অধিভুক্ত সাত কলেজের ছাত্রাবাস ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে

  মো. বিল্লাল হোসেন ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছাত্রাবাস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট বহু দিনের। আর এ সংকটের মধ্যেই সাত কলেজের ছাত্রাবাসগুলো ছাত্রলীগের থাবায় শিক্ষার্থীদের জীবন করেছে দুর্বিষহ।

কলেজগুলোর বেশিরভাগ ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থী উঠা থেকে শুরু করে তাদের ফেসবুকের লাইক-কমেন্ট পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করছে ছাত্রলীগ। অনেক কলেজে রয়েছে সিট বাণিজ্যের অভিযোগ। দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে অনেকের ছাত্রত্ব না থাকার পরও থাকছেন হলে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা কলেজের ছাত্রাবাসগুলোতে সিট বাণিজ্য না থাকলেও আছে ছাত্রলীগের একক আধিপত্য। হলে উঠার বিষয়গুলো বেশিরভাগ নিয়ন্ত্রণ করছেন ছাত্রলীগ নেতারা। অনেকের ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও ছাত্রাবাস ছাড়ছেন না। দলীয় সভা-সমাবেশে হলে থাকা শিক্ষার্থীদের যেতে বাধ্য করেন নেতারা। কলেজের দক্ষিণ ও উত্তর ছাত্রাবাস, আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাস, শহীদ ফরহাদ হোসেন ছাত্রাবাস, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ছাত্রাবাসে নতুন ছাত্ররা উঠার পরপরই শুরু হয় গেস্টরুম কালচাল। জানা গেছে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের ঢাকা কলেজ ইউনিটে কোন কমিটি নেই।

ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ বলেন, ছাত্রাবাসের সমস্যা নিরসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা ছাত্র-শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠনগুলো একত্রিত হয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিঠি দিয়েছে শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স শেষ হওয়ার পনের দিনের মধ্যে হল ছাড়তে হবে। আমরা একাডেমিক কাউন্সিল মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নোটিশ দেয়ার পরও যারা হল না ছাড়বে তাদের ব্যক্তিগতভাবে চিঠি দেয়া হবে। প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেব।

ইডেন মহিলা কলেজে দীর্ঘদিন ধরে সিট বাণিজ্য করে আসছেন ছাত্রলীগ নেত্রীরা। আবাসিক ছাত্রী নিবাসে সিট পেতে হলে নেত্রীদের এককালীন ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। অনেক শিক্ষার্থী প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা দিয়ে থাকছেন। বহিরাগত শিক্ষার্থীরা এবং যাদের শিক্ষাজীবন শেষ তাদের মাসিক ভাড়ার বিনিময়ে ছাত্রী নিবাসে থাকার সুযোগ করে দেন ছাত্রলীগ নেত্রীরা। ছাত্রলীগ নামধারী এসব নেত্রীর কথার অবাধ্য হলেই ছাত্রী নিবাস থেকে বের করে দেয়া হয়। হোস্টেল সুপারদের কাছে অভিযোগ দিলে ভুক্তভোগীদের পড়তে হয় নানা ঝামেলায়।

বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য হোস্টেল রয়েছে দুটি। এগুলো বেশিরভাগ নিয়ন্ত্রণ করেন ছাত্রলীগ নেত্রীরা। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ছাত্রীকে হলে উঠতে গেলে প্রতি আসনের জন্য ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মানবী সরকার বলেন, আমি আসার আগে হলে সিট বাণিজ্যের ঘটনা ঘটতে পারে; তবে সেটা আমি জানিনা। বর্তমানে এসব নেই।

সরকারি তিতুমীর কলেজে প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য আছে তিনটি ছাত্রাবাস। একটি ছাত্রদের জন্য আর দুটি ছাত্রীদের জন্য; যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। ছেলেদের ছাত্রাবাসটি পুরোপুরি ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে। হলে কে থাকবে আর কে থাকবে না সে বিষয়টি তাদের মন মতোই হয়। সরকারি তিতুমীর কলেজে অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আশরাফ হোসেন বলেন, ছাত্রাবাসগুলো নিয়ে আমরা সমস্যায় আছি। বেশি ছাত্র হল কম, তাই কোয়ালিটি মেইনটেইন করা যাচ্ছে না। প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলেও বাস্তবতার কারণে পারছি না।

সরকারি বাঙলা কলেজে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে একমাত্র ছাত্রাবাস (প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম ছাত্রাবাস) সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করছে ছাত্রলীগ। হলে উঠতে হলে কলেজ প্রশাসন নয়, তাদের মাধ্যমে উঠতে হয়। এমনকি অভিযোগ আছে, ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের অনেক নেতা খাওয়া-দাওয়া করে টাকা না দেয়ায় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে কলেজ ক্যান্টিন। অন্যদিকে কবি নজরুল সরকারি কলেজের একমাত্র ছাত্রাবাস শহীদ শামসুল আলম ছাত্রাবাসটিও ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×