সপ্তাহজুড়ে চাপ থাকবে সড়কে

  আল ফাতাহ মামুন ২০ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চাপ

সরকারি হিসাবে তিন দিনের ঈদের ছুটি শেষ হয়েছে গেল বৃহস্পতিবার। এর সঙ্গে যুক্ত হয় দু’দিনের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ৫ দিনের ছুটি শেষে রোববার থেকে শুরু হয়েছে ঈদের পর প্রথম কর্মদিবস। স্বজন-প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ শেষে সড়কপথে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্মস্থলে ফেরার বাড়তি চাপ থাকবে চলতি সপ্তাহজুড়ে। আগামী সপ্তাহে পুরোপুরি কর্মব্যস্ত হয়ে উঠবে রাজধানী ঢাকা।

ফাল্গ–নি, হামিমসহ কয়েকটি বাস কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল ৮টার পর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের কোনো পরিবহন সায়েদাবাদ আসেনি। রোববার পিরোজপুর থেকে ছেড়ে আসা দোলা পরিবহন দুপুর ২টায় সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে এসে পৌঁছেছে। ওই গাড়িতে বাগেরহাট থেকে এসেছেন হামিদ আজাদ। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটি শেষে আজ ঢাকায় ফিরলাম। সোমবার অফিস করতে হবে। হাতে সময় নিয়ে একদিন আগেই চলে এসেছি।’

এদিকে রাজধানীর গাবতলী ও কল্যাণপুর বাস টার্মিনাল এলাকায় অল্পসংখ্যক ঢাকামুখী মানুষের আনাগোনা লক্ষ করা গেছে। বেসরকারি চাকরিজীবী যাদের শনিবার থেকে অফিস কিংবা যারা ভিড় এড়িয়ে স্বস্তিতে ঢাকা ফিরতে চেয়েছেন মূলত তারাই ফিরেছেন। এছাড়া যারা বিভিন্ন কাজে আটকে ঈদে বাড়ি যেতে পারেননি তেমন অনেককে এখনও ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে।

গাবতলীতে শ্যামলী বাস কাউন্টারে কর্মরত শিমুল সরকার জানান, অফিস-আদালত রোববার থেকে খুলেছে। তাই ঢাকায় ফেরার মূল ভিড় শুরু হয়েছে শনিবার রাত থেকে। রোববার পর্যন্ত যারা এসেছেন, রাস্তা ফাঁকা হওয়ায় নির্ধারিত সময়েই পৌঁছতে পেরেছেন। শিমুল সরকার আরও বলেন, রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক। যান চলাচল বেড়ে গেলে পরের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে ঢাকায় ফেরা স্বস্তির হবে নাকি দুর্ভোগের।

একই চিত্র দেখা গেছে মহাখালী বাস টার্মিনালেও। সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল কালাম যুগান্তরকে বলেন, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল থেকে যে বাসগুলো ছেড়ে আসছে, সেগুলোতেও যাত্রী চাপ খুব নেই। তবে ময়মনসিংহ রুটের বাসগুলোতে মোটামুটি যাত্রী আছে। ঈদে যারা গ্রামে গিয়েছিলেন, তারা ফিরতে শুরু করেছেন। তিনি জানান, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, গাজীপুরের ভোগড়া, চন্দ্রাতে ঢাকামুখী গাড়িগুলোকে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের যানজটে পড়তে হয়েছে।

তাছাড়া গাজীপুরের জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী রেলগেইট এলাকা পেরুতেও বেশ সময় লেগেছে। কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলার কর্মজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরেছেন। তবে শনিবার রাতে মোটামুটি চাপ লক্ষ করা গেছে। ঢাকা ফেরত যাত্রীদের বড় অভিযোগ হল, পরিবহন মালিক-চালক-শ্রমিকরা জোটবদ্ধ হয়ে নানা অজুহাত দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে কোথাও দ্বিগুণ আবার কোথাও তিনগুণ ভাড়া আদায় করেছে। শিবানী চক্রবর্তী টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা ফেরার অভিজ্ঞতার কথা জানান যুগান্তরকে।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারী এবং এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। কিন্তু তা বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না। শনিবার সকাল ১১টায় ঢাকা যাওয়ার জন্য নিরালা সুপার কাউন্টারে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, টিকিটের মূল্য আগের ১৬০ টাকার পরিবর্তে ঈদ উপলক্ষে ২৫০ টাকা রাখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কাউন্টারে জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, এই দামে টিকিট নিলে নেন, না হলে না নেন। পরে বাধ্য হয়েই ২৫০ টাকায় টিকিট নিয়ে ঢাকায় ফিরলাম। রাসেল শিকদার নামে টাঙ্গাইল থেকে আসা এই সরকারি কর্মজীবী বলেন, ঢাকায় আসার জন্য সোনিয়া কাউন্টার থেকে ৪শ’ টাকা দিয়ে টিকিট কিনি। অথচ ঈদের আগেও টিকিটের মূল্য ছিল আড়াইশ’ টাকা।

টাঙ্গাইল বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুর রহমান তাবিব জানান, ঈদ উপলক্ষে সারা দেশের মতো টাঙ্গাইলেও তিন থেকে চারদিন অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হবে। এর কারণ ঢাকায় যাত্রী নিয়ে যাওয়ার পর সেই গাড়ি টাঙ্গাইলে খালি আসতে হয়। সেই ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে ঢাকা থেকে ফেরত আসার জন্য গাড়ির তেল খরচটা নেয়া হচ্ছে।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে যাত্রী অধিকার আন্দোলনের সভাপতি কেফায়াত শাকিল যুগান্তরকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়, তা কিন্তু ঈদবোনাস এবং অন্যান্য বিষয় মাথায় রেখেই নির্ধারণ করা হয়। সে হিসেবে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করাটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কিন্তু এবারের ঈদযাত্রায় এতবেশি ভোগান্তি হয়েছে, সবকিছু ঠিকঠাকমতো হয়ে ওঠেনি।

আমরা আশা করব, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকার যদি আরেকটু সচেতন হয় তাহলে এখনও যারা ঢাকা ফিরছেন অন্তত তাদের ভোগান্তি কমবে। আগামীতে এ ধরনের অভিযোগ যাতে না ওঠে এ ব্যাপারে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×