তবুও নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ

  যাকারিয়া ইবনে ইউসুফ ০৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নাড়ির টান

বিগত এক মাসে প্রথমে ছেলেধরা আতঙ্ক, এরপর পাহাড়ি ঢলে সারা দেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, সর্বশেষ দেশজুড়ে ইতিহাসের সব চেয়ে ভয়ংকর রূপে আবির্ভূত হওয়া মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর হানা।

সবকিছু মিলিয়ে একটা নাজুক পরিস্থির মধ্যেই এসেছে খুশির ঈদ। পাঁচদিন পরই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা।

এরই মধ্যে সবার টিকিট কাটা শেষ, কর্মস্থলে ছুটি মিললেই শুরু হবে ঈদযাত্রা। প্রতিবারের মতো এবারও পরিবহন সংকট, টিকিটের উচ্চমূল্য, ট্রেনের টিকিট দুষ্প্রাপ্য, টিকিট কালোবাজারিসহ হাজারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া যাত্রাপথে যানজটসহ অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি এবং ছিনতাইকারীর খপ্পরে পড়ার আশঙ্কাও থাকছে।

ট্রেনে টিকিট পেতে ভোগান্তি

মিলছে না এসি টিকিট, অ্যাপসে বিড়ম্বনা

প্রতি বছরের মতো এবারও ট্রেনের টিকিট পেতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট পাননি অনেকে। এদিকে অ্যাপস বা ওয়েবসাইটেও কাক্সিক্ষত সেবা পাননি যাত্রীরা। অ্যাপসের সার্ভার ডাউন, পেমেন্টে সমস্যাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে টিকিট প্রত্যাশীদের। পাশাপাশি কাউন্টারের সার্ভারে ধীরগতি অনেকটা অস্বস্তিতে ফেলে সাধারণ যাত্রীদের। এদিকে আসনের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগির টিকিটের সংকট কাটেনি। বন্যার কারণে কিছু এলাকায় রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় থাকছে শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা। রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, আসন স্বল্পতার কারণে যেসব যাত্রী ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কাটতে পারেননি, তাদের সুবিধার্থে ঈদযাত্রায় প্রতিটি ট্রেন ছাড়ার দুই ঘণ্টা আগে থেকে বিক্রি করা হবে স্ট্যান্ডিং টিকিট। বলা হচ্ছে, প্রতিটি ট্রেনে ৩০ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট থাকছে।

বুধবার রাতে ১০ আগস্টের দিনাজপুরের টিকিট কাটার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন চাকরিজীবী ফয়জুল। প্রথমদিন তিনি কাক্সিক্ষত টিকিট পাননি। পরে বৃহস্পতিবার রাতে আবার লাইনে দাঁড়িয়ে শুক্রবার সকালে টিকিট পান। তিনি বলেন, অ্যাপস বা অনলাইনে টিকিট পাওয়া যায় না। এগুলোতে চরম ভোগান্তি। লাইনে দাঁড়িয়েই স্বস্তি। যাত্রীদের অভিযোগ, এসি টিকিটের সংকট। অ্যাপসে বা লাইনে দাঁড়িয়েও এসি টিকিট মিলছে না।

৯ ও ১০ তারিখের টিকিট ছাড়ার দিনে কমলাপুর স্টেশনে টিকিট না পাওয়া যাত্রীর সংখ্যাই ছিল বেশি। যাত্রীরা হিসাব মেলাতে পারছেন না, এত টিকিট যাচ্ছে কোথায়! সূত্র জানিয়েছে, সাধারণ মানুষ শোভন ও শোভন চেয়ারের টিকিট পেলেও, এসি ও কেবিনের টিকিট পাচ্ছেন না। রেলের কর্মীদের জন্য ৫ শতাংশ টিকিট সংরক্ষিত রাখা হচ্ছে। এছাড়া ভিআইপিদের তদবিরে বিস্তর টিকিট দেয়া হচ্ছে। তাদের জন্য চলে যাচ্ছে এসি কামরা ও কেবিনের টিকিট। সাধারণ মানুষ টিকিট পাচ্ছেন না।

পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের টিকিট কাটতে ট্রেনের অ্যাপস ‘রেলসেবায় কয়েকদিন চেষ্টা চালান ফেরদৌস হাবিব। যুগান্তরকে তিনি বলেন, ভোর পাঁচটা থেকে অ্যাপসে ঢুকে ছিলাম। কিন্তু ছয়টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপস স্লো হয়ে যায়। অনেক কষ্টে সিলেক্ট অপশন পর্যন্ত যেতে পারলেও ‘পেমেন্ট’ করতে পারেননি। বারবার ‘এরর’ দেখানো হয়। ফলে তিন দিন চেষ্টা করেও এসি টিকিট কাটতে পারিনি।

কমলাপুর রেলওয়ের স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল হক বলেন, চারটি স্পেশাল ট্রেনসহ ৩৮টি আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট পাঁচটি স্থান থেকে বিক্রি হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও যাত্রীদের সুবিধার্থে আন্তঃনগরসহ চারটি স্পেশাল ট্রেনেই দেয়া হবে স্ট্যান্ডিং টিকিট। তবে কোনো যাত্রীকেই ট্রেনের ছাদে এবার উঠতে দেয়া হবে না। আমরা চেষ্টা করব ট্রেনের শিডিউল অনুযায়ী যেন সব ট্রেন চলাচল করতে পারে। বন্যার কারণে যেসব রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব রুট ঈদের আগেই মেরামত করা হবে। যদি ঈদের আগে মেরামত করা না হয়, তাহলে রুট পরিবর্তন করে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া হবে। তবে সে ক্ষেত্রে সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে। বকশিশের নামে হিজড়াদের চাঁদাবাজি

ঈদ এলেই রাজধানীসহ সারা দেশে হিজড়াদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। কেউ বকশিশ দিতে না চাইলেই শ্রবণ অযোগ্য ভাষায় গালাগাল, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি। কখনও কখনও পরিস্থিতি হয়ে যায় লজ্জাজনক। কখনও পকেট খালি করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে হয় ভুক্তভোগীদের। রাজধানীতে চলমান বাসেও জোরজবরদস্তি করে চলে হিজড়াদের চাঁদা সংগ্রহ। উত্তরার আজিজুল বলেন, উত্তরা থেকে ফার্মগেট যাওয়া-আসার রাস্তায় মাঝে মধ্যেই হিজড়ারা বাসে উঠে টাকা দাবি করে। ঈদে তাদের উৎপাত যেন বেড়ে গেছে। প্রতিদিন তারা বাসে উঠে চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে খারাপ অঙ্গভঙ্গি করে, বিশ্রী ভাষায় গালাগাল করে। রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচল করা যাত্রীরা জানান, হিজড়ারা বাসের প্রতি সিটে সিটে গিয়ে দশ থেকে বিশ টাকা করে চাঁদা তোলেন।

হিজড়াদের দৌরাত্ম্যে ফুটপাত দিয়ে নিরাপদে হাঁটতেও সমস্যায় পড়েন পথচারীরা। তাদের টাকা না দিলে সামনে যেতে দেয় না। নিরুপায় হয়ে যদি কোনো পথচারী বলেন, ভাংতি টাকা নেই। তবে ভাংতি দেয়ার নাম করে ১০০, ৫০০ বা ১০০০ টাকার নোট হাতিয়ে নেয় তারা। শুধু ফুটপাত, গণপরিবহন বা অফিসে নয় দলবেঁধে বাসায় বাসায় গিয়ে চাঁদা দাবি করে হিজড়ারা। কোনো বাড়িতে বাচ্চা সন্তান থাকার খবর পেলে বাচ্চা নাচানোর নাম করে তারা দাবি করে বসে বড় অঙ্কের চাঁদা। কামরাঙ্গীরচরের বেশ কয়েকজন ভাড়াটিয়া জানান, ওই এলাকায় কারও সন্তান হলে কিংবা বিয়ে হলে হিজড়াদের পোশাক দিতে হয়, খাবার খাওয়াতে হয়। সঙ্গে বকশিশও গুনতে হয় চরবাসীর! এর ব্যতিক্রম ঘটলেই পোশাক খুলে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে হিজড়ারা।

