চাঁদাবাজির কারণে মহাসড়কে যানজট

  মো. পলাশ প্রধান ২০ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে চাঁদাবাজি গোপন কিংবা নতুন কিছু নয়। সবই হয় প্রকাশ্যে এবং নিবন্ধিত বিভিন্ন সংগঠনের নামে।

এই চাঁদার টাকায় গোপনে পকেট ভারি হয় পুলিশ, পরিবহন মালিক শ্রমিক সংগঠনের প্রভাবশালী নেতাদের। রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাও এর ভাগ পান। পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের অনেকেই বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

বর্তমানে রাজধানীর আবদুল্লাহপুরে প্রায় সময় যানজট লেগেই থাকে। ওই সড়কটি প্রশস্ত কম হওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাস কাউন্টার অবৈধভাবে বসানো হয়েছে। জানা গেছে, স্থানীয় নেতাকর্মী ও পুলিশকে ম্যানেজ করেই অবৈধ বাস কাউন্টারগুলো বসেছে।

এসব বাস কাউন্টারগুলো মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি করে। আর যানজটের কারণে যাত্রীদের যেন ভোগান্তির শেষ নেই। আটকা পড়ে রাস্তাতেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। যেখানে যেতে সময় লাগার কথা ২০ মিনিট, সেখানে যেতে সময় লাগছে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা।

ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে জানা গেছে, রাস্তার নির্মাণ কাজ, যেখানে-সেখানে যাত্রী উঠানামা, চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালনা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল, সড়কে বিকল হওয়া গাড়ি, মালামাল লোড-আনলোড, অবৈধ ফুটপাত, ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজি। এ যানজটের কারণে স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে সব শ্রেণি পেশার মানুষকে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে।

নাম না প্রকাশ শর্তে বেশ কয়েকজন বাসচালক অভিযোগ করেন, তাদের গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স সঠিক থাকার পরও পুলিশকে টাকা না দিলে গাড়ি ছাড়ে না। মহাসড়কের পাশেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করে রাখা হয় বাস।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীর সায়দাবাদ, মহাখালী, গাবতলী থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার গাড়িগুলোর রাজধানীসহ সড়ক ও মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কাউন্টার দেয়ার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এছাড়াও স্থানীয় নেতাকর্মী, পরিবহন সংগঠনের নামে বিভিন্ন চাঁদাবাজিসহ পুলিশের হয়রানি নিয়েও পরিবহন মালিক শ্রমিকদের অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, রাজধানীর এয়ারপোর্ট, আবদুল্লাহ্পুর, টঙ্গীবাজার, স্টেশন রোড, কলেজ গেট, হোসেন মার্কেট, গাজীপুরা, বড়বাড়ি, বোর্ডবাজার, গাজীপুর বাইপাস-চৌরাস্তা, কোনাবাড়ি, চন্দ্রা, টাঙ্গাইল করটিয়া হাট বাইপাস, রামনা বাইপাস, নাটিয়া পাড়া, গোড়াই, এলেঙ্গা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, ঢাকা ছেড়ে যাওয়া ও ঢাকামুখী যাত্রীবাহী পরিবহনে স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশের দৈনিক ও মাসিক চাঁদাবাজির কারণেই সড়ক মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। তাছাড়া, স্থানীয় নেতাকর্মীদেরও চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে। তিনি আরও বলেন, পরিবহনের ড্রাইভার ও হেলপারের কারণেও অনেক সময় যানজট সৃষ্টি হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ডিবি) ও মিডিয়া মো. মনজুর রহমান এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি যুগান্তরকে জানান, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক ও মহাসড়কের মধ্যে গাজীপুর অংশে ইতিপূর্বে লিখিত এমন অভিযোগ পাইনি। তবে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। যদি ট্রাফিক পুলিশ, নেতাকর্মীরা এসব সড়ক ও মহাসড়কে চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত