ছাত্রনেতারা যা বলছেন

  যুগান্তর ডেস্ক    ৩০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সার্টিফিকেট

নামেমাত্র ঢাবির সার্টিফিকেট পেয়ে তারাও সন্তুষ্ট নয়

নুরুল হক নুর, সহ সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)

এত সংখ্যক শিক্ষার্থীদের দেখভালের সক্ষমতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা বরং ভোগান্তিতে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তিতে পড়বে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান যেই লেভেলে থাকার কথা ছিল সেই লেভেলে নেই, র‌্যাকিংয়ে নেই। এ অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মানটা কিভাবে উন্নত করা যায়, শিক্ষার্থীদের গবেষণার কিভাবে সুযোগ করে দেয়া যায়।

সেটা না করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী নেয়ার কোনো মানে নেই। এটা আসলে আমরা মনে করি অবিবেচনা প্রসূত সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্যটা ছিল, বিভাগীয় পর্যায়ে যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আছে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সংশ্লিষ্ট এলাকার কলেজগুলোকে নেয়ার। কিন্তু অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এটি নেয়নি। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব নিয়েছে। আমি মনে করি, এটা করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার উদ্দেশ্যে।

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ ছিল, কলেজগুলোর মান ভালো করা। সে ক্ষেত্রে অনেক বিকল্প আছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে ডায়নামিক করা যায়, কারিকুলামকে মডিফাই করা যায়। প্রয়োজনে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক শাখা করা যায়। অথচ আমরা দেখলাম শিক্ষার্থীদের আন্দোলন করতে হল- যথাসময়ে ফলাফল প্রকাশ ও পরীক্ষা নেয়ার জন্য! এ নামেমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট পেয়ে তারাও আসলে সন্তুষ্ট না। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও এটা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত বাস্তবতার নিরিক্ষে একটা সিদ্ধান্তে আসা, কাউকে খুশি করার জন্য কিংবা আবেগ থেকে নয়।

ঢাবি শিক্ষার্থীদের অবস্থানকে স্বাগত জানাই সাদ্দাম হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক, ডাকসু এবং সাধারণ সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ

আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বিষয়টি সংযোজন করেছি এবং এটি বিবেচনা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে বলেছি। আমাদের ডাকসুর যে আগামী মিটিং হবে, সেই মিটিংয়ে এ বিষয়টি উত্থাপন করব এবং বিষয়টির সমাধান অবশ্যই করব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড প্রশাসনের মাধ্যমে হতে দেব না। পলেসি ডায়লগের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিকভাবে এ সমস্যাটির সমাধান আমরাই করব।

অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছে, তাদের এ অবস্থানকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে এটি আমরা মনে করি, সুষ্ঠুভাবে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে আমরা এর সমাধান করব।

লাখ লাখ ছেলেমেয়ের

শিক্ষা জীবন বিঘ্নিত হোক এটা চাই না

লিটন নন্দী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ছাত্র ইউনিয়ন

আমরা শিক্ষায় সংকট নিরসন চাই, সাত কলেজের সেশন জটের নিরসন চাই। আমরা এটাও চাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিজেও অনেক সমস্যায় জর্জরিত। সামগ্রিকভাবে এমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, দরকার হলে আলাদা কার্যক্রম পরিচালনা করে সাত কলেজ সংকট দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরসন করতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। সাত কলেজের শিক্ষা সংকটের দায়ভার কখনও যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁধে না আসে। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মুখোমুখো দাঁড় করিয়ে না দেয়া হয়। এটি আমাদের প্রত্যাশা। একবার তাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখানে পাঠাল। আবার এখান থেকে আরেকবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো। একবার এ পরিবর্তন করতে গিয়ে তারা দুই বছর সেশন জ্যামে পড়েছে। এখন যদি আবার সেটার পুনরাবৃত্তি ঘটে সেটি এলে কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না। আমরা চাই না লাখ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন বিঘ্নিত হোক।

আন্দোলনটা প্রশাসনের বিরুদ্ধে করা উচিত

কানেতা ইয়া লাম লাম, ছাত্রদল নেত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সৃষ্টসংকটের জন্য সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের দোষারূপ করা উচিত হবে না। দোষটা প্রশাসনের। আমাদের প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঠিকমতো সবকিছু দিতে পারছে না। আমাদের নানা ক্ষেত্রে এখনও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সেখানে আরও প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নেয়াটা আমাদের জন্য এবং সাত কলেজের শিক্ষার্থী উভয়ের জন্য ক্ষতিকর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ, এর আগে ৫১তম সমাবর্তনে তাদের সঙ্গে আমাদের সমাবর্তন দেয়া হয়েছে। এতে তারা নিজেদের ঢাবিয়ান হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। আমি এর জন্য তাদের দোষ দেই না। কারণ তারা আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিত সেই হিসেবে এখন তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দেবে এটাই স্বাভাবিক। এর জন্য আমি প্রশাসনকে দায়ী মনে করি। এখন যদি আমরা সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করি। আবার তারা যদি আমাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তাহলে কোনো লাভ হবে না। আন্দোলনটা প্রশাসনের বিরুদ্ধে করা উচিত।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- এম এস আই খান

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×