ফেসবুকের গ্রুপে গ্রুপে গুজব

  ফয়সাল আহমাদ ২৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফেসবুক

বাংলাদেশসহ এশিয়ার প্রায় দেশেই মোবাইল ফোনে ফেসবুক অ্যাপ ব্যবহারের ফলে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে সবচেয়ে বেশি।

অশিক্ষিত, স্বশিক্ষিত, আধাশিক্ষিত, উচ্চশিক্ষিত সব ধরনের ব্যবহারকারী রয়েছে ফেসবুকে। বর্তমানে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ থেকে যেমন রক্তদাতার খোঁজসহ নানা ধরনের সামাজিক উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে ঠিক তেমনই এটিকে ব্যবহার করে প্রায়ই দেখা যায় গুজব ছড়িয়ে ফায়দা হাসিল করার চেষ্টা করছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী। আর ফেসবুকে অনেক উচ্চশিক্ষিত ব্যবহারকারীও বিজ্ঞানমনষ্ক না হওয়ায় এসব গুজবে কান দেয়।

কয়েকমাস আগেই ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে ছেলে ধরার গুজব ছড়ানো হয়। পদ্মা সেতুতে শিশুর মাথা লাগার ওই গুজব শুধু ফেসবুকেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, মানুষের মুখে মুখেও ছড়িয়ে পড়ে। সন্তানকে স্কুলে ভর্তির খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে এক মা গণপিটুনির শিকার হয়ে জীবন দেন। গুজব ছড়ানোর এ কাজটি একক ব্যক্তির চেয়ে বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে সংঘটিত হয় বেশি। যেমন কোনো এক ব্যক্তির ফেসবুকে ওয়ালে একটি পোস্ট যতটা দ্রুত না সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে তার চেয়ে শতগুণ দ্রুত পৌঁছায় যদি সেই পোস্টটি কোনো গ্রুপ থেকে প্রকাশ করে দেয়।

কিছু গ্রুপ আছে যেগুলো দেশের বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় যাদের মূল উদ্দেশ্যই থাকে গুজব ছড়ানো। সেসব গ্রুপ থেকে প্রথমে পোস্ট দেয়া হয়, পরে সেটা নিশ্চিত না হয়েই ব্যবহারকারীরা শেয়ার করেন। এসব গ্রুপে থাকে লাখের অধিক মেম্বার। কয়েকটি গ্রুপ আছে যেখানে ৮-১০ লাখ সদস্যও রয়েছে। যারা খুবই অ্যামেচার ইউজার তারা ওখান থেকে এসব শেয়ার দিচ্ছে।

হয়তো ওই বিপুল সদস্য সংখ্যার একটি গ্রুপ থেকে যে কোনো একজন মেম্বার একটি পোস্ট করার আবেদন করলে গ্রুপের অ্যাডমিন যাচাই-বাছাই না করেই পোস্টটি অ্যাপ্রুভ করে দেন। এ পোস্টটি গ্রুপের অন্যান্য সদস্য দেখে এবং তাদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয় আর এভাবেই ছড়িয়ে পড়ে গুজব। এক্ষেত্রে গ্রুপের অ্যাডমিনরা দায়িত্বশীলতার পরিচয় না দিলেই ঘটে ভয়াবহ বিপদ। যদি পোস্টটির বিভিন্ন সূচক চেক করে তারপর ‘গুজব নয়’ নিশ্চিত হয়ে দেয়া হয় তবে আর বিপত্তি থাকে না। ব্যবহারকারীদের মধ্যে অদক্ষতা এবং তথ্যের সত্যতা কিভাবে নিশ্চিত করতে হয় তা জানা না থাকায় অনেকে নিজেই গুজব ছড়ানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয় নিজের অজান্তেই।

গুজব প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে একজন সামাজিক মাধ্যম এক্টিভিস্ট বলেন, গুজব ছড়ানো পোস্ট দেখলে ডিজিটাল মার্কেটিং মেথড ব্যবহার করে একই পোস্টের কাউন্টার পোস্ট আমরা ভাইরাল করতে পারি। এতে ঘণ্টায় এক লাখ মানুষের কাছে পৌঁছান অসম্ভব কিছু না। এর মাধ্যমে একটা তাৎক্ষণিক রেজাল্ট পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, এ ধরনের গুজবের পোস্ট দেখলেই সেটা নিয়ে স্ট্যাটাস না লিখে সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করে দেয়া। অনেক মানুষ একসঙ্গে রিপোর্ট করলে স্বাভাবিকভাবে ফেসবুক একটা ব্যবস্থা নেবে। আর তৃতীয় উপায় হল- প্রি-ভাইরাল অ্যাওয়ারনেস। অর্থাৎ কোনটি গুজব আর কোন ধরনের পোস্ট শেয়ার করা যাবে না, এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা খুব জরুরি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×