কেস স্টাডি

আলোর সন্ধানে বেরিয়ে এক পৃথিবী অন্ধকার নিয়ে ফিরেছেন

  যুগান্তর ডেস্ক    ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তাসলিমা বেগম রেনু, এক ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে সে সবার ছোট ছিল। পড়ালেখা শেষে তিনি ঢাকায় আড়ং ও ব্র্যাকে চাকরি করেছিলেন। প্রাইভেটও পড়াতেন তিনি। তসলিম হোসেন নামক এক যুবকের সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন রেনু। দাম্পত্য জীবনে দুটি সন্তানেরও মা হয়েছিলেন তিনি। দুই বছর আগে পারিবারিক কলহের কারণে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর ছেলে তাসফিক আল মাহি (১১) বাবার সঙ্গে এবং মেয়ে তাসলিমা তুবা (৪) থাকত মায়ের কাছে।

মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করার বিষয়ে খোঁজ নিতে গত ২০ জুলাই সকালে রাজধানীর উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন রেনু। মেয়েকে ভর্তির জন্য ওই স্কুলে খোঁজ নেয়ার সময় কথাবার্তায় সন্দেহ হলে মুহূর্তের মধ্যে লোকজন জড়ো হয়ে তাকে ঘিরে ধরে। ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে বিদ্যালয় মাঠেই তাকে প্রকাশ্যে পাশবিকভাবে পেটাতে শুরু করে উন্মত্ত জনতা। শতবার বলেও রেনু বিশ্বাস করাতে পারেননি তিনি ছেলেধরা নন। তার বাঁচার আকুতি কেউ শোনেনি। নির্দয়ভাবে একজন মমতাময়ী মাকে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

রেনুকে পিটিয়ে হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাঁদিয়েছে কোটি মানুষকে। হৃদয় নামের এক যুবক রেনুকে সবচেয়ে নিষ্ঠুরভাবে আঘাত করেছে। যখন সে দেখছে রেনুর হাতের একটি আঙ্গুল নড়ছে, তখন ওই আঙ্গুলে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে। যখন দেখেছে পা নড়ছে, তখন লাঠি দিয়ে পায়ে আঘাত করেছে। মৃত্যু নিশ্চিত করে তারপর সে ক্ষান্ত হয়। সেদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছেলেধরার গুজবের কারণে আরও চার জন গণপিটুনিতে নিহত হন। রেনু পরিকল্পনা করেছিলেন আমেরিকা চলে যাবেন বড় ভাই আলী আজগরের কাছে। কিন্তু তিনি কি জানতেন এতটা নির্মমভাবে তাকে চলে যেতে হবে না ফেরার দেশে। বৃদ্ধা মা ছবুরা খাতুনসহ স্বজনদের মাতম আর আহাজারিতে শুধু একটাই বার্তা ছিল- মানুষ এত নিষ্ঠুর কেন? রেনুর ছোট্ট মেয়ে তাসলিমা তুবা জানে তার মা বাইরে আছে। মায়ের কথা মনে পড়তেই সে বলে ওঠে- ‘মাকে ফোন দাও, চিপস আনবে’। কিন্তু সে কি জানে- তার মা আর কখনোই তার ছোট্ট গালে চুমো খাবে না?

সগ্রন্থনা : এম এস আই খান

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×