বঙ্গবন্ধু সেতু পথে অহেতুক জ্যাম

  আল ফাতাহ মামুন ১৮ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জ্যাম

রাজধানীর সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সড়কপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম বঙ্গবন্ধু সেতু। নির্বিঘ্নে যাতায়াতের এই পথটিই এখন গোদের বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিয়েছে উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য।

গত কয়েক বছর ধরেই সড়কপথে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে ঈদযাত্রীদের। এ বছর সড়ক পথ ছিল অনেকটা স্বস্তির। এ স্বস্তির মাঝেও বিড়ম্বনার চূড়ান্ত রূপ দেখেছে উত্তরবঙ্গের যাত্রীরা।

অন্যান্য মহাসড়কের যাত্রীদের অভিজ্ঞতা ছিল উচ্ছ্বাসে ভরপুর। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোনো কোনো যাত্রী তো বলেই ফেলেছেন- যেন ইউরোপ-আমেরিকার নির্ঝঞ্ঝাট যাতায়াতের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন তারা। এই অবস্থায়ও উত্তরবঙ্গের যাত্রীদের ঈদযাত্রা ছিল মহা আতঙ্কের নাম। দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়েন যাত্রীরা। জ্যাম এতটাই ভয়াবহ রূপ লাভ করে, একপর্যায়ে গর্ভবতী এক নারী মহাসড়কেই সন্তান প্রসব করে ফেলেন। অথচ সময় মতো গাড়ি গন্তব্যে পৌঁছলে বাড়ি গিয়েই প্রসূতি সন্তান প্রসব করতে পারতেন বলে জানিয়েছেন তার স্বামী হাবিব। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু সেতুর জ্যামের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। বন্ধ রাস্তায় ঘরমুখী যাত্রীরা ক্রিকেট খেলতে নেমে পড়েন। এসব দুর্ভোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত-সমালোচিত হয়।

ঈদ শেষে ঢাকা ফিরতেও সীমাহীন বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে উত্তরবঙ্গের মানুষকে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নতুন করে কিছু রাস্তায় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে আরও বেশি। এছাড়া সিরাজগঞ্জের নলকা সেতুর সংস্কারের কারণে যানজটে নাকাল ঈদ ফেরত যাত্রী এবং জেলা শহরের মানুষও। আবিদুর রহমান ঢাকায় ফিরে তার অভিজ্ঞতার কথা বলেন এভাবে- এত ভয়াবহ ভ্রমণ এই প্রথম করলাম মনে হয়। অন্যান্য বছর দুর্ভোগ ছিল। তবে এবারের মতো এমন বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা আর হয়নি।

যাওয়ার সময় তো দীর্ঘ জ্যামের সমুদ্র বলা চলে পায়ে হাঁটার গতিতে পারি দিয়েছি। আসার সময় যেন সে গতিও থেমে গেছে। রংপুর থেকে ঢাকা ফিরেছেন আরেক যাত্রী মেহরুননেসা। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গাড়িতে উঠেছি। বিকাল ৫টায় ঢাকায় পৌঁছার কথা। কিন্তু বিকাল সোয়া তিনটায়ও সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ-চান্দাইকোনা মহাসড়কে জ্যামে আটকে ছিলাম। রাত সাড়ে ১০টায় হাটিকুমরুল মোড়ে পৌঁছি। এভাবে জ্যাম ঠেলে বিড়ম্বনার পাহাড় ডিঙ্গিয়ে শুক্রবার সকালে ঢাকা পৌঁছি।

বঙ্গবন্ধু সেতু উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ এনে দিয়েছিল। কিন্তু বিধিবাম, এ স্বস্তি বেশি দিন সয়নি উত্তরবঙ্গের মানুষের কপালে। শুরুর দিকে এ সেতুর কারণে নুতন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খোলে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য। উত্তরবঙ্গের সর্বশেষ জেলা দিনাজপুর থেকে ঢাকা আসতে সময় লাগত মাত্র সাত ঘণ্টা। যাতায়াতের এমন অভূতপূর্ব সম্ভাবনার ফলে নানা শিল্প-কলকারখানা গড়ে ওঠে এ অঞ্চলে। দিন দিন সড়ক বেহাল হতে থাকলে সাত ঘণ্টার রাস্তা কখনও কখনও ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে।

ফলে বঙ্গবন্ধু সেতুর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষ। আর ঈদের সময় চূড়ান্ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ঘুরমুখো এবং শহর ফেরত মানুষ। এ রুটের কোথাও কোথাও সড়কের সংস্কার এবং পাশ বৃদ্ধির কাজ হাতে নেয়া হলেও সমস্যা কমিয়ে আনার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। নির্মাণ তদারকরা বলছেন, সড়ক সংস্কার করার কাজ হাতে নেয়া হয়েছে ঠিকই কিন্তু এ রুটে নির্ধারিত ওজনের চেয়ে অনেক বেশি ওজনের ট্রাক চলাচলের ফলে অল্প দিনের মাথায় আবার সড়ক বেহাল হয়ে যাচ্ছে।

মাছের ট্রাকের পানি ঝরেও খুব কম সময়ের ব্যবধানে সড়ক ভেঙে যাচ্ছে। এসব সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করতে না পারলে গোদের বিষফোঁড়াই থেকে যাবে বঙ্গবন্ধু সেতু।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×