জোর করে টাকা আদায়ের বিষয়ে হিজড়াদের অভিমত, কেউ তাদের চাকরি দেয় না, কাজে নেয় না। তাই তাদের বাধ্য হয়ে মানুষের কাছে হাত পাততে হয়। তারা হাততালি দিয়ে হাসিমুখে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেন, বন্দুক ঠেকিয়ে নয়। তাই এভাবে অর্থ উত্তোলনকে চাঁদাবাজি মানতে নারাজ তারা। ঈদে সক্রিয় মৌসুমি অপরাধীরা

প্রতিবারের মতো এবারও ঈদযাত্রার ভোগান্তির মধ্যে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে মৌসুমি অপরাধী চক্রের তৎপরতা। ঘর থেকে বের হলেই পদে পদে বিপদ। যাত্রাপথের চারপাশে আছে প্রতারণার শতশত বেড়াজাল। চলতি পথে, মার্কেট-বাজারে অজ্ঞান পার্টি, থুথু পার্টি, ধাক্কা পার্টি, সালাম পার্টির সীমাহীন দৌরাত্ম্যে অসহায় সাধারণ মানুষ।

লোকাল বাস স্টেশনে সক্রিয় রয়েছে পকেটমার চক্রের কয়েকশ’ সদস্য। হাজারও পয়েন্টে ওঁৎ পেতে আছে চাঁদাবাজ, ঝাপটাবাজ, ছিনতাইকারী চক্র। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বাড়ি ফেরার পথটুকুতে একটু সাবধান থাকলেই এড়ানো যাবে এসব বিপদ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদকে সামনে রেখে শর্টকাটে টাকা কামানোর ধান্দায় অভিনব কৌশলে মাঠে নেমেছে মৌসুমি অপরাধীরা। মানুষকে প্রতারিত করতে নিত্যনতুন কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে এসব পেশাদার অপরাধী চক্র। গোয়েন্দারা বলছেন, ঈদ মৌসুমে মোটা অঙ্কের টাকা কামাতেই মৌসুমি অপরাধীরা মাঠে নেমেছে।

মার্কেটগুলোয় জমে উঠেছে শেষ মুহূর্তের ঈদের কেনাকাটা। অতীত রেকর্ড বলছে, ঈদের শেষ তিন দিন বাস স্টেশন, ট্রেন স্টেশন এবং লঞ্চঘাটে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। এদিকে ঈদ ঘনিয়ে আসার এ মুহূর্তে পাল্লা দিয়ে তৎপরতা বাড়াচ্ছে অপরাধ জগতের নানা ধরনের বাহারি নামের অপরাধী চক্র। বাহারি নামের অপরাধী চক্রের মধ্যে আছে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, থুথু পার্টি, ধাক্কা পার্টি, সালাম পার্টি, টিপা পার্টি, নাড়া পার্টি, পা পাড়া পার্টি, ল্যাং মারা পার্টি, ঢিল পার্টি, হাফ প্যান্ট পার্টি, টানা পার্টি, ছোঁ মারা পার্টি, ডলার পার্টি, লাগেজ পার্টি ইত্যাদি। রাজধানীতে অন্তত এমন বিচিত্র সব নামের ডজনখানেকেরও বেশি অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। রাজধানীতে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হওয়া অপরাধীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এমন নামের তালিকা পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন টিম বাহারি নামের অপরাধীদের দমনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। জানা গেছে, অপরাধীদের এসব দলে ৫ থেকে ৭ জন সদস্য থাকে। যারা দলগতভাবে টার্গেট পূরণ করে। রাজধানীতে প্রায়ই পথচারী, রিকশা বা সিএনজি আরোহীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষজন এসব বাহারি নামের অপরাধী চক্রের খপ্পরে পড়ে। মাদকাসক্ত, ছিঁচকে, টোকাই কিংবা দরিদ্র শ্রেণির অপরাধীরাই সাধারণত বাহারি নামের অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অপরাধে প্রাণহানি বা বড় ধরনের জখমের ঘটনা না ঘটায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন না। ফলে পুলিশের কাছে তথ্য থাকে তুলনামূলক কম।

