পর্যালোচনা

খুনাখুনি আর ফ্যাসাদের পেছনে অনৈতিক সম্পর্ক

  যাকারিয়া ইবনে ইউসুফ ০৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অনৈতিক সম্পর্ক

বিগত এক মাসের আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম রিফাত হত্যাকাণ্ড। গত মাসের ২৪ তারিখ স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নিকে নিয়ে বরগুনা সরকারি কলেজে যান রিফাত।

এরপর কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ দুই যুবক রিফাত শরীফের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।

এ সময় রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও হামলাকারীদের দমানো যায়নি। পরে রিফাত মারা যান। এ ঘটনার অন্যতম আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে মারা গেছে।

অন্য আসামিদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নয়ন ও মিন্নি সম্পর্কের বিষয়টি কানাঘুষা হয়। জানা গেছে, ঘাতক নয়নের সঙ্গে রিফাতের স্ত্রী মিন্নির বিয়েও হয়েছে। এমনকি তাদের বিয়ের কাবিননামাও পাওয়া গেছে।

বিয়ের কাজী মো. আনিসুর রহমানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি নতুন একটি সিসিটিভি ফুটেজেও ঘটনার সময় মিন্নির চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হয়েছে। সব মিলিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ত্রিভুজ প্রেমের একটি বিষয় রয়েছে।

গত ১৭ জুন প্রেমিকের কাছে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে বগুড়ার দশম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী মায়িশা ফাহমিদা সেমন্তি (১৬) আত্মহত্যা করেন। অভিযোগ আছে, তার প্রেমিক কলেজছাত্র আবির আহমেদ (২০) ব্ল্যাকমেইল করে গত ৮ মাস ধরে সেমন্তিকে ধর্ষণ করেন।

পরে এ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকিও দেন। সেমন্তির বাবা হাসানুল মাশরেক রুমন অভিযোগ করেন, প্রায় ১৫ মাস আগে তার ছোট মেয়ে অসুস্থ হয়। তখন প্রতিবেশী তৌহিদুল ইসলামের ছেলে আবির রক্ত দেয়। এতে দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি হয়।

এরপর সেমন্তি ও আবিরের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে আবিরের ফাঁদে পড়ে সেমন্তি। প্রতারক আবির গত ৮ মাস সেমন্তিকে ধর্ষণ করেছে। এ চিত্র বন্ধুদের কাছে শেয়ার করেছে। সেমন্তি এসব চাপা দিতে নানা অজুহাতে মায়ের কাছে মাঝে মাঝেই মোটা অঙ্কের টাকা নিতে থাকে।

১২ জুলাই শুক্রবার রাজধানীর ওয়ারিতে সাত বছরের ছোট্ট শিশু সায়মাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হারুন অর রশিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রলোভন দেখিয়ে সায়মাকে ওই ভবনের একটি নির্মাণাধীন ফাঁকা ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় হারুন।

তারপর সায়মাকে পাশবিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে হারুন। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. আবদুল বাতেন, সেদিন লিফটে করে নামার সময় হারুনের সঙ্গে মেয়েটার (সায়মা) দেখা। তারপর তাকে প্রলোভন দেখিয়ে ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর ফ্লাটটির পরিত্যক্ত এক রুমে নিয়ে শিশুটিকে নির্যাতন করে এবং তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। মেয়েটার সঙ্গে নির্দয়ভাবে পশুর মতো আচরণ করে মেরে ফেলে।

৭ জুলাই চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পরকীয়া প্রেমিক পল্লী চিকিৎসক মোশারেফ হোসেন এবং প্রেমিকা মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রী পারুলা বেগম নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

পুলিশ ও এলাকাসূত্রে জানা গেছে, দুই সন্তানের জনক মোশারেফ হোসেন একজন পল্লী চিকিৎসক। একই গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী আনারুল ইসলামের স্ত্রী পারুলা বেগমও দুই সন্তানের জননী। অনৈতিক সম্পর্কের কারণে দুই পরিবারের মধ্যে অশান্তি বিরাজ করায় প্রথমে মোশারেফ পরে পারুলা আত্মহত্যা করে।

৯ জুন গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মোছা. তাসলিমা (৩২) নামে এক গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যা করেন। অভিযোগ আছে, স্বামীর পরকীয়ার ঘটনা দেখে ফেলায় প্রতিবাদ করায় স্বামী ও তার আত্মীয়স্বজনদের অবহেলা, অত্যাচার সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন তাসলিমা।

তাসলিমার ভাই মো. সহিদ মিয়া জানান, দুই বছর ধরে আমার বোনের স্বামী পরকীয়ায় আসক্ত। ঘটনার দিন রফিকুলকে তার প্রেমিকা রহিমাসহ এক ঘরে দেখতে পায় তসলিমা। পরে প্রতিবাদ জানিয়ে কোনো লাভ না হলে বিষ পান করে। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

১০ জুন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার এলাকায় স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক জহিরুল ইসলামের (৩০) গায়ে পেট্রোল দিয়ে আগুন দেন স্বামী মোসলেম উদ্দিন (৫৫)। জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে জহিরুল ইসলাম ট্রাক ড্রাইভার মোসলেম উদ্দিনের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। আসা-যাওয়ার এক পর্যায়ে মোসলেম উদ্দিনের স্ত্রীর (৩৩) সঙ্গে জহিরুল ইসলামের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

১ জুলাই ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় স্ত্রী আফজুন বেগমকে (৩৪) শারীরিক নির্যাতন করে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে স্বামী মো. মোক্তার হোসেনকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, শালিকার সঙ্গে পরকীয়া থাকার কারণে স্ত্রীকে হত্যা করেছেন মোক্তার। নিহতের বাবার করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, দুই সন্তানের জনক মোক্তার পেশায় রিকশাচালক।

কয়েক মাস আগে থেকে মোক্তার স্ত্রী আফজুনের ছোট বোনের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তাকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন মোক্তার। বিষয়টি নিয়ে মোক্তার স্ত্রীকে শারীরিক নিয়মিত নির্যাতন করতে থাকেন। ৩০ জুন রাতে নির্যাতনের পর আফজুনকে গলা টিপে হত্যা করেন।

উপরের সবগুলো ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সমাজের এই হানাহানির পেছনে রয়েছে অনৈতিক সম্পর্ক। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, আমাদের নৈতিক অবস্থান একেবারে তলানিতে পৌঁছেছে। সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুশাসনই পারে এমন সামাজিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×