর সিংহভাগের জোগান আসে এ খাত থেকে। পোলট্রির ব্যাপক প্রসারের কারণে কম মূল্যে মানুষ দৈনন্দিন আমিষের চাহিদা মেটাতে পারছে। এ সুযোগে একশ্রেণীর সুবিধাবাদী ব্যবসায়ীরা এ সময়টাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে।

তাছাড়া, সামনে রমজান মাস। এর আগে গাজীপুরে পাইকারি ব্যবসায়ীদের মাঝে একটি সিন্ডিকেট তৈরি হয়। তারা রমজানের আগে তাদের কাছে মুরগিগুলো মজুত রাখা হয়। পরে, বেশি দামের বাজারে ছাড়া হয়। দু’একদিনের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। যদি এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।