কেস স্টাডি

পানি চেয়েছিল, জবাব এসেছিল- ও নাটক করে!

  যুগান্তর ডেস্ক    ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মেডিকেলে কিছুদিন ক্লাসও করেছিলেন। মা চেয়েছিল ছেলে চিকিৎসক হোক। কিন্তু ছেলের মন রক্ত আর ওষুধের গন্ধ থেকে দূরে ছিল। সে জীবনের নৌকা ঘুরিয়ে চলতে শুরু করে প্রকৌশলী হওয়ার পথে। তুখোড় মেধা থাকায় সে যাত্রায় বিঘ্ন ঘটাতে পারেনি কেউ তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রত্বকে নাকচ করে দিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। বলছিলাম বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র আবরার ফাহাদের কথা। তড়িৎ গতিতেই প্রথম বর্ষ পেরিয়ে তিনি দ্বিতীয় বর্ষের সিঁড়ি পার হচ্ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার সোচ্চার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখতেন নির্যাতিত মানুষের পক্ষে। কাশ্মীরের স্বাধীনতার জন্য তিনি লিখেছেন। স্বভাবসুলভ আচরণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক কিছু চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। ৫ অক্টোবর বিকাল ৫টা ৩২ মিনিটে দেয়া ওই পোস্টে আবরার ভারতকে মোংলা বন্দর ব্যবহার ও গ্যাস রফতানির সমালোচনা করেছিলেন। পোস্ট লেখার সময়ে তিনি কুষ্টিয়ায় ছিলেন।

পরীক্ষা আসন্ন হওয়ায় পরেরদিন ৬ অক্টোবর মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বিকালে তিনি বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে ফেরেন। রাত ৮টার দিকে দরজায় কড়া নাড়তেই আবরারকে হাজির হতে হয় দোতলার ২০১১ নম্বর কক্ষে। সেখানে ফেসবুক পোস্টের জন্য ছাত্রলীগ নেতাদের জেরার মুখে পড়েন। বিভিন্ন গণমাম্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, জেরা ও ক্রিকেট স্টাম্পের আঘাত দুটোই সমানতালে চলতে থাকে তার ওপর। নির্যাতনকারী ছাত্রলীগ নেতারা পেটানোর ফাঁকে ফাঁকে মদ পান করে। পেটানোর এক পর্যায়ে আবরার নিস্তেজ হয়ে পড়ে। মারের চোটে বমি করে দিলেও দয়া হয়নি খুনিদের। পৃথিবীর আলো ত্যাগের আগে পানি পান করতে চেয়েছিল আবরার। জবাবে খুনিরা বলেছে, ‘ও নাটক করছে’। মারের মুখে মারা গেলে আবরারের নিথর দেহটি খুনিরা প্রথমে হলের দোতলা ও নিচতলার মাঝামাঝি সিঁড়িতে নিয়ে রাখেন। পরে সিঁড়ি থেকে লাশ রাখা হয় হলের ক্যানটিনে। ভোর হলে নেয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে। পাশবিক এই হত্যায় ক্ষোভে ফুসেছিল গোটা দেশ। নৃশংসতা দেখে ছাত্র রাজনীতির প্রতি ঘৃণা জন্মে গিয়েছে শিক্ষার্থীদের। বুয়েট অবরুদ্ধ করে ক্যাম্পাস থেকেই তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে ছাত্র রাজনীতি। মামলা দায়েরের পরপরই গ্রেফতার করা হয়েছে আসামিদের, বুয়েট থেকে বহিষ্কার করে বাতিল করা হয়েছে ছাত্রত্বও।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×