ঈদকে ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অজ্ঞান পার্টি আর মলম পার্টি। প্রতিনিয়তই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে অজ্ঞান পার্টির একাধিক চক্রকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের তথ্যমতে, শুধু রাজধানীতেই এ চক্রের অসংখ্য গ্রুপ নানাভাবে সক্রিয়। বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলস্টেশনে ওঁৎ পেতে থাকা অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা সুযোগ পেলেই কৌশলে অচেতন করে লুটে নিচ্ছে নগদ টাকা ও মালামাল। অচেতন করার কাজে তারা এমন সব কেমিক্যাল ব্যবহার করছে যাতে থাকছে মৃত্যু ঝুঁকি। এছাড়া ঢাকা ফাঁকা হলে ভোরে যারা যাত্রা করবেন তাদের সাবধানে চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ।

এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি ঠেকাতে ছদ্মবেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসান হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। এর মাধ্যমে খুব সহজেই ধরা যাবে অপরাধীকে। দোকান মালিক সমিতি বলছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তারাও প্রতিটি শপিংমল ও বিপণিবিতানে বাড়িয়েছে নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা। ঢাকা ত্যাগের আগে ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

গত কয়েকদিনের হিসাবে রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন দেড় হাজারের বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় ৭০-৮০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ডেঙ্গু রাজধানীর বাইরেও ডালপালা বিস্তার করতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা বলছেন, আসলে ঈদুল আজহায় ডেঙ্গু সারা দেশেই ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। কেননা ঈদে রাজধানীর অধিকাংশ মানুষ ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের বাড়িতে যাবেন। এতে আক্রান্তদের শরীর থেকে ডেঙ্গু ছড়াতে পারে। বিষয়টি বিবেচনা করে, আক্রান্তদের ঢাকা ত্যাগ না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আর কারও মধ্যে ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই ‘ডেঙ্গুর টেস্ট’ করিয়ে ঢাকা ত্যাগ করেত বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে ডাক্তারদের পাশাপাশি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার যুগান্তরকে বলেন, সতর্ক না হলে অবশ্যই ডেঙ্গু ছড়িয়ে যাওয়ার বড় ধরনের আশঙ্কা রয়েছে। যারা ইতিমধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের অনুরোধ করা হচ্ছে, সম্ভব হলে ঢাকাতেই অবস্থান করুন। আর যদি বাড়িতে যেতেই হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং মশারি ব্যবহার করুন। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া, গাজীপুর, বরিশাল, খুলনাসহ সারা দেশেই ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। যাদের অধিকাংশই ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছেন।

তিনি বলেন, এখন এই রোগীরা যদি সতর্ক না হন, মশারির মধ্যে নিজেকে না রাখেন তাহলে অবশ্যই এ রোগটি মশার মাধ্যমে আরেকজনকে আক্রান্ত করতে পারে। তবে ঢাকার বেশকিছু হাসপাতালে মশারি সরবরাহ করা হলেও রোগীরা এর মধ্যে থাকতে চান না। যেহেতু বর্ষা মৌসুম এখনও সেভাবে শুরু হয়নি কাজেই সামনে আমাদের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

ডা. আয়েশা বলেন, ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার কামড় খেয়ে জ্বর নিয়ে কেউ গ্রামে গেলে এবং ওই আক্রান্ত ব্যক্তিকে গ্রামের মশা কামড়ালে সেই মশার মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমিত হয়ে অন্যরাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সে কারণে জ্বর নিয়ে গ্রামে ঈদ করতে যাওয়া মানে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়া।

আসন্ন ঈদুল আজহায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তদের গ্রামের বাড়িতে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। অনেক গ্রামে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক থাকে না। সে ক্ষেত্রে সুচিকিৎসার অভাবে আক্রান্ত রোগীর প্রাণহানি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তিনি বলেন, চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। এ অবস্থায় বাড়িতে না যাওয়াই ভালো। এ কারণেই আমরা আসন্ন ঈদে রাজধানীবাসী যাদের শরীরে জ্বর থাকবে তাদের গ্রামে ঈদ করতে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×