নীরব প্রতিবাদে এখনও অচল বুয়েট : শিক্ষার্থীরা শর্ত পূরণের অপেক্ষায়

  সাইফুল ইসলাম খান ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বুয়েট

গত অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে শেরে বাংলা হলে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার পর ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে গোটা দেশ।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে নিষ্ঠুর নির্যাতনে নিহত হওয়ার ওই ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেছে। প্রবল প্রতিবাদের মুখে বুয়েট থেকে সাংগঠনিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আবরার হত্যার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে বুয়েট থেকে সাময়িক বহিষ্কার করার ঘোষণা আসে।

শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়া হবে এমন আশ্বাসে বিশ্বাস রেখে ছাত্র-শিক্ষকরা ১৬ অক্টোবর গণ শপথে অংশ নিয়ে আন্দোলনের সমাপ্তি টানেন। তবে আন্দোলন ‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ’। শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন- মামলার আসামিদের স্থায়ী বহিষ্কার না করা পর্যন্ত তারা কোনো একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন না। শুধু ক্যাম্পাসে স্লোগান দিয়ে সরব যে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলত সেটি বন্ধ থাকবে। নিরবে চলা এ অসহযোগ আন্দোলনের ফলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সেশনজটের। অচলাবস্থা কাটাতে সর্বশেষ ২ নভেম্বর উপাচার্য, ডিএসডব্লিউ ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিল শিক্ষার্থীরা। সেখানে দুই ধাপে তিনটি প্রস্তাব দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম অন্তরা তিথি যুগান্তরকে জানান, প্রথম ধাপে- মামলার চার্জশিটের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কার এবং তিন হলে (আহসানুল্লাহ, তিতুমীর ও সোহরাওয়ার্দী হল) র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় শাস্তি নিশ্চিত করার পর পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করলে শিক্ষার্থীরা তা মেনে নেবে। দ্বিতীয় ধাপে- পরীক্ষা তথা একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার অন্তত এক সপ্তাহ আগে ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক রাজনীতি ও র‌্যাগিংয়ের ধরন অনুযায়ী শাস্তির নীতিমালা তৈরি করে তা সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে হবে। পরীক্ষার সাত দিন আগে যদি এসব কাজ দৃশ্যমান করা না হয় তবে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেবে না।

অগ্রগতি কত দূর : ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আবরার হত্যা মামলার তদন্ত করছে। ১ নভেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম এক সপ্তাহের মধ্যে দাখিল করার কথা জানালেও তা দাখিল করা হয়নি। তবে এক মাসের মধ্যেই মামলার তদন্ত শেষ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম। তিনি জানান, চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে। মঙ্গলবার চার্জশিট জমা দেয়া হবে। বহুল আলোচিত ২৫ আসামির অধিকাংশই এখন কারাগারে রয়েছেন। অন্তত ৩০ জন এ মামলার সাক্ষী হয়েছেন।

দুই ধাপে শিক্ষার্থীদের তিন দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দফতরের পরিচালক মিজানুর রহমান যুগান্তরকে জানান, মিটিংয়ে (২ নভেম্বর ছাত্র-শিক্ষকদের) তারা আবরার হত্যা মামলার আসামিদের স্থায়ী বহিষ্কার এবং র‌্যাগিংয়ে জড়িতদের শাস্তির বিষয়ে কথা বলেছিল। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগে সাংগঠনিক রাজনীতি ও র‌্যাগিং করলে তার শাস্তির বিষয়ে যে পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছে তা উল্লেখ করেনি। তবে পরে তারা লিখিতভাবে এ বিষয়ে আমাদের জানিয়েছে। আবরার হত্যায় বুয়েটের নিজস্ব তদন্ত ও আসামিদের স্থায়ী বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি এখনও রিপোর্ট দেননি। রিপোর্ট পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। গত সপ্তাহে তারা বর্ধিত (১০ কার্যদিবস) সময় নিয়েছেন। কারণ যারা অভিযুক্ত তাদের সাক্ষাৎ নিতে পারেননি। তারা (আসামিরা) এখন আটক থাকায় আমরা অনুমতি পাইনি (সাক্ষাৎকার নেয়ার)। তদন্ত কমিটি কাজ করে যাচ্ছে, কিন্তু সব বিষয়তো আমাদের হাতে থাকে না। র‌্যাগিংয়েরটা (তদন্ত) প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ সপ্তাহে পেয়ে যাব আশা করি। পেলে আমরা অধ্যাদেশ অনুযায়ী যে সাজা সেটা দেব।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×