ভিসিরা কেন প্রশ্নবিদ্ধ

  এম এস আই খান ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভিসি

ভিসিদের প্রধান লক্ষ্য থাকে সরকারের প্রতি আনুগত্য : অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, পাবলিক

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হল উচ্চশিক্ষার জন্য আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। কিন্তু রাষ্ট্রীয় মনোযোগ এ ক্ষেত্রে দেয়া হচ্ছে না। এখানে যাদের ভিসি নিয়োগ করা হয় প্রায় ক্ষেত্রেই দেখা যায় তারা তাদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন না। তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা। এ আনুগত্য প্রমাণের জন্য তারা ছাত্রদের প্রয়োজনকে আর গুরুত্ব দেন না। সরকারের প্রতি আনুগত্য দেখালে তাদের আর কিছু না করলেও চলে।

এখন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুব ভালোভাবে বিকশিত হচ্ছে। ইংলিশ মিডিয়ামে যে ছেলেমেয়েরা পড়ে তাদের বড় অংশই এ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যায়। যারা সাধারণত একটু বিত্তবান ঘরেরই হয়ে থাকে। অন্যদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত মধ্যবিত্ত যায়। এ মধ্যবিত্তের শিক্ষার প্রতি একটা সামাজিক উদাসীনতা আছে। সমাজের যারা কর্তা, রাজনীতির যারা কর্তা তারা এ দিকটাতে দেখছে না। বুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ক্লাস হচ্ছে না, পরীক্ষা হচ্ছে না। জাহাঙ্গীরনগরে অচলাবস্থা, অন্যান্য জায়গায় ভিসিরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। এ জায়গাগুলোয় গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না।

উপাচার্য পদে যোগ্য লোককে দেয়া হচ্ছে না। প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা জবাবদিহিতা থাকা দরকার। প্রথম জবাবদিহিতা ছাত্রদের কাছে দ্বিতীয় জবাবদিহিতা শিক্ষকদের কাছে। এ জবাবদিহিতা নাই, এখন প্রশাসন যা ইচ্ছা তাই করছে। সরকার সমর্থিত যে ছাত্রসংগঠন তাদের গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখে এবং তারাই নানাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ন্ত্রণ করে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় যদি ছাত্রসংসদ নির্বাচন থাকত, তাহলে ছাত্ররা সমান অংশগ্রহণের সুযোগ পেত। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ছাত্রসংসদ দেয়া হয়েছে সেটার কোনো কার্যকারিতা নেই, কোনো কাজ করতে পারছে না। শিক্ষক সমিতির নির্বাচন হয় প্রতি বছর কিন্তু দায়িত্ব পালন করে না বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু জীবন পরিচালনা করার জন্য। তারা জবাবদিহিতার জায়গায় উৎসাহী না। তারা প্রশাসনকে সমর্থন করে এবং প্রশাসনের সমর্থক যারা তারাই নির্বাচিত হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এভাবে অকার্যকর হয়ে গেলে আমরা একটা ভয়ঙ্কর সংকটের দিকে যাব।

এখন ভিসি হতে গেলে উমেদারি করতে হয় : ড. মেসবাহ কামাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল যুগান্তরকে বলেন, তিনটি কারণে ভিসিরা অজনপ্রিয় হয়ে পড়ছেন এবং তারা সম্মান হারাচ্ছেন। প্রথমত ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ ভিসি হিসেবে আসছেন না। দ্বিতীয়ত ভিসিদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্মানজনক নয় এবং তৃতীয় হল নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসিদের জবাবদিহিতার অভাব।

ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ : ছাত্ররা স্বাভাবিকভাবে পছন্দ করে ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ। ব্যক্তিত্ব নির্ভর করে তার পাণ্ডিত্যের ওপর, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ওপর। আমাদের কি তেমন যোগ্য শিক্ষক নেই? আমাদেরকে আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব নেই? আমাদের কি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শিক্ষক নেই? আছে তো। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে এবং বাইরে সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন। তারা আত্মসম্মান বিসর্জন দিতে রাজি নন।

নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্মানজনক নয় : আমাদের এখানে যে প্রক্রিয়ায় ভিসি নিয়োগ হচ্ছে সে প্রক্রিয়াটা অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ নয়। আমাদের এখন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৪০টার মতো। এতগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কেবল চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসন আছে। বাকিগুলো সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এর বাইরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে একশরও বেশি। যে চারটিতে স্বায়ত্তশাসন আছে সেখানে সরকারই মাঝে মাঝে ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশ ভেঙে পছন্দের লোককে বসাচ্ছে। এই গেল স্বায়ত্তশাসিত চারটির অবস্থা।

বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিসি যে কি প্রক্রিয়ায় নিয়োগ হয় তার কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। এ ক্ষেত্রে আমলা, মন্ত্রী ও সরকারের চাটুকার, অনুগত ও বিশ্বস্ত বলে মনে হয় কেবল তারাই নিয়োগ পায়। এ প্রক্রিয়াটা অসম্মানজক। আসলে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হতে গেলে উমেদারি করতে হয়। জবাবদিহিতার অভাব : আরেকটা হল জবাবদিহিতা। কোনো কোনো ভিসি বেপরোয়াভাবে দুর্নীতি করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অর্থের লেনদেন ঘটনা এখন বহুল আলোচিত। এমন অস্বচ্ছতা থাকলে সম্মান থাকে কী করে?

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×