শিক্ষাঙ্গন না রণাঙ্গন: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৭ বছরে ৪২ খুন

  মানিক রাইহান বাপ্পী, রাবি প্রতিনিধি ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে উত্তরবঙ্গ তথা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ বলা হয়। ১৯৫৩ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও উচ্চশিক্ষা বিস্তারে রেখেছে অবিস্মরণীয় অবদান।

স্বাধীনতার পরবর্তী দশক ভালোই চলছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। তবে সময়ের পরিক্রমায় ছাত্ররাজনীতির অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানিতে ক্যাম্পাসটি মাঝে মধ্যে রয়েছে উত্তপ্ত। সম্প্রতি বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যার ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে এ প্রতিষ্ঠানটি। ছাত্র সংঘর্ষের নিহতের সূত্রপাত শুরু হয় ১৯৮২ সালে। এরপর রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় ক্যাম্পাসে চলে অস্ত্রের প্রদর্শন। ফলে শিক্ষাঙ্গন রণাঙ্গনে পরিণত হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে গত ৪৭ বছরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ছাত্ররাজনীতির করাল গ্রাসে খুন হয়েছে প্রায় ৪২ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ছাত্রশিবিরের ১৬ জন, ছাত্রলীগের ৭ জন, জাসদ ছাত্রলীগের ৩, ছাত্রদলের ৩, ছাত্র মৈত্রীর ২, ছাত্র ইউনিয়নের ১ জন। সেই সারিতে রয়েছেন চার শিক্ষকও। আর বাকিরা সাধারণ শিক্ষার্থী। এসব ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তির আশা পোষণ করলেও আঁধারেই রয়ে গেছে তদন্ত প্রতিবেদন। কোনো কোনো ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও দলীয় বিবেচনায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে দোষীদের। ফলে এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনার সুষ্ঠু বিচার পায়নি নিহতের পরিবার। তবে দু’জন শিক্ষক হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়েছে।

গত দশ বছরে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খুন হয়েছেন ৬ শিক্ষার্থী ও দুই শিক্ষক।

২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল সকালে রাজশাহী নগরীর শালবাগান এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করা হয় রাবির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে। গত বছর দুই জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

তিন বছর আগে সর্বশেষ খুন হন ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর গণযোগাযোগ সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপু। সেদিন সকালে হলের ড্রেন থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ হত্যার তিন বছর হতে চললেও জানা যায়নি খুনের প্রকৃত কারণ। ২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে গুলিতে নিহত হন হল শাখা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র রুস্তম আলী। এ ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে মামলা হলেও অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারায় আদালতে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। ২০১৪ সালে ১৫ নভেম্বর বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় সন্ত্রাসীদের ধারাল অস্ত্রের কোপে নিহত হন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলন। চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল এ মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

২০১২ সালের ১৫ জুলাই ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সংগঠনের কর্মী আবদুল্লাহ আল হাসান। এ ঘটনায় ১৪ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সহ-সভাপতি আখেরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ আল হাসানকে বহিষ্কার করা হয়। পরে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। মামলাটি বিচারাধীন।

২০১০ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ছাত্রলীগ কর্মী ফারুকের লাশ শাহ মখদুম হলের পেছনে ম্যানহোল থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ছাত্রশিবিরের ৩৫ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও অনেক শিবির নেতাকর্মীসহ ১০৭ জনকে আসামি করে মতিহার থানায় মামলা করা হয়। ২০১২ সালের ৩০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। আসামির মধ্যে ৬০ জন জামিনে। গত ২৫ জুলাই এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

২০১০ সালে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে খাবারের টোকেন নিয়ে সংঘর্ষের জেরে ছাত্রলীগ কর্মী নাসরুল্লাহ নাসিমকে পিটিয়ে শোক দিবসের অনুষ্ঠানে খাবারের টোকেন নিয়ে সংঘর্ষের জেরে ছাত্রলীগ কর্মী নাসরুল্লাহ নাসিমকে পিটিয়ে শাহ মখদুম হলের দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে ফেলে দেয়া হয়। ২৩ আগস্ট তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে নাসিমের বন্ধু আজম আলী মামলা করেন। ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে তারা সবাই জামিনে। এ মামলাটিও বিচারাধীন।

২০০৯ সালের ১৩ মার্চ ছাত্রলীগ, ছাত্রশিবির ও বিনোদপুরের ব্যবসায়ীদের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান নোমানী নিহত হন। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের সে সময়কার সভাপতি ইব্রাহিম হোসেনসহ ২৭ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে আদালত সব আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×