কেসস্টাডি

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কেসস্টাডি

এক.

৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে ২০০৮ সালে দালালের মাধ্যমে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে লেবানন যান রংপুরের মেয়ে রিমা (আসল নাম নয়)। বাবা নেই। পাঁচ বোনের সংসারে সচ্ছলতা আনার জন্য চাকরি নিয়েছিলেন। লেখাপড়া জানেন না। নিজের নামও লিখতে পারেন না। যে

বাড়িতে কাজ করতে যান তারা স্বামী-স্ত্রী, এক ছেলে এবং এক মেয়ে। চারজনের সংসারের সব কাজই তাকে করতে হতো। ৭ হাজার টাকা বেতনের কথা বললেও প্রথম মাসেই বেতন নিয়ে মালিকের সঙ্গে তার সমস্যা হয়।

এ প্রসঙ্গে রিমা বলেন, দালাল আমাকে বলেছিল, গৃহকর্তা ভালো মানুষ। সকাল, দুপুর ও রাতে রুটি এবং ডাল খেতে দিত। ভাত দিত না। আমাকে দেশে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে দিত না। কাজ একটু মনমতো না হলে মারধর করত। গৃহকর্তা ছুরি দিয়ে আমার হাত কেটে দেয়। এখনও সেই চিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছি। লেবাননে দু’বছর কাজ করে দেশে ফিরে আসি। দ্বিতীয়বার যাই ওমানে। এখানেও নির্যাতনের শিকার হই। দু’দেশের গৃহকর্তাই আমাকে যৌনসম্পর্ক তৈরির প্রস্তাব দেয়। ওমানে ৪ বছর কাজ করি। আমার পাসপোর্ট আগেই নিয়ে গিয়েছিল। শারীরিক সম্পর্কে রাজি না হওয়ায় আমাকে মারধর করে। সেখানে কাজ করার সময় আমার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। দেশে ফেরার কথা বলতেই পরিবারের সবাই আমার ওপর অকথ্য নির্যাতন শুরু করে। নির্যাতন সহ্য করতে না পারায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসি। সারা শরীরে আমার নির্যাতনের চিহ্ন এখনও আছে। শারীরিক সম্পর্কে রাজি না হওয়ায় আমাকে পুলিশে দিয়ে দেয়। পুলিশ মালিকের কথা শুনে। পুলিশকে জানায়, আমার পাসপোর্ট নেই। পুলিশকে জানালে, পুলিশ আমার কোনো কথা শুনে না। আমাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। ৪ বছর কারাগারে ছিলাম। এরপর একজন পুলিশ আমাকে সহায়তা করেন। তিনি আমার মালিকের নাম জানতে চায়। মালিকের নাম মাসুদ বলার পরে, তিনি মালিকের কাছে আমার পাসপোর্ট চায়। আমার জিনিসপত্র ফেরত চায়। কিন্তু তারা পুলিশের চাপাচাপিতে পাসপোর্ট ফেরত দিলেও আমার সোনার কানের দুল, ১০ হাজার টাকা, জিনিসপত্র-কম্বল, জামা-কাপড়, তেল-সাবান যেগুলো কিনেছিলাম তা ফেরত দেয়নি। বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানালেও তাদের কোনো সহযোগিতা পাইনি।

দুই.

দালালের মাধ্যমে জর্ডানে মেডিকেলে আয়ার চাকরি নিয়ে যান বরিশালের নলছিটির মেয়ে রুমা (আসল নাম নয়)। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। দু’মেয়ে এক ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। দালাল তাকে এজেন্সির নাম জানায়নি। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে ৮-১০ দিনের প্রশিক্ষণ নেন।

রুমার মতে, জর্ডানে গিয়ে আমার প্রথম স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। দালাল আমাকে মেডিকেলে আয়ার চাকরির কথা বলে নিলেও সেখানে আমাকে গৃহকর্মীর চাকরি দেয়। ২০ হাজার টাকা বেতনের কথা বলে ১২ হাজার টাকা বেতন দেয়। গৃহকর্তা আমার পাসপোর্ট নিয়ে যায়। ফেরত প্লেনের টিকিট নিয়ে যায়। গৃহকর্তা-গৃহকর্ত্রীর ২ ছেলে ২ মেয়ে। ছেলেদের স্বভাব অনেক খারাপ ছিল। আমার সঙ্গে যৌনসম্পর্ক তৈরি করতে চাইত। রাজি না হওয়ায় অনেক নির্যাতন করত। ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও আমাকে দেশে ফিরতে দেয়নি। বলত, লোক না দিয়ে যেতে পারবি না। পুলিশের ভয় দেখাত। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা আমাকে দিয়ে কাজ করাত। সপ্তাহে একদিন ওদের মোবাইল দিয়ে কথা বলতে দিত। আমার ইচ্ছা হলেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে পারতাম না। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ সাফেরা এজেন্সিতে যাই। তারা আমাকে আবার ওই বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এক মাস বেশি থেকে আসতে হয়। আসার সময় আমাকে ৬ মাসের বেতন দেয়নি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×