বুয়েটে নির্যাতন-অত্যাচার নতুন কিছু নয়

  সাইফুল ইসলাম খান ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নির্যাতন

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) রাজনীতির দ্বন্দ্বে রক্তপাতের ঘটনা নতুন নয়। বিশাল অঙ্কের টেন্ডার কেন্দ্র করে ২০০২ সালের ৮ জুন বুয়েট ছাত্রদল সভাপতি মোকাম্মেল হায়াত খান মুকি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের টগর গ্রুপের গোলাগুলিতে বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সনি নিহত হন।

২০১৩ সালে বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ রায়হান দ্বীপকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিভে যায় দ্বীপের জীবন প্রদীপ। দু’দুটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর গোটা দেশ স্তব্ধ হয়েছিল।

চলতি বছরের ৬ অক্টোবর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা বুয়েটের শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। ফেনী নদীর পানি ও ভারতকে বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়ার সমালোচনা করে দেয়া এক পোস্টের জেরে আবরারকে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় গোটা দেশ ক্ষোভে ফুঁসেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী ঘোষণা আসে রাজনীতি নিষিদ্ধের।

এ প্রসঙ্গে ডাকসুর বর্তমান ভিপি নুরুল হক নুর যুগান্তরকে বলেন, ৯০ দশকের পর থেকে দলীয় দাসত্বের রাজনীতি প্রবল হয়ে ওঠে। তবে কোনো সরকারই ৫ বছরের অধিক সময়ে টানা ক্ষমতায় ছিল না। কিন্তু বর্তমানে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় ছাত্রলীগ লিমিট (মাত্রা) ছাড়িয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এসব কারণে তাদের মনে এই দানবীয় রাজনীতির বিরুদ্ধে ঘৃণা জন্মেছে। তিনি বুয়েটে ছাত্র সংসদ চালু করার দাবি জানান।

দিন দিন অপরাজনীতির পরিমাণ বেড়েছে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সায়েম খান যুগান্তরকে বলেন, ছাত্ররাজনীতির একটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আছে। সময়ের পরিক্রমায় এটি বাঁক বদলের সঙ্গে সঙ্গে চরিত্রের বদল ঘটিয়েছে। ছাত্ররাজনীতিতে বর্তমান যে দিকটির আধিপত্য সেটা রাজনীতি নয়, অপরাজনীতি। সামগ্রিক দিক থেকে অপরাজনীতির উৎসমুখগুলো বন্ধ না করে সাংগঠনিক রাজনীতি বন্ধ করাটা এ সংকটকে আরও গভীর করে তুলবে।

ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদি হাসান নোবেল বলেন, ‘বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নয় ছাত্রলীগ ও বুয়েট প্রশাসনের মিলিত স্বৈরতন্ত্র ছিল। সেখানে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করলে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে বুয়েটে প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের উত্থান ঘটবে এবং প্রশাসনের স্বৈরতন্ত্র আরও বাড়বে।

বুয়েটের শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, বুয়েট একটি টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে রাজনীতি জরুরি নয়। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটিতে (ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি) কোনো ছাত্ররাজনীতি নেই। তারা কি রাজনীতিতে কোনো অংশে পিছিয়ে? সারা দেশে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দরকার নেই। শুধু বুয়েটে রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×