খাগড়াছড়িতে সম্ভাবনাময় পর্যটন খাত

  সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পর্যটন খাত

বিস্তৃত সংরক্ষিত বনাঞ্চল, উপত্যকা, ঝর্ণা, নদী, পাহাড়ি ঝিরি, সর্পিল পথ, উঁচু পাহাড় আর বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ নিয়েই বৈচিত্র্যময় পার্বত্য চট্টগ্রাম। প্রায় ১৪টি জাতিগোষ্ঠীর বসবাস এখানে। এসব মানুষের জীবন, সংগ্রাম, কৃষ্টি-সংস্কৃতির বৈচিত্র্য পাহাড়ের ডানায় যুক্ত করেছে নতুন পর্যটন সম্ভাবনা।

নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও খাগড়াছড়িতে প্রতি বছর প্রচুর পর্যটক আসছে। তবে এখানে আধুনিক হোটেল-মোটেল গড়ে উঠেনি। এছাড়া পাহাড়ে দুর্গম এলাকাগুলোয় অবস্থিত প্রাকৃতিক ঝর্ণা বা ঝিরি এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি রয়েছে। ফলে সব শ্রেণির পর্যটকরা পাহাড়ে আসছে না। মূলত অ্যাডভেঞ্চার-প্রিয় তরুণ-তরুণীরা পাহাড়ে বেশি আসছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থায় অবকাঠামো গড়ে না ওঠা, কাঁচা পাহাড়ি সড়ক, পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় নিরাপত্তাহীনতা, তবে দুর্গম এলাকায় প্রাকৃতিক ঝরনায় যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত গাইড-সুবিধা না থাকার কারণে খাগড়াছড়িতে পর্যটনের বিকাশ হচ্ছে না।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন তৈদুছড়া ঝরনায় যাতায়াতের বড় বাধা গাইড-সুবিধা না থাকা। এছাড়া দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে পর্যটকরা ঝরনায় যেতে পারছে না। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলায় রয়েছে শতবর্ষী বটবৃক্ষ। তবে যাতায়াতের জন্য গ্রামীণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা। চলাচলের উপযোগী না থাকায় এ সড়কে কোনো পর্যটকবাহী যান চলাচল করে না। এ নিয়ে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ না থাকায় বছরের পর বছর ধরে ভাঙা এ সড়কে কোনো পর্যটক যাতায়াত করছে না।

শহরের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র ‘রিছাং ঝরনা’। মূল সড়ক থেকে প্রায় ৬ কিমি. গেলেই রিছাং-এর দেখা মিলে। তবে পাহাড়ি সড়ক হওয়ার কারণে প্রায় পায়ে হেঁটে পর্যটকদের যাতায়াত করতে হয়। খাগড়াছড়ি টুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ সন্তোষ ধামাই বলেন, খাগড়াছড়ি জেলা সদরের আশপাশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় আমরা নিরাপত্তা দিয়ে থাকি। এছাড়া পর্যটকদের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা চাওয়া হলে আমরা তাৎক্ষণিক সহযোগিতা দিয়ে থাকি।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, খাগড়াছড়ির প্রধান পর্যটন আকর্ষণ আলুটিলার উন্নয়নে প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর আওতায় পর্যটকদের সুবিধার্থে সিঁড়ি সংস্কার, গাড়ি পার্কিং, ওয়াচ টাওয়ার বা ভিউ পয়েন্ট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি সঙ্গে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের পরিচিতি করানোর জন্য মুক্তমঞ্চ নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া দূরবর্তী পর্যটন এলাকায় বিশেষ ঝরনাগুলোয় অ্যাডভেঞ্চার পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রশিক্ষিত গাইডের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×