সাজেকের সমস্যা অনেক: নানা সংকটে বিপর্যস্ত রাঙ্গামাটির পর্যটনশিল্প

  সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙ্গামাটি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাজেক

নানা সংকটের কারণে বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও পিছিয়ে রয়েছে, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার পর্যটন খাত। সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও বেসরকারি উদ্যোগে বেশ কিছু পর্যটন স্পট গড়ে তোলা হলেও উন্নয়নে অগ্রগতি নেই। জেলার সাজেকভ্যালি ঘিরে কিছু রিসোর্ট গড়ে উঠেছে।

এসব রিসোর্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশাল সম্ভাবনা। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারণে কাজে লাগানো যাচ্ছে না সম্ভাবনার। নিরাপত্তা সমস্যার পাশাপাশি গড়ে ওঠেনি পর্যাপ্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা। সমস্যা আছে পানি ও বিদ্যুতেরও।

বর্তমানে সাজেকে ছোট বড় মিলে প্রায় ৮০-১০০ রিসোর্ট বা কটেজ গড়ে উঠেছে। তবে এসব রিসোর্টের বেশিরভাগই অনুন্নত ও অপরিকল্পিত হওয়ায় সাজেক বস্তিতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে পর্যটনে ব্যাপক সম্ভাবনাময় সাজেকভ্যালিকে কাজে লাগালে এটি হতে পারে বাংলাদেশের দার্জিলিং। তবে এখানে প্রায় সময় দুর্বৃত্তদের কাছে আক্রান্ত হন পর্যটকরা। দুর্বৃত্তরা পুড়িয়ে দিয়েছে পর্যটকবাহী গাড়ি। অথচ এমন পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে অঞ্চলটি। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সাজেকে ঘুরতে যাচ্ছেন প্রচুর মানুষ। কিন্তু পার্বত্য এলাকায় প্রবেশে কড়াকড়ির কারণে ইচ্ছা থাকলেও পাড়ি জমাতে চান না বিদেশিরা। এখানে বিদ্যুৎ সংযোগ গেলেও সরবরাহ নেই। বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকে সাজেক। চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থাও নেই। অগ্নিকাণ্ড ঘটলে তা নির্বাপণে কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নেই।

নিরাপত্তা প্রশ্নে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল আনোয়ার বলেন, বর্তমানে সাজেকে নিরাপত্তার তেমন সমস্যা নেই। সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদার রয়েছে সেখোনে। পর্যটকরা অবাধে সাজেক ঘুরতে পারেন। বিদেশি কেউ সাজেক যেতে চাইলে সরকারি নিয়মনীতির নির্দেশনা মেনে যেতে হবে। সেভাবে বিদেশি কেউ সাজেক গেলে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়া হবে।

এদিকে রাঙ্গামাটি শহরে অবস্থিত সরকারি পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্স। সেখানে রয়েছে মনোরম ঝুলন্ত সেতু। সেতুটি প্রত্যেক বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে তলিয়ে যায়। অথচ সেতুটির উন্নয়ন নেই। জেলা সদরের বিভিন্ন স্পটে রয়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। কিন্তু পর্যাপ্ত সুবিধার অভাবে বেড়াতে এসে মনক্ষুণ্ণ হয়ে ফিরে যান পর্যটকরা। নিরাপত্তার অভাবও প্রচুর। কিছুদিন আগে জেলার বরকল উপজেলার সুবলংয়ের শিলারধাক নামক জায়গায় গড়ে তোলা একটি পর্যটন স্পটে বিনা টিকিটে প্রবেশে বাধা দেয়ায় স্পটটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর হামলা করে একদল দুর্বৃত্ত।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তির শর্তে এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের আইন অনুযায়ী সরকার স্থানীয় পর্যটন বিভাগ পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তর করলেও নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির কোনো ক্ষমতা দেয়া হয়নি। ফলে সম্ভাবনা থাকলেও এ পার্বত্য জেলায় পর্যটনের উন্নয়ন ও বিকাশে আমরা কিছুই করতে পারছি না।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশেসিং বলেন, অনেক হোটেলে পাঙ্গাশ মাছকে বোয়াল বলে বিক্রি করা হয়। পর্যটকদের নিয়ে টানাটানি করেন যানবাহনের লোকজন। স্থানীয় কিছু লোকজনের কারণে অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও বিঘ্ন ঘটে। এভাবে তো পর্যটক আসবে না। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ অঞ্চলের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, খাদ্যাভ্যাসসহ সবকিছুর বিবেচনায় রেখে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পর্যটনশিল্পের বিকাশ ও উন্নয়নে এগিয়ে আসবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×