তিন বছরের কোর্সে সময় লাগছে ছয় বছর

  মো. বিল্লাল হোসেন ৩০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোর্স

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের ডিগ্রি কোর্সেও দেখা দিয়েছে তীব্র সেশনজট। ঢাকা কলেজ ছাড়া বাকি ৬টি কলেজে রয়েছে ডিগ্রি কোর্স। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাবির অধিভুক্ত হওয়ার পর ডিগ্রির তিন বছরের কোর্স করতে সময় লাগছে প্রায় ৬ বছর।

এক বছরের কোর্সে সেশনজটের কারণে সময় লাগছে তিন বছর। নির্দিষ্ট সময় থেকে বছর পার হওয়ার পর রেজাল্ট প্রকাশিত হলেও তাতে দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের ভুল। এসব সমস্যা নিয়ে ঢাবির রেজিস্ট্রার ভবনে গেলেও শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় নানা হয়রানিতে। নিজ কলেজ থেকেও কোনো সমস্যার সমাধান পায় না শিক্ষার্থীরা। তবে ডিগ্রি ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাবির অধিভুক্ত কলেজগুলো থেকে ডিগ্রি তুলে দেয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ে চলমান সেশনগুলো শেষ করার কথা থাকলেও তাদের কোনো গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, ডিগ্রি ২০১৪-১৫ সেশনের ২য় বর্ষের ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা হয়েছে ২৫ মাস পর। পরীক্ষার সাত মাস অতিবাহিত হলেও এখনও ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। ডিগ্রি ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ৩য় বর্ষ পরীক্ষা নিয়মানুযায়ী ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়েছে ২০১৭ সালের নভেম্বরে, রেজাল্ট হয়েছে এক বছর পর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা ২০১৬ সালে হওয়ার কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৭ সালের নভেম্বরে, পরীক্ষার এক বছর পর ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। এখনও শুরু হয়নি দ্বিতীয় বর্ষের ফরম পূরণের কার্যক্রম।

এদিকে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী ১৮ মে। ইডেন কলেজের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান তমা বলেন, ডিগ্রি করতে সময় লাগে ৩ বছর, ইতিমধ্যে আমাদের ৫ বছর চলছে, এখনও দ্বিতীয় বর্ষের রেজাল্ট পাইনি। এই বছর জুন মাসের মধ্যে যদি পরীক্ষা দিতে না পারি তাহলে আমাদের সাধারণ ডিগ্রি করতে সময় লেগে যাবে ৬ বছর। এই বছর ডিগ্রি শেষ করতে না পারলে, অনায়াসে ঝড়ে যাবে অনেক সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী, কারণ তিন বছরের একটা কোর্সের পেছনে ৬-৭ বছর ব্যয় করার যৌক্তিকতা নেই।

কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মো. সজিব হোসেন বলেন, ডিগ্রির এমন কোনো ব্যাচ নেই যে ভুক্তভোগী না। ২০১২-১৩ সালের ডিগ্রি পরীক্ষার রেজাল্টে অনেক ভুল এসেছে। একজনের সেকেন্ড ক্লাস পাওয়া সত্ত্বেও ঢাবির ভুল তথ্যের কারণে আজও রেজাল্ট পায়নি। এ ধরনের অনেকই আছে আগের বছরের ইমপ্রুভমেন্ট নম্বর যোগ না হওয়ায় পাস করেও ফেইল দেখাচ্ছে। প্রথম বর্ষেও চারটি বিষয়ের রেজাল্ট, মার্কসিটের সঙ্গে যোগ না করে রেজাল্ট অপেক্ষমাণ রেখেছে। অপেক্ষমাণ রেজাল্ট সংশোধনের জন্য আবেদন করার পাঁচ মাস পরও কোনো সংশোধন হচ্ছে না।

তিনি বলেন, রেজাল্টের সমস্যা নিয়ে গত ২৪ এপ্রিল প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহালুল হক চৌধুরি স্যারের সঙ্গে আমরা কয়েকজন সংশোধনী রেজাল্ট প্রকাশের ব্যাপারে দেখা করি। স্যার তার সহকারীকে দায়িত্ব দেন আমাদের ফলাফল প্রকাশের জন্য। স্যারের সহকারী বলেছিল, ২৪ এপ্রিল বিএ এবং বিএসএস রেজাল্ট প্রকাশিত হবে এবং পরের দিন বিবিএস রেজাল্ট প্রকাশ করবে কিন্ত আজ পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। ফলাফলের কারণে অনেকই এসআই এবং অনেক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। প্রিলি মাস্টার্স ভর্তি নিলেও রেজাল্ট সংশোধনের কারণে অধিকাংশই ভর্তি হতে পারেনি।

সরকারি বাঙলা কলেজের ডিগ্রি ২০১৫-১৬ বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদ মাহমুদ বলেন, কলেজে ডিগ্রির কখনও ক্লাস এবং ইনকোর্স পরীক্ষা হয় না। নির্দিষ্ট কোনো ডিপার্টমেন্ট না থাকায় কলেজে গিয়ে ডিগ্রির কোনো তথ্য পাওয়া যায় না এবং শিক্ষকরা ডিগ্রির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে না। চার বছর হয়ে গেল এখনও ২য় বর্ষের ফরম পূরণ করতে পারিনি। ঢাবি ডিগ্রির শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের মূল্যায়ন করছে না। এতদিন হল আমরা সেশনজটে আটকে আছি তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এদিকে প্রিলি-মাস্টার্স ভর্তি নিলেও রেজাল্ট সংশোধনের কারণে অধিকাংশ ভর্তি হতে পারেনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×