ছাত্ররাজনীতিকে দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত রাখা আবশ্যকঃ অধ্যাপক বশির আহমেদ

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

উনিশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ভারতীয় উপমহাদেশে ছাত্ররাজনীতির প্রাতিষ্ঠানিক গোড়াপত্তন হয় সমাজ সংস্কারকে কেন্দ্র করে। বিপ্লবী সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলন, স্বদেশি আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্ররাজনীতি উপমহাদেশে আলোকবর্তিকা নিয়ে আবির্ভূত হয়।

বাংলার ছাত্ররাজনীতির আবির্ভাবও ঘটেছে বিপ্লবকালীন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্ররাজনীতি গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছে। তবে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির অবক্ষয় সূচিত হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কাল রাতের পর ছাত্ররাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ও প্রগতি ধারা ভুলে যায়। এ সময় ছাত্ররাজনীতিকে কলুষিত করেন তৎকালীন সরকার। জেনারেল এরশাদও একই ধারা অব্যাহত রাখেন।

নব্বইয়ের দশকে এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলন ছাত্রদের সেই হারানো ঐক্য ও শক্তি সঞ্চার করে। কিন্তু এরপর থেকে বর্তমান পর্যন্ত ছাত্র রাজনীতির সেই ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তি আর ফিরে আসেনি। নব্বই পরবর্তী সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা ক্ষমতাসীন দলগুলো তাদের ছাত্র সংগঠন নানা কাজে ব্যবহার করেছে।

ছাত্রসংগঠনগুলো ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে লেজুড়বৃত্তিতে গা ভাসায়। নব্বইয়ের দশকের পর সেই যে শুরু; এই অপসংস্কৃতি থেকে ছাত্ররাজনীতি আজো বের হতে পারেনি। ব্যর্থ হয়েছে খোলস ঝেড়ে স্বকীয়তা অর্জনে। লেজুড়বৃত্তিতা এখন মারাত্মক পর্যায়ে। যুক্তিপূর্ণ কিংবা যুক্তিহীন; দলপ্রেম কিংবা দেশপ্রেম; ভুল কিংবা সঠিক- মাতৃদল যে সিদ্ধান্তই নেয় ভালোবাসায় আশ্রিত লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররা তাকেই বাহ্বা দিচ্ছে হরদম।

আবার এর বিপক্ষে মতামত বা সমালোচনাকে তারা অপছন্দ করে। তাই যতদিন লেজুড়বৃত্তির পথ ধরে অগণতান্ত্রিকভাবে ছাত্রনেতৃত্ব আসবে ততদিন ছাত্ররাজনীতির এ দৈন্যদশা উত্তোরণ অসম্ভব।